BrahMos Missile

৪৫০ থেকে বেড়ে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা হবে ৮০০ কিলোমিটার! রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে সায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের

রুশ সেনা ইতিমধ্যেই বাড়তি পাল্লার নতুন হাইপারসনিক ‘ব্রহ্মস মার্ক-২’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করেছে। মস্কোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তা তৈরি করতে চায় নয়াদিল্লিও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ১৭:০১
Indian Army to order 800 km plus strike range BrahMos cruise missiles after Success in Operation Sindoor

ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র। —ফাইল চিত্র।

ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী এ বার হাতে পেতে চলেছে দ্বিগুণ পাল্লার ব্রহ্মস। সেই সঙ্গে ভারত-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ‘সুপারসনিক’ (শব্দের চেয়ে বেশি গতিবেগ সম্পন্ন) ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র এ বার হাইপারসনিক (শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ বার তারও বেশি দ্রুতগতির) স্তরে উন্নীত হতে চলেছে। সম্প্রতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ব্রহ্মসের উৎকর্যবৃদ্ধির লক্ষ্যে মস্কোর সঙ্গে নতুন চুক্তি করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি। ‘দ্য ইকনমিক টাইমস’ জানাচ্ছে, শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হতে পারে।

Advertisement

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক সঙ্ঘাতের প্রেক্ষিতে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা আবার প্রমাণিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি শাখাকে (স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনা) জন্য বাড়তি পাল্লা ও গতিবেগ সম্পন্ন ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। রুশ সেনা ইতিমধ্যেই নতুন হাইপারসনিক ‘ব্রহ্মস মার্ক-২’ ব্যবহার শুরু করেছে। মস্কোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তা তৈরি করতে চায় নয়াদিল্লিও। প্রাথমিক ভাবে ভারতীয় স্থলসেনার হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে ব্রহ্মসের নতুন সংস্করণটি।

নতুন পরিকল্পনা কার্যকর হলে শুধু লাহৌর, ইসলামাবাদ কিংবা রাওয়ালপিন্ডি নয়, এ বার চিনের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকাঠামোয় আঘাত হানতে পারবে ব্রহ্মস। গত বছর অপারেশন সিঁদুর’-এ ব্রহ্মসের সাফল্যের পর ওই ক্ষেপাণস্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পাঁচ দফা কর্মসূচির প্রস্তাব দিয়েছিলেন স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। স্থলভূমি বা যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্রহ্মসের পাল্লা প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। বিমান বা ডুবোজাহাজে ব্যবহৃত সংস্করণের কিছুটা কম। নতুন পাঁচ দফা পরিকল্পনায় ব্রহ্মসের পাল্লা এবং গতিবেগ দু’টিই বাড়ানো হচ্ছে। নয়া সংস্করণে স্থলভূমি বা যুদ্ধজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্রহ্মসের পাল্লা হবে ৮০০ কিলোমিটার।

প্রসঙ্গত, উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্রহ্মপু্ত্র এবং রাশিয়ার মস্কোভা নদীর নাম মিলিয়ে ‘ব্রহ্মস’ শব্দটি তৈরি করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎপাদনকারী সংস্থা ‘ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস লিমিটেড’ হল ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (‘ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজ়েশন’ বা ডিআরডিও) এবং রুশ প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ‘এনপিও মাশিনোস্ট্রোয়েনিয়া’-র যৌথ উদ্যোগ। বর্তমানে ভারত যে ‘ব্রহ্মস’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, তার চারটি শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। স্থলভূমিতে স্থায়ী বা ভ্রাম্যমাণ (সাধারণ ভাবে সামরিক ট্রাক) উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ, সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান এবং ডুবোজাহাজ থেকে একে ছোড়া যায়। প্রথাগত বিস্ফোরকের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রটি পরমাণু হাতিয়ার বহনেও সমান ভাবে সক্ষম। ‘সুপারসনিক’ সংস্করণটির গতিবেগ শব্দের প্রায় তিনগুণ (সামরিক পরিভাষায় ‘ম্যাক-৩’)।

Advertisement
আরও পড়ুন