UP Engineer

‘চলো তোমার জন্য একটা চমক আছে’! বোনকে কুপিয়ে খুনের পর মাকে এনে দেখালেন ইঞ্জনিয়ার পুত্র, কোপালেন তাঁকেও

পরিবার সূত্রে খবর, গত কয়েক মাস ধরেই হার্দিকের আচরণ অস্বাভাবিক ভাবে বদলে যায়। অনেক রাতে বাড়িতে ঢুকতেন। অনলাইনে কথোপকথনে ব্যস্ত থাকতেন। কারও সঙ্গে খুব একটা কথাও বলতেন না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ১৮:১৯
মা নীলিমা (বাঁ দিকে) এবং বোন হিমাংশিকার (মাঝে) সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার হার্দিক। ছবি: সংগৃহীত।

মা নীলিমা (বাঁ দিকে) এবং বোন হিমাংশিকার (মাঝে) সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার হার্দিক। ছবি: সংগৃহীত।

মাকে বলেছিলেন, ‘‘চলো তোমার জন্য একটা চমক অপেক্ষা করছে।’’ বাড়ি থেকে মাকে গাড়িতে করে গুরুগ্রামের ভাড়াবাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন ইঞ্জিনিয়ার যুবক। বাড়িতে ঢুকেই আঁতকে উঠেছিলেন মহিলা। দেখেন, তাঁর কন্যা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। তখন ইঞ্জিনিয়ার তাঁর বোনকে দেখিয়ে মাকে বলেন, ‘‘তোমার জন্য এটাই চমক।’’ মহিলা চিৎকার করে উঠতেই তাঁকেও ছুরি দিয়ে কোপানো হয় বলে অভিযোগ।

Advertisement

ভয়ঙ্কর এই ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার গুরুগ্রামে। অভিযুক্তের নাম হার্দিক। তিনি উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদের বাসিন্দা। তবে কর্মসূত্রে গুরুগ্রামে থাকতেন। তাঁর বোন হিমাংশিকাও গুরুগ্রামে চাকরি করতেন। ফলে দাদার সঙ্গেই একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি চাকরি ছেড়ে দেন হার্দিক। বেশির ভাগ সময় ব্যয় করতেন সমাজমাধ্যমে। পরিবার সূত্রে খবর, গত কয়েক মাস ধরেই হার্দিকের আচরণ অস্বাভাবিক ভাবে বদলে যায়। অনেক রাতে বাড়িতে ঢুকতেন। অনলাইনে কথোপকথনে ব্যস্ত থাকতেন। কারও সঙ্গে খুব একটা কথাও বলতেন না।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, হার্দিকের সঙ্গে এক ভিন্‌ধর্মের তরুণীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তাঁকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বোন হিমাংশিকা এবং মা নীলিমা আপত্তি জানান। বিষয়টি নিয়ে মা এবং বোনের সঙ্গে তাঁর একটা টানাপড়েন শুরু হয়। হার্দিকের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করেন তাঁরা। গত ৬ মার্চ বোনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। অভিযোগ, তার পরই রাগের বশে একটি ছুরি নিয়ে হিমাংশিকার উপর হামলা চালান তিনি। ছুরি দিয়ে ৮৪ বার আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হিমাংশিকার। তার পর গাড়ি নিয়ে হার্দিক মোরাদাবাদে নিজেদের বাড়িতে যান। মাকে জানান, তাঁর জন্য একটি চমক আছে। গুরুগ্রামের ভাড়াবাড়িতে সেই চমক অপেক্ষা করছে। পুত্রের সঙ্গে গুরুগ্রামের ভাড়াবাড়িতে নীলিমা পৌঁছে দেখেন, হিমাংশিকা নিথর হয়ে পড়ে রয়েছেন। রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘর। চিৎকার করে পড়শিদের ডাকার চেষ্টা করলে, তাঁকেও কোপান হার্দিক। তার পর পালিয়ে যান। নীলিমাকে স্থানীয়েরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হার্দিককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Advertisement
আরও পড়ুন