Meghalaya Honeymoon Murder Case

মধুচন্দ্রিমা হত্যাকাণ্ড: রাজা রঘুবংশী খুনে অভিযুক্ত সোনমের জামিন বাতিলের দাবি, সুপ্রিম কোর্টে গেল মেঘালয় সরকার

মধ্যপ্রদেশের ইনদওরের যুবক রাজা রঘুবংশী খুনে অভিযুক্ত তাঁর স্ত্রী সোনমের জামিন বাতিল করা হোক। এ বিষয়ে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মেঘালয় সরকার।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৬ ১৫:৫৬
Meghalaya govt approaches the Supreme Court seeking cancellation of the bail granted to Sonam Raghuvanshi

(বাঁ দিকে) সোনম রাজবংশী এবং রাজা রঘুবংশী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মধ্যপ্রদেশের ইনদওরের যুবক রাজা রঘুবংশী খুনে অভিযুক্ত তাঁর স্ত্রী সোনমের জামিন বাতিল করা হোক। এ বিষয়ে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মেঘালয় সরকার। তার পরই অনুমতি দেয় আদালত। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের অবসরকালীন বেঞ্চ এই মামলাটি শুনবে। সেখানে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করবেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।

Advertisement

আদালতে মেহতা জানান, এই মামলা অত্যন্ত সংবেদনশীল। কী ভাবে এক জন স্ত্রী তাঁর স্বামীকে মেঘালয়ে নিয়ে গিয়ে তিন সঙ্গীর সঙ্গে তাঁকে নৃশংস ভাবে হত্যা করেন। তার পর তাঁর দেহ লোপাটের চেষ্টা করা হয়। সলিসিটর জেনারেল আরও জানান, এর আগেও অভিযুক্তের দু’বার জামিনের আর্জি খারিজ হয়ে গিয়েছে। অভিযুক্তকে যদি জামিন দেওয়া হয়, তা হলে তিনি পালাতে পারেন। আদালতে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন মেহতা।

আদালতে মেহতা আরও জানান, গ্রেফতারির সঠিক কারণ দর্শানো হয়নি এবং প্রয়োজনীয় নথিতে ত্রুটি থাকায় অভিযুক্ত জামিন পেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা রুজু করা প্রয়োজন ছিল, ‘টাইপোগ্রাফিকাল’ ভুলের জন্য সেই সংশ্লিষ্ট ধারার নম্বর বদলে গিয়েছিল। আর এই ত্রুটির কারণেই অভিযুক্তের জামিন হয়ে গিয়েছে। তিনি যে ধরনের অপরাধ করেছেন, তার জন্য জামিন না হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন মেহতা। মেঘালয় সরকার আদালতকে এটাও জানায় যে, যদি সোনম জামিনে মুক্ত থাকেন, তা হলে যে কোনও সময় আইনের হাত গলে পালিয়ে যেতে পারেন। তাই মামলাটি দ্রুত শোনার আর্জি জানানো হচ্ছে। সোনমের জামিন যাতে বাতিল করা হয়, সেই আবেদনও করেছে রাজ্য সরকার।

গত বছরের মে মাসে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ড গোটা দেশে শোরগোল ফেলে গিয়েছিল। তাঁকে মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় নিয়ে গিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে স্ত্রী সোনম এবং তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে। গত এপ্রিলে সোনমের জামিন মঞ্জুর করে মেঘালয় আদালত। সূত্রের খবর, পুলিশের সামান্য ‘প্রক্রিয়াগত ত্রুটি’ ছিল গ্রেফতারি মেমোতে। সোনমকে গ্রেফতার করার সময় পুলিশ যে গ্রেফতারি মেমো দিয়েছিল, তাতে লেখা হয়েছিল ৪০৩ (১) ধারার কথা। উল্লেখ্য, ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় (বিএনএস) ওই ধারার কোনও অস্তিত্বই নেই।

২০২৪ সালে ভারতীয় দণ্ডবিধি ধারার পরিবর্তে বিএনএস চালু করে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই আইনে ৪০৩ (১) ধারার কোনও উল্লেখ নেই। সেখানে খুনের মামলার ধারাটি ১০৩ (১)। মনে করা হচ্ছে, ওই মেমো যিনি লিখেছিলেন তিনি ১০৩ (১)-র বদলে ৪০৩ (১) ধারা লিখে ফেলেন। ভুলবশত ১ হয়ে যায় ৪! আদালত তার নির্দেশেও এই অস্তিত্বহীন ধারার কথা জানিয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় ৪০৩ (১) ধারার কোনও অস্তিত্ব না-থাকলেও ভারতীয় দণ্ডবিধিতে ৪০৩ বলে একটি ধারা ছিল। তবে সেটি সম্পত্তি নিয়ে গন্ডগোলের কারণে দেওয়া হত। আদালতে পুলিশের তরফে এটিকে ‘প্রক্রিয়াগত ত্রুটি’র যুক্তি দেওয়া হয়েছে। যদিও সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে আদালত। আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে, তার সঠিক কারণ দেখানো হয়নি। ফলে ওই গ্রেফতারি আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।

Advertisement
আরও পড়ুন