লালবাজার। —ফাইল চিত্র।
বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণার আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকার স্পর্শকাতর অংশ খুঁজে বার করে তা রিপোর্ট আকারে পাঠাতে বলা হয়েছে থানাগুলিকে। আজ, রবিবারের মধ্যে সেই রিপোর্ট পাঠাতে হবে। গোলমাল ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বা তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে, তা-ও ওই রিপোর্টে থানাগুলিকে জানাতে বলা হয়েছে। এলাকার দাগি দুষ্কৃতীদেরনামের তালিকা তৈরি করতেও বলা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের দিন ঘোষণা না হলেও গত দু’মাস ধরে লালবাজারের নির্বাচনী সেলপুলিশের থেকে বিভিন্ন তথ্য জানা শুরু করেছে। এমনকি, প্রতি সপ্তাহে নিজেদের এলাকার আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত বিষয়ে রিপোর্ট পাঠাতে হয় থানাগুলিকে। পাশাপাশি, গত কয়েকটি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরে কী কী গোলমাল সংশ্লিষ্ট থানা এলাকায় ঘটেছে, অথবা বৈধ অস্ত্র জমা করার কাজ কতটা এগিয়েছে, তা-ও জানাতে হবে। উল্লেখ্য, ভোটের আগে পুলিশের তরফে বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়া হয়।
এ দিকে, নতুন মাসের গোড়ায় দুই দফায় রাজ্যে আসবে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রথম দফায় ১ মার্চের মধ্যে ১১০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ৫৫ কোম্পানি বিএসএফ, ২৭ কোম্পানি আইটিবিপি, ২৭ কোম্পানি এসএসবি এবং ২১ কোম্পানি সিআইএসএফ, অর্থাৎ, মোট ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীরআসার কথা রয়েছে রাজ্যে। দ্বিতীয় দফায় ১০ মার্চের মধ্যে আরও ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছনোর কথা।
তার মধ্যে কোন জেলায় কত কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তা ঠিক না হলেও মনে করা হচ্ছে, কলকাতা পুলিশ এলাকার দশটি ডিভিশনে দুই থেকে তিনটি করে কোম্পানি মোতায়েন করা হতেপারে। কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে তারা কোথায় থাকবে, তার ব্যবস্থাও করছেপুলিশ। কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে তাদের দিয়ে প্রথম কোথায় কোথায় রুট মার্চ করানো হবে, তা ঠিক করতে থানাগুলির কাছে প্রস্তাবিতমানচিত্র চাওয়া হয়েছে। যা ওই বাহিনী এলে চূড়ান্ত করা হবে। পুলিশের একাংশের দাবি, এই মুহূর্তে স্কুল-কলেজে পরীক্ষা চলছে। ফলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কোথায় রাখা হবে, তা চূড়ান্ত হয়নি।