Bengali Short Story

চায়ের দোকান

দুপুরবেলা রত্না ভাত আনে। তখন খদ্দের থাকে না প্রায়। সেই ফাঁকে মাধব রাস্তায় মিউনিসিপ্যালিটির কলে স্নান সেরে নেয়। রত্না তার ভিতরেই ঝাঁট দিয়ে, মুছে দোকানটা পরিচ্ছন্ন করে ফেলে। মাধব স্নান সেরে এলে যত্ন করে খেতে দেয়।

ঝিমলি নন্দী
শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৪:৪২

ছবি: মহেশ্বর মণ্ডল।

মাধবের চায়ের দোকানের এ পাশে রিকশা স্ট্যান্ড। ও পাশে টোটো। মাধবকে তাই খদ্দেরের জন্য ভাবতে হয় না। দুপুরে খাওয়ার সময়টা বাদ দিয়ে সকাল-সকাল ঝাঁপ খুলে রাত দশটা পর্যন্ত মাধব দু’হাতে খদ্দের সামলায়। সকাল সাতটায় পাউরুটির গাড়ি আসে। আর রত্নাও লাল কাপড় বাঁধা ঘুগনির হাঁড়িটা সাইকেলের পিছনে বসিয়ে দোকানে ঢোকে। খদ্দের বসেই থাকে। বৌদি ঢুকলেই সবাই হইহই করে ওঠে। দশ টাকা প্লেট। ধোঁয়া-ওঠা গরম ঘুগনির সুঘ্রাণে মাধবের ছোট্ট দোকানটা ম-ম করে। রিকশাওয়ালারা শুধু নয়, টোটোর ছেলেগুলোও আসে। পাড়ার লোকেও টিফিনকৌটোয় করে নিয়ে যায়। কুড়ি-পঁচিশ জন খদ্দের সামলে প্লেট-চামচ ধুয়ে, গুছিয়ে রত্না ফিরে যায়। তার পর সারা দিন লেড়ো বিস্কুট, বাপুজি কেক, চা... কখনও এক-দু’প্লেট ঘুগনি মাধব টুকটুক করে দিতেই থাকে।

দুপুরবেলা রত্না ভাত আনে। তখন খদ্দের থাকে না প্রায়। সেই ফাঁকে মাধব রাস্তায় মিউনিসিপ্যালিটির কলে স্নান সেরে নেয়। রত্না তার ভিতরেই ঝাঁট দিয়ে, মুছে দোকানটা পরিচ্ছন্ন করে ফেলে। মাধব স্নান সেরে এলে যত্ন করে খেতে দেয়। খাওয়া শেষে বাসন ধুয়ে চলে যায়। সন্ধের মুখে আবার আসে ঘুগনি নিয়ে। দিয়ে চলে যায়। রাতে দোকান বন্ধ করে মাধব ঘরে ফেরে। গত এক যুগ এই একই রোজনামচায় ওদের পৃথিবীটা ঘুরছে।

বারো বছর আগে মাধবের জীবন অন্য রকম ছিল। সেই জীবনের খুঁটি বাঁধা ছিল মুড়াপোঁতা গ্রামে। কাছেই গঙ্গা। মাঠের পর মাঠ জুড়ে ছিল পাটের চাষ। মাধব তার বাবাকে দেখেনি। বিধবা মায়ের কাছেই মানুষ। তার মা ছিল পাটশিল্পী। পাট দিয়ে ঠাকুরের চুল, পুতুল, গয়না বানাতে পারত। মায়ের তৈরি জিনিস মেলায় বিক্রি হত। পাইকার আসত, শহরে নিয়ে যেত। মায়ের কাছে গ্রামেরই দু’-চার জন মেয়ে কাজ শিখত। রত্নাও ছিল ওদের মধ্যেই এক জন। তখন থেকেই ওকে চেনে মাধব। মা রত্নার কাজের প্রশংসা করত। আর সকলের চেয়ে একটু বেশি ভালবাসত।

