১ এপ্রিল থেকে জাতীয় সড়কে টোল নেওয়া হবে শুধুমাত্র অনলাইনে । —প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
দেশের জাতীয় সড়কগুলিতে ‘টোল’ আদায়-ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে কেন্দ্রীয় সরকার। সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রকের অধীন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই) আগামী ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে সমস্ত জাতীয় সড়ক টোল প্লাজ়ায় নগদ লেনদেন সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করার পরিকল্পনা করছেন।
ওই তারিখের পর টোল ফি কেবলমাত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে— ফাসট্যাগ বা ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই)-এর মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতায় আসার পরেই সব সরকারি ক্ষেত্রের লেনদেনে ডিজিটাল পদ্ধতি কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভারত সরকারের ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির রূপায়ণ হিসাবেই দেখা হচ্ছে পূর্ত ও জাতীয় সড়ক মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তকে।
সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, সম্পূর্ণ ‘ডিজিটাল টোলিং ইকোসিস্টেম’ গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ। ইলেকট্রনিক টোল কালেকশনে ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। বর্তমানে দেশে ৯৮ শতাংশেরও বেশি গাড়িতে ফাসট্যাগ চালু হয়েছে এবং অধিকাংশ টোল লেনদেনই রেডিয়ো ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি)-সক্ষম ফাসট্যাগের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি, জাতীয় সড়কের টোল প্লাজ়াগুলিতে ইউপিআই পেমেন্টের ব্যবস্থাও চালু হয়েছে, যাতে চালকেরা সহজে ও দ্রুত টোল মেটাতে পারেন।
জাতীয় সড়কের টোল ট্যাক্স-নিয়ম অনুযায়ী, কোনও গাড়িতে বৈধ ফাসট্যাগ না-থাকলে এবং নগদে টোল পরিশোধ করলে নির্ধারিত হারের দ্বিগুণ টাকা নেওয়া হয়। অন্য দিকে, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করলে প্রযোজ্য হারের ১.২৫ গুণ টাকা ধার্য হয়। এর ফলে নগদের উপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে। টোল প্লাজ়া স্তরের মূল্যায়নে দেখা গিয়েছে, নগদ লেনদেনের কারণে যানজট, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং প্রায়শই বিবাদের সৃষ্টি হয়। জাতীয় সড়ক মন্ত্রকের মতে, সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হলে ১,১৫০টিরও বেশি টোল প্লাজ়ায় যান চলাচল দ্রুততর হবে, দেরি কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে। প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও নিরবচ্ছিন্ন জাতীয় সড়ক পরিষেবা গড়ে তোলার বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।