Ram Mandir Donation Theft Case

কুম্ভমেলার সময়েই রামমন্দিরে চুরি সবচেয়ে বেশি! দানের অধিকাংশ অর্থ কাদের পকেটে গিয়েছে? জানাল পুলিশ

কুম্ভমেলার সময় রামমন্দিরে অনুদানের পরিমাণ আচমকা অনেকটা বেড়ে যায়। ভক্তেরা পুণ্যের আশায় মুক্ত হস্তে দান করেছিলেন। সেই সুযোগই নেন অভিযুক্তেরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ১৯:০১
রামমন্দিরের অনুদান বাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা চুরির অভিযোগ।

রামমন্দিরের অনুদান বাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা চুরির অভিযোগ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দানের কোটি কোটি টাকা, অলংকার, মূল্যবান রত্ন চুরির ঘটনায় প্রতি দিনই নিত্যনতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। বুধবার অযোধ্যা পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে কুম্ভমেলার সময়েই সবচেয়ে বেশি চুরি হয়েছিল রামমন্দিরে। চুরির অধিকাংশ টাকা গিয়েছে ধৃত লবকুশ মিশ্র এবং অনুকল্প মিশ্রের পকেটে। সম্পর্কে তাঁরা একে অপরের আত্মীয়।

Advertisement

রামমন্দিরে চুরির তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আশ্বাস দিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। অভিযুক্তদের পক্ষে আদালতে সওয়াল না করার নির্দেশও তিনি দিয়েছেন আইনজীবীদের। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লবকুশ, অনুকল্প ছাড়াও সেই তালিকায় রয়েছেন অবিনাশ শুক্ল, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, সুভাষ শ্রীবাস্তব, রামশঙ্কর মিশ্র এবং রামশঙ্কর যাদব। মঙ্গলবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সিট। তদন্তকারীদের দাবি, এই আট জন মিলেই সমগ্র ষড়যন্ত্র করেছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কেউ কেউ কুম্ভমেলার আগেও ছোটখাটো চুরির ঘটনায় যুক্ত ছিলেন। তবে কুম্ভমেলার সময় রামমন্দিরে অনুদানের পরিমাণ আচমকা অনেকটা বেড়ে যায়। ভক্তেরা পুণ্যের আশায় মুক্ত হস্তে দান করেছিলেন। সেই সুযোগই নেন অভিযুক্তেরা। গোটা ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার এবং তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা দান পেয়েছে রামমন্দির ট্রাস্ট। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে প্রাপ্ত দানের মধ্যে ২,১০০ কোটি টাকা তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগও করেছে।

রামমন্দিরে চুরির টাকা দিয়ে ধৃত লবকুশ এবং অনুকল্প সম্পত্তি কিনে ফেলেছেন, জানতে পেরেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত দু’জনের ছ’টির বেশি সম্পত্তির হদিস পাওয়া গিয়েছে। আরও সম্পত্তির খোঁজ চলছে। অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন এবং সম্পত্তির খোঁজে আয়কর দফতরের সাহায্যও নিচ্ছে অযোধ্যা পুলিশ। রামমন্দিরে জমা পড়া অনুদানের নগদ অর্থ গোনা এবং তার হিসাব রাখার দায়িত্ব স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া হয়েছিল। তারা এই কাজের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়োগ করে। মোট চারটি বাক্সে অনুদান জমা পড়ত। গণনার কাজে ছিলেন ব্যাঙ্কের তরফে ১১ জন এবং মন্দির ট্রাস্টের তিন জন। দুর্নীতির ঘটনায় এসবিআই-এর কিছু কর্মচারীর ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Advertisement
আরও পড়ুন