মাধবের লেখাপড়া বেশি দূর নয়। সে পাটখেতে কাজ করত। নিজের জমি নেই। পরের জমিতে উদয়াস্ত খাটনি। লাঙলের পরে জমিতে মাঝে মাঝেই নিড়েন দিতে হবে। গোবর, সার দিতে হবে। বীজ থেকে গাছ বেরোলে কিছু চারা ফেলে দিয়ে পাতলা করে দেওয়া হয়। ঘন ঘন গাছ হলে পাট পুষ্ট হবে না। তিন-চার ইঞ্চি ছেড়ে ছেড়ে চারা লাগানো হবে। নরম পাটশাক খাওয়া হয়। কুচো চিংড়ি কি চুনোমাছ দিয়ে রাঁধলে ওই শাক দিয়েই এক থালা ভাত খাওয়া হয়ে যাবে।

পাটের চারা বড় হলে পোকা আসে। নানা রকম পোকা, তাদের নানা মতলব, নানা অভিসন্ধি। বিছাপোকা, ঘোড়াপোকা পাতা খেয়ে নেয়। সে জন্য কেরোসিনে ভেজানো দড়ি টাঙিয়ে দেওয়া হয় গাছের উপর দিয়ে। সেই গন্ধে পোকা আসে না। সব পোকা এক চালে মাত করা যায় না। চেলেপোকা লাগলে খুব মুশকিল। ওরা কাণ্ডে গর্ত করে দেয়। আঁশ ছাড়াতে গেলে ছিঁড়ে যায়। চেলেপোকা লাগলে তাই গাছ তুলে ফেলা ছাড়া উপায় থাকে না।

গাছে ফুল আসার কিছু দিন পরে শুরু হয় পাট কাটার মরসুম। পাটখেতের কাছেই থাকে পুকুর। কাটা পাট থোকা করে বেঁধে কুড়ি-একুশ দিন জলে জাগ দেওয়া হয়, মানে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। পাট পচলে জল থেকে তুলে ডালপালা বাদ দিয়ে তন্তুগুলোর আঁশ ছাড়িয়ে নেওয়ার পালা। তার পর নদীর জলে ধুয়ে জল ঝরিয়ে বাঁশ টাঙিয়ে মেলে দেওয়া হয় শুকনো করার জন্য।

মাধব ছিল গণেশ নস্করের বাঁধা মুনিষ। মাধব না দাঁড়ালে গণেশ পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ শুরু করত না। আজও চোখের সামনে ছবির মতো ফুটে ওঠে দিনগুলো। বারো বছর যেন নিমেষে পিছিয়ে যায়। দেড় মানুষ উঁচু পাটগাছের ভিতর দিয়ে গঙ্গার বাতাস বয়ে যেত। সবুজ পাতা অবুঝের মতো হাত নেড়ে মাধবকে ডাকত। মাধব এখনও তাদের ডাক শুনতে পায়। কিন্তু ফিরতে পারে না। চেনা জীবনের গান বুকের ভিতর গুনগুন করে একটা বোবা কষ্ট জাগিয়ে তোলে। কষ্টটা পাক খায়। সেখানেই তার সর্বস্ব ছিল। আবার সেখানেই সে সর্বস্ব খুইয়ে এসেছে। জীবন কোনও বিন্দুতেই স্থির নয়।

