Marriage Registration Rules

বাবা-মাকে না জানিয়ে করা যাবে না বিয়ের রেজিস্ট্রেশন! মোদীর রাজ্যে আসছে নতুন বিধি, যুগলদের জন্য কী নিয়ম?

গুজরাতের উপমুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রেম করে বিয়ের বিরুদ্ধে নয় সরকার। তবে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যাতে কেউ প্রতারণা করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই সংশোধনী আনতে চাইছে সরকার।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:১০
বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম বদলাতে চলেছে গুজরাতে।

বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম বদলাতে চলেছে গুজরাতে। — প্রতীকী চিত্র।

বিয়ে করার আগে এ বার জানাতে হবে বাবা-মাকে। শীঘ্রই এমন নিয়ম আনতে চলেছে গুজরাত সরকার। গুজরাতে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিধি সংশোধন করার পথে এগোচ্ছে তারা। গত শুক্রবার এই সংশোধিত বিধির খসড়া পেশ করা হয়েছে সে রাজ্যের বিধানসভায়।

Advertisement

এর আগে উত্তরাখণ্ডের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বেশ কিছু ক্ষেত্র নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। কোনও যুগলের একত্রবাসের জন্য বিয়ের মতো রেজিস্ট্রেশন করার কথা বলা হয় তাতে। সেই নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন অনেকেই। তবে পরবর্তী সময়ে সেই বিধি কার্যকর হয়েছে উত্তরাখণ্ডে। এ বার গুজরাতেও বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিধি ঘিরে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন আইনজ্ঞদের একাংশ। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বিজেপি সরকারের এই খসড়া এখনও পর্যন্ত রাজনৈতিক স্তরে তেমন সমালোচিত হয়নি। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে আম আদমি পার্টি। কংগ্রেসও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নীরবই।

‘টাইম্‌স অফ ইন্ডিয়া’ জানাচ্ছে, খসড়া বিধিতে বলা হয়েছে কোনও যুগল বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করতে চাইলে তাঁদের কিছু নিয়ম মানতে হতে পারে। তাঁদের বিয়ের কথা বাবা-মা জানেন কি না, তা লিখিত ভাবে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এর পরে অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার সেই তথ্য পাত্র এবং পাত্রী উভয়েরই বাবা-মাকে জানাবেন। সরকারি পোর্টালে সব নথি আপলোড এবং তথ্য যাচাইয়ের ৩০ দিনের মধ্যে ওই যুগলের বিয়ের রেজিস্ট্রেশন হবে।

জানা যাচ্ছে, প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনের বিষয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী হরিশ সঙ্ঘভির দাবি, “সরকার প্রেম করে বিয়ের বিরুদ্ধে নয়। তবে উভয়ের সম্মতির নামে প্রতারণাকেও বরদাস্ত করা যায় না। এর ফলে নিরপরাধ মেয়েরা ফাঁদে পড়ছেন।” বিধানসভায় পেশ হওয়া এই খসড়াকে সমর্থন জানিয়েছেন আম আদমি পার্টির বিধায়ক হেমন্ত অহিরও। প্রায় একই দাবিতে সম্প্রতি তিনিও বিধানসভায় একটি প্রাইভেট মেম্বার্‌স বিল জমা দেন। শুক্রবার সরকারের এই খসড়া বিধিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে বিধিতে কিছু পরিবর্তন আসা দরকার। পুরানো বিধিতে বেশ কিছু ফাঁকফোকর রয়ে গিয়েছে।”

তবে এই বিলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন আইনজ্ঞদের একাংশ। এই প্রস্তাবিত সংশোধনী দেশের সংবিধানের পরিপন্থী বলে অভিযোগ তুলছেন তাঁরা। বিশেষ করে সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এই বিধি, এমনটাই দাবি তাঁদের।

Advertisement
আরও পড়ুন