যোগেন্দ্র উপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
দিন কয়েক আগের ‘জনি জনি ইয়েস পাপা’র পরে এ বারে শিক্ষামন্ত্রীর কোপে ‘রেন রেন গো অ্যাওয়ে’!
দেশে নিম্ন প্রাথমিক স্তরে শিশুদের ইংরেজি শিক্ষায় বহুল প্রচলিত এবং জনপ্রিয় দু’টি ইংরেজি ছড়ার বিরুদ্ধে রীতিমতো খড়্গহস্ত উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী যোগেন্দ্র উপাধ্যায়। তাঁর মতে ‘জনি জনি ইয়েস পাপা’ছড়াটি যেমন শিশুদের বাবা-মায়ের সামনেই মিথ্যা কথা বলতে শেখায়, তেমনই ‘রেন রেন গো অ্যাওয়ে’ নামক ছড়াটি একটি শিশুর ব্যক্তিগত আনন্দের জন্য দেশের ঐতিহ্যের বিরোধিতা করে, যা সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পরিপন্থী! সে কারণেই পাঠ্যবইয়ে এই দু’টি কবিতা থাকাই উচিত নয় বলে জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিহাস, বিজ্ঞানের নানা বিষয় পড়ানোর বিরুদ্ধে বহু বছর ধরেই সরব সঙ্ঘ পরিবার এবং বিজেপি। তাদের আপত্তিতেই ইতিহাসে মোগল বা বিজ্ঞানে বিবর্তনবাদ-সহ একাধিক বিষয় ইতিমধ্যেই বাদ গিয়েছে। এ বারে সেই তালিকায় ইংরেজি শিশুপাঠ্যও যুক্ত হওয়ায় উদ্বিগ্ন শিক্ষামহলের একাংশ। যদিও তাঁদের সেই উদ্বেগকে উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার কতটা গুরুত্ব দেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে।
দিন কয়েক আগে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের শিক্ষামন্ত্রী যোগেন্দ্র এক অনুষ্ঠানে 'জনি জনি ইয়েস পাপা' ছড়াটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এই ছড়া ভারতীয় মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে না এবং বাবা-মায়ের সামনেই শিশুদের মিথ্যা কথা বলতে শেখায়। কানপুরের মার্চেন্ট চেম্বার হলে এক অনুষ্ঠানে ওই মন্তব্য করে যোগেন্দ্র বলেন, পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি মূল্যবোধ শেখানোর একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। ভারতেরপ্রাচীন ‘গুরু-শিষ্য পরম্পরা’র উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষকেরা কেবল এই প্রাচীন ধারাকে সম্মান করে এবং গুরুর ভূমিকা গ্রহণ করার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে পারবেন।’’ তাঁর মতে, শিক্ষকদের পাঠ্যপুস্তক-নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার গণ্ডি পেরিয়ে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঠিক পথ দেখাতে হবে। এর পরেই ‘জনি জনি ইয়েস পাপা’র প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, শিশুদের জীবন গঠনে পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের মূল্যবোধের যে ফারাক, তা ওই ছড়া থেকেই স্পষ্ট। ওই ছড়া বর্তমান প্রজন্মকে মূল্যবোধ শেখায় নাবাবার প্রশ্নের জবাবে, ‘চিনি খাচ্ছি না’র মতো কথা শিশুদের বাবা-মায়ের সামনেই মিথ্যা কথা বলতে উৎসাহিত করে। এই প্রসঙ্গেই বিজেপিসরকারের মন্ত্রী হিন্দি কবিতার প্রশংসা করে জানান, এগুলি পড়ে আগের প্রজন্ম বড় হয়েছে। এতে গভীর মূল্যবোধ রয়েছে। এগুলি শিশুদের পড়ানো দরকার।
মন্ত্রীর এমন দাবি নিয়ে বিতর্ক বাধলেও বিষয়টি নিয়ে বিজেপির নেতামন্ত্রীরা কোনও মন্তব্য করেননি। এই বিতর্ক থিতিয়ে যাওয়ার আগেই যোগেন্দ্র আজ ফের সাংবাদিকদের ডেকে আরও একটি জনপ্রিয় ইংরেজি ছড়া নিয়ে নিজের আপত্তির কথা জানান। ‘রেন রেন গো অ্যাওয়ে’ ছড়াটির উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘এটা কী? ছোট্ট জনি খেলতে চায়, তাই সে বৃষ্টিকে চলে যেতে বলছে! এটা আমাদের ঐতিহ্যের পরিপন্থী। আমাদের ঐতিহ্য হল, বৃষ্টি আসা উচিত, কারণ এতে সকলের মঙ্গল হয়। কিন্তু এখানে জনির খেলার জন্য বৃষ্টিকে চলে যেতে বলা হচ্ছে। সেই কারণেই এ’টি পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া উচিত।’’
ইতিহাস থেকে মোগল, বিজ্ঞান থেকে বিবর্তনবাদের মতো বিষয় বাদ পড়ার পরে এ বারে ইংরেজি ছড়ার পরিণতিও সেই দিকেই যাবে কি না, দেশের শিক্ষাবিদদের একাংশের পাশাপাশি সে দিকে নজর রাখছে উত্তরপ্রদেশের স্কুলপড়ুয়াছোট্ট জনি-রা।