গণেশ নস্কর পাকা চাষি। তবু এখনও পাট ছাড়ানোর মরসুমে হয়তো ভুল করে ইতিউতি চায়, যদি মাধব ফিরে আসে! মাধব দেখতে পায়, নদীর ধারে লাইন দিয়ে সব বসেছে পাট ছাড়াতে। আলাদা হয়ে যাচ্ছে সোনালি আঁশ আর সাদা পাটকাঠি। হয়তো গণেশ মুনিষদের হেঁকে বলে, “হাত চালিয়ে কাজ কর সব! সে ছিল আমাদের মাধব! এক মানুষে দুই মানুষের কাজ তুলে দিত।” মাধবের লোহার কড়ায় গরম দুধ উথলে ওঠে। ছাপিয়ে যেতে চায়। মাধব জোরে জোরে হাতা ঘোরায়। অশান্ত দুধকে শান্ত করে। দুধ চুইয়ে গেলে চায়েও গন্ধ হবে। সে ফুলে-ফেঁপে ওঠা দুধের দিকে তাকিয়ে আপন মনে বলে, “কত তাপ সয়ে নিতে হয় বেঁচে থাকতে গেলে। শুধু বেঁচে থাকতে গেলে...”

জমিতে নিড়েন দিতে গিয়ে রত্নাকে দেখতে পেয়েছিল মাধব। গোঙাচ্ছে। গায়ে কাপড় ছিল না। রক্তে ভেসে যাচ্ছে শরীর। জানোয়ারগুলো পালিয়েছে তত ক্ষণে। মাধব তাড়াতাড়ি গামছাটা জড়িয়ে দিয়েছিল ওর গায়ে। তার পর বয়ে নিয়ে গিয়ে একেবারে মায়ের কাছে এনে ফেলেছিল। হাহাকার করে উঠেছিল মা। গ্রামের হাসপাতাল ভর্তি নেয়নি। সদরে যেতে হয়েছিল। পুলিশ এসেছিল। কেসটা চাপা দিতে টাকা নিয়ে এসেছিল নিরঞ্জন সাউ। নিরঞ্জন ধনী ব্যবসায়ী। দুটো চালু কাপড়ের দোকান। একটা গ্রামে, একটা শহরে। ওর ছেলের মোটরসাইকেলের শোরুম। ছুটকোছাটকা আরও ব্যবসা আছে। নিরঞ্জনের ছেলেটার নাম বলতে পেরেছিল রত্না। অনেক টাকা কবুল করেছিল নিরঞ্জন। একটাই ছেলে ওর। বিয়েও দেবে বলেছিল রত্নার সঙ্গে। লোভ সামলাতে পারেনি রত্নার দাদা হাবুল। বিয়ে হলে খারাপই বা কি? বরং সবচেয়ে সম্মানজনক প্রস্তাব। হয়ে গেলে বোনটাও তো বেঁচে যাবে! কলঙ্ক চাপা পড়ে যাবে। বিয়ের আগে কত ছেলের স্বভাব এ দিক-ও দিক থাকে। বিয়ের পরে কে খোঁজ নেয়! রত্না সুখে থাকবে। টাকার মুখ দেখবে। টাকাও কি কিছু কম ওষুধ? সাক্ষাৎ বিষহরী! আর বিয়ের পরে যদি ওরা রত্নাকে বসিয়ে দিয়ে যায়, সেও এর থেকে অনেক ভাল। তখন কি হাবুল ছাড়বে? বোনকে দিয়ে মামলা লড়িয়ে মোটা খোরপোশ আদায় করে নেবে।

কিন্তু হাবুলের স্বপ্নে বাদ সাধল রত্না। রাজি হল না বিয়েতে। আর তার হাত ধরে রইল মাধবের মা। কঠিন জেদ! মাধব ভেবেই পায় না ছোট্টখাট্টো শরীরে মা এত শক্তি ধরে কী করে! জোয়ান পুরুষ হয়ে তার এত ধক নেই। রত্নাকে হাবুল আর তার বৌ ঘরে ঢুকতে দিল না। মা হাসপাতাল থেকে নিজের কাছে এনে তুলল। ওই অবস্থায় মা মাধবের সঙ্গে রত্নার বিয়ে দিয়ে দিল। রেজিস্ট্রি ম্যারেজ। গ্রামের লোক কাগজের বিয়েকে বিয়ে মনে করে না। তারা জানে বিয়ে হয় মন্ত্র পড়ে। রেজিস্ট্রি হল সই। ও দিকে কন্যাযাত্রী তো ছিলই না। সুতরাং মাধবের বিয়েতে জনা দশেকের বেশি লোক হল না। নানা অজুহাতে নিরঞ্জন সাউয়ের উকিল পুলিশের চোখরাঙানি অগ্রাহ্য করে মামলার তারিখ পিছোতে লাগল।

