ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রীর সঙ্গে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত। ছবি: এক্স।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করল ভারত। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসে গেলেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী স্বয়ং। ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করে ভারত সরকারের তরফে শোকজ্ঞাপন করেছেন তিনি। শোকপত্রে স্বাক্ষরও করেছেন। সংবাদসংস্থা এএনআই বিদেশ মন্ত্রকের সূত্র উল্লেখ করে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রকাশ্যে এসেছে ছবিও।
গত শনিবার থেকে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল। তাতেই খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়। রবিবার সেই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তেহরান। তার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি ক্রমে বেড়েছে। মার্কিন-ইজ়রায়েলি হামলার প্রত্যাঘাত করতে গিয়ে একাধিক দেশের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, বাহরিন, সৌদি আরব, কুয়েত প্রভৃতি বিভিন্ন দেশে ইরানের ড্রোন আছড়ে পড়েছে। যত দিন যাচ্ছে, সংঘাত বাড়ছে। ইতিমধ্যে একাধিক রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোনে কথা বলেছেন। পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। এ বার খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ইরানের সঙ্গেও কথা বলল নয়াদিল্লি।
শান্তির বার্তা দিলেও ইরানে মার্কিন-ইজ়রায়েলি হামলার নিন্দা করে এখনও কোনও বার্তা দেয়নি ভারত সরকার। মোদী কিছু দিন আগে ইজ়রায়েলে গিয়েছিলেন। তাঁর সফর শেষের পরেই ইরানে হামলা হয়। ফলে বিরোধীরা ভারতের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছিলেন। বিভিন্ন দেশে ইরানের হামলার প্রতিবাদ জানালেও কেন সে দেশের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ভারত শোক প্রকাশ করল না, প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার মিস্রীর পদক্ষেপ সেই বিতর্কে ইতি টানবে বলে মত অনেকের।
দিল্লির ইরানি দূতাবাসে ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী। ছবি: এক্স।
আমেরিকা-ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতে একাধিক দেশ জড়িয়ে পড়েছে। লেবাননে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজ়বুল্লাকে নিশানা করে পর পর হামলা চালাচ্ছে ইজ়রায়েলের বাহিনী। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার কাছে ভারত ফেরত ইরানি জাহাজ উড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন টর্পেডো। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে যুদ্ধ থামার কোনও সম্ভাবনা নেই। ইরানে হামলা চলবে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথম থেকেই মোদী শান্তির বার্তা দিচ্ছেন। সব পক্ষকে সংযত হয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলেছেন তিনি। ইরানের দূতাবাসে গিয়ে বিদেশ সচিব মিস্রীর কথোপকথন এবং শোকপ্রকাশ ভারত সরকারের আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।