Himanta Biswa Sarma

‘ভোটে তো প্রভাব পড়লই’, খেরা-প্রশ্নে উদ্বিগ্ন হিমন্তও

হিমন্তের দাবি, পরবর্তী কালে তদন্তে এই সব দাবি মিথ্যা ও সব নথি ভুয়ো প্রমাণ হলেও ভোটে তো তার যা প্রভাব পড়ার, তা পড়েই যাবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:১৭
হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

হিমন্তবিশ্ব শর্মা। — ফাইল চিত্র।

ভোটের ঠিক মুখেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিণিকি ভুঁইয়া শর্মার বিরুদ্ধে তিন দেশের পাসপোর্ট থাকা, দুবাইতে সম্পত্তি ও আমেরিকার কোম্পানিতে মোটা বিনিয়োগ থাকার অভিযোগ এনেছিলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। হিমন্তের দাবি, অভিযোগ পরে মিথ্যে প্রমাণ হলেও, ভোটের একেবারে মুখেই ‘ইচ্ছে করে’ আনা ওই অভিযোগের প্রভাব ইভিএমে পড়তে পারে। এই ক্ষতির বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার মতো নিয়ম ও দায়বদ্ধতা নির্ধারণের লক্ষ্যে তিনি ব্যক্তিগত ভাবেও জনস্বার্থ মামলা করবেন বলে জানালেন হিমন্ত।রিণিকি ‘সব অভিযোগ মিথ্যে’ বলে দাবি করে ইতিমধ্যেই মামলা ঠুকেছেন খেরার বিরুদ্ধে। খেরা তেলঙ্গানা হাই কোর্ট থেকে এক সপ্তাহের অন্তর্বর্তিকালীন ট্রানজ়িট জামিন পেয়েছেন। সেই জামিনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে অসম সরকার। তার শুনানি হবে আগামিকাল।

হিমন্তের দাবি, পরবর্তী কালে তদন্তে এই সব দাবি মিথ্যা ও সব নথি ভুয়ো প্রমাণ হলেও ভোটে তো তার যা প্রভাব পড়ার, তা পড়েই যাবে। তিনি বলেন, ‘‘এই জন্যই গত ৯ এপ্রিল ভোটের ঠিক আগে এই অভিযোগগুলি সামনে আনা হয়েছিল, যাতে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত হয়। যদি পরে প্রমাণ হয় যে এই নথিগুলি ভুয়ো, তবে তার দায়িত্ব কে নেবে? তখন কি আবার নির্বাচন হবে? তা না হলে, মিথ্যা অভিযোগের যে প্রভাব নির্বাচনের ফলে পড়বে, তা তো আর ফেরানো সম্ভব নয়।” হিমন্তের বক্তব্য, এই সব কিছু নিয়েই নির্দিষ্ট নিয়ম বা আইন থাকা দরকার। তাই নির্বাচন কমিশনকে পক্ষ করে তিনি ফল প্রকাশের পরে ওই মামলা দায়ের করবেন। হিমন্তর মতে, যদি কোনও জাতীয় রাজনৈতিক দল ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করে, তা হলে সেই দলের নিবন্ধন বাতিল করা উচিত। তিনি নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী প্রচারে ডিপফেক ও ভুয়ো তথ্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট নির্দেশিকা তৈরির আহ্বান জানান।

যদিও বিরোধীদের দাবি, পরিবারের তথ্য সামনে আসাতেই হিমন্ত ‘গণতন্ত্র রক্ষায়’ অতি-সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এ দিকে তিনি সেই ‘ডিপ ফেক’-কে সম্বল করেই কন্যাসমা অজাপ প্রার্থী কুনকি চৌধুরির মায়ের সমাজমাধ্যমের একটি ছবি তুলে ধরে তাঁকে গোমাংস ভক্ষণকারী হিসেবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, কুনকির ছবি ও গলা ব্যবহার করে ডিপ ফেক ভিডিয়ো বানিয়ে প্রচার করছে বিজেপি। সে সব নিয়ে থানায় অভিযোগ হলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এ দিকে, পবন খেরার বিরুদ্ধে রিণিকি অভিযোগ করতেই রাতারাতি পুলিশ খেরার দিল্লির বাড়িতে হানা দিয়েছে, এখন সুপ্রিম কোর্টে দৌড়েছে রাজ্য সরকার। এ থেকেই হিমন্তর দ্বিচারিতা স্পষ্ট। কংগ্রেসের দাবি, আগাম পরাজয়ের ইঙ্গিত পেয়েই লজ্জা ঢাকার ঢাল খুঁজছেন হিমন্ত।

আরও পড়ুন