এই সময় মাধবের মা এক দিন উকিলের কাছ থেকে ফেরার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মারা গেলেন। হাওয়ায় ফিসফাস হল, নিরঞ্জনের ছেলেই নাকি ভাড়াটে গুন্ডা লাগিয়েছিল। আতঙ্কে অসম লড়াইটা আর লড়তে পারল না মাধব। গণেশ নস্করই বুদ্ধি দিলে, জলে থেকে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে পারা যাবে না। মাধব ভিটেমাটি বেচে রত্নাকে নিয়ে শহরে চলে এল। তার পর অনেক কষ্টেসৃষ্টে এই দোকান।

দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কেবল দু’টি ডাল-ভাতে ক্ষুন্নিবৃত্তি ছাড়া তাদের সংসারে আর কোনও কথা ছিল না। মায়ের কথাও তুলত না ওরা। কেবল দিন গুজরান! বাঁচবার জন্যই কোনও মতে বেঁচে থাকা। যেন ওদের অতীত নেই। ভবিষ্যৎ নেই। কেবল ক্ষুধা-ভরা একটা জ্বলন্ত বর্তমান। সেই ভীষণ তপ্ত চুলায় কাঠকয়লার মতো ওরা অহর্নিশ পাশাপাশি পুড়তে লাগল। সে সময় পেটেরটা খসিয়ে এসেছিল রত্না। ডাক্তার বলেছিল, রত্না আর মা হতে পারবে না কোনও দিন।

জীবন বড় বিচিত্র! নিষ্পত্র বৃক্ষেও ফুল ধরে। তাপ মরে এল ধীরে ধীরে। নিভন্ত আঁচে ওরা পরস্পর বেঁচে রইল কেবল দোকানটাকে আঁকড়ে ধরে। রিকশাওয়ালা, টোটোওয়ালা, পাঁচমিশালি খদ্দের। এক-এক রকমের মানুষের জীবনে এক-এক রকম বঞ্চনার ইতিহাস। গরম ঘুগনি, লেড়ো বিস্কুটের কড়মড়, চায়ের ভাঁড় থেকে ওঠা সর্পিল ধোঁয়ায় মিলেমিশে শোকের এক আশ্চর্য সিম্ফনি।

শিউপ্ৰসাদের মঝলি বিটি দুটো ছেলেমেয়ে নিয়ে জগন্নাথঘাটের কাছে বস্তিতে থাকত। দামাদ আর একটা বিয়ে করে আনল এক দিন। তাতেও শিউপ্রসাদের নেই-আঁকড়া মেয়েটা ঘর ছেড়ে বেরোয় না দেখে দামাদ বেধড়ক পিটতে লাগল। নতুন বৌ-এর দিমাগ খোলতাই। সে শেষে গায়ে গরম পানি ঢেলে বাচ্চাসমেত সতিনকে কুকুরের মতো রাস্তায় বার করে দিল। সারা গায়ে ফোস্কা নিয়ে মেয়েটা বাপের কাছে ফিরে এসেছে।

অবনীর একুশ বছরের সমকামী ছেলেটা পাড়ার লোকের জ্বালাতনে গলায় দড়ি দিয়েছে।

ইকবালের বিবির পেটে পাথর হয়েছিল। হাসপাতালে কেটে বার করল। ভাল ছিল। মলম লাগাল ডাক্তার। মলমে কী ছিল কে জানে, ডবকা বৌটা সেলাই পেকে সেপটিক হয়ে মরেই গেল।

