Pax Silica

আমেরিকার ‘প্যাক্স সিলিকা’য় যুক্ত হল ভারত, ঘোষণাপত্রে সই! কী কী সুবিধা পাবে নয়াদিল্লি

‘প্যাক্স সিলিকা’ জোটের মাথায় রয়েছে আমেরিকা। এ ছাড়াও রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, ইজ়রায়েল, জাপান, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রিটেন এবং সংযুক্ত আবর আমিরশাহি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৯
India joins US-led global alliance Pax Silica on AI, critical minerals, supply chain

দিল্লির এআই সম্মেলনে ‘প্যাক্স সিলিকা’ ঘোষণাপত্রে সই করল ভারত। ছিলেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। ছবি: সংগৃহীত।

ভারত এ বার আনুষ্ঠানিক ভাবে জুড়ে গেল আমেরিকা নেতৃত্বাধীন এক জোটে। সেই জোটের পোশাকি নাম ‘প্যাক্স সিলিকা’। জানুয়ারি মাসেই মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জানিয়েছিলেন, ওই জোটের সঙ্গী হওয়ার জন্য ভারতকে প্রস্তাব পাঠানো হবে। সেই প্রস্তাব চলেও আসে নয়াদিল্লির কাছে। শুক্রবার নয়াদিল্লির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক সম্মেলন (এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬)-এ ‘প্যাক্স সিলিকা’ ঘোষণাপত্রে সই করল ভারত।

Advertisement

গত বছর ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চিনা নিয়ন্ত্রণ কমাতে কৌশলগত অংশীদারদের নিয়ে ‘প্যাক্স সিলিকা’ গঠনের কথা ঘোষণা করে আমেরিকা। সিলিকন উপত্যকার সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমৃদ্ধশালী, নিরাপদ এবং উদ্ভাবনী শক্তিসম্পন্ন হিসাবে গড়ে তুলতে এই জোটের সূত্রপাত। মূলত বিরল খনিজ এবং এআই-এর সরবরাহ শৃঙ্খলকে প্রসারিত করতেই এই উদ্যোগ। শুধু তা-ই নয়, এই জোটে থাকা সদস্য দেশগুলির মধ্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর বা চিপের সরবরাহ নিশ্চিত করাও লক্ষ্য।

ভারতকে বাইরে রেখেই ‘প্যাক্স সিলিকা’ জোট শুরু করেছিল আমেরিকা। অনেকেরই দাবি, শুল্কসংঘাত এবং বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে যে টানাপড়েন চলছিল, সেই আবহে নয়াদিল্লিকে বাদ দিয়ে জোটের কথা ভেবেছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। ভারত-আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য-সমঝোতা চূড়ান্ত। চুক্তি সই এখন সময়ের অপেক্ষা। বাণিজ্য-সমঝোতার ঘোষণার পরই ভারতের উপর চাপানোর শুল্কের পরিমাণ ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই আবহেই আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ‘প্যাক্স সিলিকা’ জোটে জুড়ে গেল ভারত।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, ‘‘ভারত ‘প্যাক্স সিলিকা’র অংশ হয়েছে উঠল। এর ফলে ভারতের বৈদ্যুতিন এবং সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রের ভাল উন্নতি হবে। ভারতে ইতিমধ্যেই সেমিকন্ডার প্লান্ট তৈরি হয়েছে। খুব শীঘ্রই সেখানে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে। ‘প্যাক্স সিলিকা’ এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। উপকৃত হবে ভারতের যুবসমাজ।’’

শুক্রবার স্বাক্ষর হওয়া ঘোষণাপত্রে যেমন কাঁচামালের সরবরাহ শৃঙ্খল মজবুত করার কথা বলা হয়েছে, তেমনই উল্লেখ রয়েছে সেমিকন্ডার এবং এআই পরিকাঠামোর কথা। অর্থনৈতিক এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কী ভাবে বাড়বে, তার রূপরেখাও রয়েছে এই ঘোষণাপত্রে।

‘প্যাক্স সিলিকা’ জোটের মাথায় রয়েছে আমেরিকা। এ ছাড়াও রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, ইজ়রায়েল, জাপান, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রিটেন এবং সংযুক্ত আবর আমিরশাহি। সেই তালিকায় জুড়ে গেল ভারতের নাম।

‘প্যাক্স সিলিকা’র লক্ষ্য কী হতে চলেছে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছিল আমেরিকা। ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, এআই প্রযুক্তি হোক বা বিরল খনিজ, অনেক ক্ষেত্রে অন্য রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীলতা বেড়েই চলেছে। এর মাধ্যমে সেটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করবে ওয়াশিংটন। তা ছাড়া এই গোষ্ঠীর দেশগুলি সম্মিলিত ভাবে রূপান্তরমূলক প্রযুক্তির বিকাশ এবং ব্যবহারের দিকে নজর দেবে। জোটের আওতায় থাকা দেশগুলির মধ্যে সেগুলির পারস্পরিক সরবরাহ জোরদার করবে। আমেরিকায় নিশানায় যে চিন তা বলাই বাহুল্য। কারণ, বিরল খনিজের উপর চিনের প্রভাব যথেষ্ট। এআই জগতেও ধূমকেতুর মতো তাদের উত্থান। সেই সব বিচার করে অন্য দেশগুলির উপর চিনের প্রভাব কাটাতেই ‘প্যাক্স সিলিকা’ শুরু করে আমেরিকা।

Advertisement
আরও পড়ুন