হিমন্তবিশ্ব শর্মা। — ফাইল চিত্র।
হিমন্তবিশ্ব শর্মাকে হারাতে গৌরব গগৈকে কংগ্রেসের সেনাপতি করা হয়েছে। কিন্তু অসমের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এখনও বিজেপির থেকে ৩ থেকে ৪ শতাংশ ভোটে পিছিয়ে রয়েছে। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষাতেই এই তথ্য উঠে এসেছে বলে খবর কংগ্রেস সূত্রের। সেই সূত্রের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দুই শিবিরের লড়াইয়ে প্রধান ফারাক হয়ে উঠছে। আবার হিমন্তবিশ্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকে অস্ত্র করেই তাঁকে হারাতে চাইছে কংগ্রেস।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ যে পাঁচটি বিধানসভা ভোট হবে, তার মধ্যে কেরল ও অসমেই কংগ্রেস ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা দেখছে। প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা অসমের নির্বাচন নিয়ে সক্রিয়। সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পরে তাঁকে প্রথম সাংগঠনিক দায়িত্ব হিসেবে অসমের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রার্থী বাছাইের সঙ্গে দলের রণকৌশল ও ইস্তাহার তৈরিতেই মাথাঘামাচ্ছেন প্রিয়ঙ্কা। প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈর পুত্র গৌরবকে ভোটের আগে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করে তাঁকেই কার্যত মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছে কংগ্রেস। তরুণ গগৈর মন্ত্রিসভাতেই একসময় হিমন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন। এখন হিমন্তের বিরুদ্ধে গৌরবকেই লড়াইয়ের ভার দেওয়া হয়েছে। গৌরব লোকসভায় কংগ্রেসের উপদলনেতা, তাঁকে বিধানসভাতেও প্রার্থী করেছে কংগ্রেস। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে কংগ্রেসের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দলের তরফে অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা অবশ্য কংগ্রেস হাইকমান্ডের চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ সেই সমীক্ষাতেই দেখা যাচ্ছে, বিজেপির থেকে ৩-৪ শতাংশ ভোটে পিছিয়ে আছে কংগ্রেস।
পাঁচ বছর আগে ২০২১-এ অসমের বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। কংগ্রেসের জোট পেয়েছিল ৪৩.৪ শতাংশ। এনডিএ সে বার পেয়েছিল ৭৫টি আসন। কংগ্রেসের জোট ৫০টি আসন পেয়েছিল। গত লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে ৩ শতাংশের কাছাকাছি ভোটের ফারাক ছিল। এ বার বিধানসভা নির্বাচনে এমন পরিস্থিতিতে দুই শিবিরের জোটসঙ্গী ও জোটের বাইরে থাকা দলগুলি কে কত ভোট পাচ্ছে, তা নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে বলে সূত্রের খবর। কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত অসম জাতীয় পরিষদ, সিপিএম ও কার্বি আংলংয়ের রাজনৈতিক দল এপিএইচএলসি-র সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে।