Indira Gandhi National Tribal University

মধ্যপ্রদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে অসমিয়া ছাত্রকে হেনস্থা, স্মৃতি উস্কে দিল অ্যাঞ্জেল চাকমাকাণ্ডের

বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা উমং সিংহার অভিযোগ, ‘বিজেপি ও আরএসএসের ঘাঁটি’। তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের প্রতি যেখানে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিল সেখানে নামমাত্র পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:২৬

—প্রতীকী চিত্র।

ত্রিপুরার পরে এ বার মধ্যপ্রদেশ। ফের উস্কে উঠল অ্যাঞ্জেল চাকমা হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি। মধ্যপ্রদেশের অনুপপুর জেলার অমরকন্টকে ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় উপজাতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে এক ছাত্রকে হেনস্থার অভিযোগ উঠল পাঁচ জন পড়ুয়ার বিরুদ্ধে।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিমধ্যেই তাঁদের বহিস্কার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, আক্রান্ত হিরোস জ্যোতি দাস ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তরস্তরের পড়ুয়া।

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার। হিরোস যখন ছাত্রাবাসের স্নানাগার থেকে নিজের ঘরে যাচ্ছিলেন তখন ছাত্রাবাসের বেশ কয়েক জন তাঁর উদ্দেশে প্রশ্ন করেছিল যে তিনি কোথা থেকে এসেছেন ও এই ছাত্রাবাসে কী করছেন। ওই দিন বিকেল ৪টা নাগাদ তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের বহিষ্কার করেন। আক্রান্তের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১৫(২), ২৯৬, ৩৫১(৩) ও ৩(৫) ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ইচ্ছাকৃত ভাবে আঘাত করা, অশ্লীল কাজ ও কথা এবং অপরাধের উদ্দেশে ভয় দেখানোর মত ধারা।

অভিযোগকারী জানিয়েছন, যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসে তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে সেখানে তিনি তিন বছর ধরে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ব্রেসলেট দিয়ে মারধর করা হয়েছে। যার ফলে তাঁর চোখ, কান, নাক ও ঠোঁট জখম হয়েছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তদের নাম অনুরাগ পান্ডে, যতীন সিংহ, রজনীশ ত্রিপাঠী, বিশাল যাদব ও উৎকর্ষ সিংহ।

বর্ণবৈষম্যমূলক কোনও মন্তব্য করা হয়েছে কি না প্রশ্নের উত্তরে এসডিপিও নবীন তিওয়ারি জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস নেতৃত্ব এই ঘটনার জন্য ইতিমধ্যেই বিজেপিকে ‘দায়ী’ করেছে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা উমং সিংহার অভিযোগ তুলেছেন বর্ণবিদ্বেষের। তাঁর আরও অভিযোগ, অভিযুক্তেরা ক্ষমতাসীন দলের সদস্য। মত্ত অবস্থায় আক্রমণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করে তাঁর অভিযোগ, ‘বিজেপি ও আরএসএসের ঘাঁটি’। তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের প্রতি যেখানে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ছিল সেখানে নামমাত্র পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ত্রিপুরা থেকে উত্তরাখণ্ডে পড়তে গিয়েছিলেন অ্যাঞ্জেল এবং তাঁর ভাই মাইকেল। সেখানে একটি বেসরকারি কলেজে এমবিএ করছিলেন তাঁরা। গত ৯ ডিসেম্বর দেহরাদূনে স্থানীয় কয়েক জন অ্যাঞ্জেল এবং তাঁর ভাই মাইকেলকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। অ্যাঞ্জেলের ঘাড়ে এবং পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। মাইকেলের মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ১৭ দিন সঙ্কটজনক অবস্থায় লড়াই করার পর ২৬ ডিসেম্বর অ্যাঞ্জেলের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার সূত্রপাত ‘জাত’ তুলে গালিগালাজ করাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, অ্যাঞ্জেল ও তাঁর ভাইকে ‘চাইনিজ় মোমো’ বলে কটাক্ষ করা হয়। অ্যাঞ্জেল তার প্রতিবাদ করে জানান, তাঁরা ত্রিপুরার বাসিন্দা, চিনের নন। সেখান থেকেই কথা কাটাকাটি, যা হাতাহাতিতে পৌঁছোয়। অভিযোগ, তার পরই দুই ভাইকে বেধড়ক মারধর করা হয়। যদিও দেহরাদূন পুলিশের দাবি, এটি কোনও জাতিগত আক্রমণ বা হামলার ঘটনা নয়। মধ্যপ্রদেশে ছাত্র হেনস্থার ঘটনা আরও একবার উস্কে দিল অ্যাঞ্জেল-স্মৃতি।

Advertisement
আরও পড়ুন