Fuel Price

তেলে সুরাহা এখনই নয়

তেলমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী জবাব দিয়েছেন, তেলের দাম তো বিশেষ বাড়েইনি। তা হলে দাম কমানোর প্রশ্ন আসছে কোথায়?

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ০৭:৫১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এখনই পেট্রল-ডিজ়েলের দাম কমানোর সম্ভাবনা নেই। তার জন্য আরও অন্তত দু’-তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে। তার পরেই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে মোদী সরকারের তেলমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরীজানিয়ে দিলেন।

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জ্বালানির জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাপিয়ে গিয়েছিল। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যা ৬০ থেকে ৭০ ডলারের মধ্যে ছিল। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের পরে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি চার দফায় পেট্রল-ডিজ়েলের দাম লিটার প্রতি ৭.৫০ টাকা বাড়িয়েছিল।

এখন আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধবিরতি হওয়ায় জ্বালানির জোগান স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম নেমেছে ৭০ ডলারের ঘরে। প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি পেট্রল-ডিজ়েলের দাম কমবে?

তেলমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী জবাব দিয়েছেন, তেলের দাম তো বিশেষ বাড়েইনি। তা হলে দাম কমানোর প্রশ্ন আসছে কোথায়? তাঁর যুক্তি, গত চার বছরে পেট্রলের দাম দিল্লিতে ৯৬.৭২ টাকা প্রতি লিটার থেকে বেড়ে ১০২.১২ টাকা হয়েছে। মাত্র ৫.৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি। ডিজ়েলের দাম চার বছরে মাত্র ৬.২৩ শতাংশ বেড়েছে।

যুদ্ধের জেরে যে দাম বেড়েছিল, তা কমানো হবে কি না, সেই প্রশ্নে হরদীপের জবাব, তেল সংস্থাগুলি এখন যে অশোধিত তেল থেকে পেট্রল, ডিজ়েল তৈরি করছে, তা দুই থেকে আড়াই মাস আগে কেনা। সে সময়ে চড়া দামে তেল কেনা হয়েছিল। জাহাজের খরচ, বিমার খরচও বেশি ছিল। এখন অশোধিত তেল সস্তায় মিললেও তা দু’-তিন মাস পরে ব্যবহার হবে। সেই সময়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে হবে। সেই অনুযায়ী তেলের দাম নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। বেসরকারি সংস্থা নায়ারা এনার্জি ইতিমধ্যেই পেট্রল, ডিজ়েলের দাম কমিয়েছে। তেলমন্ত্রীর ব্যাখ্যা, ওই সংস্থা আগেই দাম বাড়িয়েছিল। তাই এখন কমিয়েছে।

কংগ্রেসের প্রশ্ন, আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম কমানো হলেও পেট্রল, ডিজ়েল, রান্নার গ্যাসের দাম কমানো হচ্ছে না কেন? কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনতের অভিযোগ, ‘‘বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ৩৩০০ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। এক বার এক ধাক্কাতেই ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৯৯০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। সেখান থেকে মাত্র ১৮৩ টাকা দাম কমানো হয়েছে। তাতেই মোদী-ভক্তরা উল্লসিত। গৃহস্থেররান্নার গ্যাসের দাম এক পয়সাও কমানো হয়নি।’’

তেলমন্ত্রীর যুক্তি, এখন গৃহস্থের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯৪২ টাকা। কিন্তু তার উৎপাদন খরচ ১৬০০ টাকা। বাজারদরের তুলনায় কম দামে পেট্রল, ডিজ়েল, এলপিজি বেচার জন্য এপ্রিল থেকে জুন, অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থায় প্রায় ১.৮৮ লক্ষ কোটি টাকা কম আয় হয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ২.১ লক্ষ কোটি টাকা কম আয় হয়েছে। এর ফলে অর্থ বছরের প্রথম তিন মাস, এপ্রিল থেকে জুনে তেল সংস্থাগুলির প্রায় ৭৪ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। মোদী সরকারও উৎপাদন শুল্ক কমিয়ে নিজের ঘাড়ে বোঝা নিয়েছে।

তবে তেলমন্ত্রী মেনে নিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থেকে সরকার দেশে জরুরি প্রয়োজনের জন্য তেলের ভান্ডার বাড়ানোর শিক্ষা নিয়েছে।

আরও পড়ুন