Protest

জনসংযোগে গিয়ে ক্ষোভের মুখে বিজেপি বিধায়ক

দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালে বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ প্রায় ১৫ হাজার ভোটে তৃণমূলকে হারিয়ে বিধায়ক হন। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রায় ১১ হাজার ভোটে এগিয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:১৩

—প্রতীকী চিত্র।

জনসংযোগে বেরিয়ে এলাকাবাসীর একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়লেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। শনিবার তাঁর কেন্দ্রের অন্তর্গত ফরিদপুরে গেলে কিছু বাসিন্দা প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় সড়কে আন্ডারপাস নির্মাণ হয়নি কেন? তাঁরা জানিয়ে দেন, দাবি না মেটা পর্যন্ত তাঁকে সমর্থন করবেন না। এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর।

দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালে বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ প্রায় ১৫ হাজার ভোটে তৃণমূলকে হারিয়ে বিধায়ক হন। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রায় ১১ হাজার ভোটে এগিয়েছিল। বিধানসভা ভোটের তুলনায় ব্যবধান কমায়, এই কেন্দ্র নিয়ে চিন্তায় বিজেপি নেতৃত্ব।

এ দিন দলের মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল-সহ কয়েক জন নেতা-কর্মীকে নিয়ে ফরিদপুরে জনসংযোগে যান বিধায়ক লক্ষ্মণ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা প্রচার করছিলেন তাঁরা। ওই সময়ে এলাকার কয়েক জন তাঁকে ঘিরে ধরে দাবি করেন, ফরিদপুরের কাছে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে কোনও আন্ডারপাস নেই। ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পেরোতে গিয়ে অনেকে বিপদে পড়েন।

এলাকার বাসিন্দা স্বপনকুমার ঘোষ বিধায়ককে বলেন, ‘‘আগে আন্ডারপাস নির্মাণের বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করুন। তার পরে বাকি সব শুনব।’’ ওই সময়ে এক বিজেপি কর্মী সমস্যা সমাধানের জন্য এলাকাবাসীকে লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দিতে গেলে, পরিস্থিতি তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েক জন সেই বিজেপি কর্মীকে বলেন, ‘‘আপনি এত দিন কেন সংশ্লিষ্ট জায়গায় বিষয়টি জানাননি?’’ লক্ষ্মণ পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়ে বেরিয়ে আসেন।

তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় বলেন, “নির্বাচনের পরে আর বিজেপি বিধায়ক এলাকায় যাননি। দায়ে-বিপদে আমরাই মানুষের পাশে থাকি।” তিনি দাবি করেন, জাতীয় সড়ক কেন্দ্রের অধীনে। এলাকার বিজেপি বিধায়ক কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে ফরিদপুরের দীর্ঘদিনের সমস্যা মেটাতে পারতেন। উত্তমের দাবি, ‘‘নির্বাচন আসছে। তাই বিজেপি বিধায়ক ঘর থেকে বেরিয়েছেন। মানুষের ক্ষোভ থাকাই স্বাভাবিক।” লক্ষ্মণের পাল্টা দাবি, ‘‘তৃণমূল চোখে ঠুলি দিয়ে বসে থাকলে কী ভাবে আমার কাজ দেখতে পাবে? এলাকাবাসী জানেন, বছরভর যে কোনও প্রয়োজনে আমি মানুষের পাশে থাকি।’’ তবে আন্ডারপাসের দাবি প্রসঙ্গে তিনি কিছু বলতে চাননি।

আরও পড়ুন