কেতন অগ্রবাল খুনে ধৃত সিয়া গয়াল। ছবি: সংগৃহীত।
পুণের ব্যবসায়ী কেতন অগ্রবালের মৃত্যুর পরে তাঁর বাগ্দত্তা সিয়া গয়ালের হাবভাব সন্দেহজনক ঠেকেছিল নিহতের পরিবারের। একই সন্দেহের কথা উঠে এল ঘটনাস্থল লোহাগড় দুর্গের রক্ষী তথা পুলিশকর্মীর বয়ানেও। ওই পুলিশকর্মীর দাবি, সিয়াকে সান্ত্বনা দিতেই তিনি বলেছিলেন, কেতন খাদে পড়ে গিয়েও বেঁচে রয়েছেন। তার পরেই হাবভাব পাল্টে গিয়েছিল সিয়ার। খুশি হওয়ার বদলে ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। যা দেখে সন্দেহ হয়েছিল তাঁর। পুলিশকর্মীর সেই বয়ান থেকেই মোড় ঘুরে যায় তদন্তের।
রাহুল নামে ওই পুলিশকর্মী জানান, ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গে সিয়ার চিৎকার শুনে ছুটে গিয়েছিলেন তাঁরা। ২০ বছরের সিয়া তাঁদের জানিয়েছিলেন, তাঁর বাগ্দত্ত ছবি তুলতে গিয়ে দুর্গের প্রাচীর থেকে পড়ে গিয়েছেন। রাহুলের দাবি, সে সময় সিয়াকে আতঙ্কিত দেখালেও তাঁর চোখে একফোঁটা জল ছিল না।
সিয়ার থেকে বিষয়টি জানতে পেরে খাদে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পুলিশকর্মী, দুর্গের রক্ষীরা। দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ২৬ বছরের কেতন। রাহুলের কথায়, ‘‘যুবকের শরীরে কোনও স্পন্দন ছিল না। দেখেই বুঝে গিয়েছিলাম, আর বেঁচে নেই তিনি। কিন্তু তাঁর সঙ্গিনীকে আশ্বস্ত করার জন্য বলেছিলাম, যুবক বেঁচে রয়েছেন। ওঁকে ধাক্কা দিতে চাইনি।’’ সে সময়ই সিয়ার প্রতিক্রিয়া অবাক করেছিল রাহুলকে। খটকাও লেগেছিল। রাহুলের দাবি, তাঁর কথা শুনে সিয়া স্বস্তি পাননি। উল্টে ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। রাহুলের এই বক্তব্য শুনেই তদন্তকারীদের মনে হয়েছিল, রীতিমতো আটঘাট বেঁধে কেতনকে দুর্গ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন সিয়া বা তাঁর সঙ্গী। তার পরে ‘দুর্ঘটনা’ বলে সাজিয়েছিলেন গোটা ঘটনাকে।
গত ১৮ জুন লোহাগড় দুর্গের প্রাচীর থেকে পড়ে মৃত্যু হয় কেতনের। তাঁর পরিবারের নির্মাণের ব্যবসা রয়েছে। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, দুর্ঘটনাবশত কেতন পড়ে গিয়েছেন। পরে তাঁর বাগ্দত্তা সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরিকে গ্রেফতার করে পুণে পুলিশ। কেতনের মৃত্যুর নেপথ্যে যে রহস্য রয়েছে, তা নিয়ে প্রথম সন্দেহ হয় তাঁর বাবা বিশাল অগ্রবালের। একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, পুত্রের দেহ বাড়িতে আনার পরে সিয়ার মধ্যে কোনও দুঃখ-কষ্ট দেখা যায়নি। খুব স্বাভাবিক ছিলেন ২০ বছরের তরুণী। তার পরেই তাঁর সন্দেহ হয়। একই সন্দেহ হয়েছিল সেই দুর্গের পুলিশ-রক্ষীরও। তিনিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পরে সেই বয়ানই তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পুলিশের ধারণা, এর আগেও কেতনকে খুনের চেষ্টা করেছিলেন সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক। ব্যর্থ হয়েছিলেন। শেষে লোহাগড় দুর্গে গিয়ে তাঁদের পরিকল্পনা সফল হয়। সেখানে সিয়া এবং কেতনের সঙ্গে পৌঁছে গিয়েছিলেন চেতনও। তবে হুডি পরে আড়ালে ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে এই প্রবল গরমে হুডি পরে কাউকে ঘুরতে দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। তাঁকে চেতন বলে শনাক্ত করে পুলিশ। শুরু হয় তদন্ত। তার পরেই হাজতে দু’জনে।