শ্যামের বোন বিএ পাস করে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করতে গিয়ে নারীপাচার চক্রে ফেঁসে গেছে। ছ’মাস হল নিরুদ্দেশ। কোম্পানি নেই। মালিক বেপাত্তা।

অভি টোটো নিয়ে এসেছে মাত্র মাসখানেক। সরকারি চাকরির প্যানেলে নাম ছিল। ধর্নামঞ্চে দিনের পর দিন বসে থাকত অভি। শেষে জানা গেল, চাকরি নাকি বিক্রি হয়ে গেছে। টোটোটা না পাওয়া গেলে উপোস করে মরতে হত।

সাগ্নিক ছিল সামনের বাড়ির ছেলে। হাফপ্যান্ট পরার বয়স থেকে ঘুগনি কিনতে আসত। স্কুলে ফার্স্ট বয়। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়ে র‌্যাগিং-এ খুন হল। কিনারা হল না।

তার পর এল সেই রাত! সেই রাতে ঢেউ লাগল মাধবের দোকানেও। চায়ের দোকান বহু বিপ্লবেব ঘাঁটি! ঠিক দশটায় ওরা বেরিয়ে এল একে একে। আগুনের গোলার মতো জ্বলছিল ওদের চোখ! নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারল না মাধব— মিছিলের পুরোভাগে রত্না।

হুঙ্কার দিল, “উই ওয়ান্ট...” মাধব, ইকবাল, অবনী, শিউপ্ৰসাদ, শ্যাম, অভি সকলে সমস্বরে চিৎকার করে উঠল, “জাস্টিস!” ওদের সঙ্গে গলা মেলালেন সাগ্নিকের বাবাও।

গলার শির ফুলে উঠছিল রুদ্ধ বেদনায়। অন্ধকার কেঁপে কেঁপে দূরে সরে যাচ্ছিল মশালের আলোয়। মাধব দেখল, যত দূর দেখা যায় কেবল মানুষ! শত শত! হাজার হাজার। কাতারে কাতারে! মহিলা, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ। ঘর ছেড়ে পথে একজোট। এরা কেউ ইকবাল, কেউ ইকবালের বিবি। কেউ শিউপ্ৰসাদের মঝলি বিটি, কেউ শিউপ্ৰসাদ। কেউ অবনী, কেউ অবনীর ছেলে। কেউ শ্যাম, কেউ শ্যামের নিরুদ্দিষ্ট বোন। কেউ অভি। কেউ সাগ্নিক! কেউ তার বাবা! কেউ মাধব, কেউ রত্না, কেউ মাধবের মা!

মাধবের চোখ জলে ভরে এল। রত্নাকে কি সে একা ছেড়ে দিতে পারে!

মিছিলে পা মিলিয়ে মাধব স্পষ্ট বুঝল, বারো বছর আগে যে অসমাপ্ত লড়াইটা ফেলে সে চলে এসেছিল, সেই দ্রোহের আগুন আজও নেভেনি। দ্রোহের আগুন নেভে না। মশাল শুধু অপেক্ষায় জ্বলে, কবে তাকে হাতে তুলে নেবে দ্রোহী। কবে তার মনের আগুন আর হাতের আগুন মিলেমিশে যাবে! জ্বলতে জ্বলতে প্রত্যেকে এক একটা জ্বলন্ত মশাল হয়ে উঠবে!

যে অন্ধকার বড় হতে হতে রাহুর মতো ভয়ঙ্কর হাঁ করে মাধবদের চাঁদ, সূর্য, সৌরলোক গিলে ফেলছিল, সে আসলে একটা কর্তিত মুণ্ড মাত্র। রাহু গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু ধারণ করতে পারে না। সুতরাং এক দিন ভোর আসবেই— এই প্রত্যয় বুকে নিয়ে দৃপ্ত পায়ে হেঁটে চলল মাধবরা।

আরও পড়ুন