—প্রতীকী চিত্র।
রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের দিনে দুই বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে লাগল রাজনৈতিক রং। শনিবার বীরভূম এবং পুরুলিয়ায় তেমন ঘটেছে। শুক্রবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান-উতোর। বোমাবাজি, মারধরের অভিযোগও মিলেছে। শনিবার রাতে তৃণমূল-বিজেপি মারামারি থামাতে গিয়ে ইটের ঘায়ে মাথা ফাটে হুগলির তারকেশ্বর থানার ওসি সুব্রত সাধুর। তাঁকে নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়েছে। ঘটনায় পাঁচ বিজেপি কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
এ দিন সকালে পুরুলিয়া মফস্সল থানার কানালি গ্রাম লাগোয়া এলাকায় দেহ মেলে বিজেপি কর্মী হাবুলাল গোপের (৪৮)। তাঁর বাড়ি আড়শার বেলডি গ্রামে। পরিবারের তরফে হাবুলালের মৃত্যু স্বাভাবিক নয় এবং ঘটনায় রাজনৈতিক রেষারেষি থাকতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও জেলা পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, “মৃতের দেহে যে সব চিহ্ন মিলেছে, তাতে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ময়না-তদন্ত করানো হয়েছে। সেখানেও চিকিৎসক প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছেন, বাজ পড়েই মৃত্যু হয়েছে।”
দুপুরে বীরভূমের বোলপুরের অভিরামপুর এলাকায় পুকুর থেকে মেলে স্থানীয় বাসিন্দা বিজেপি কর্মী নরেশ রাউতের (৫০) দেহ। পরিবারের দাবি, কয়েক জন তৃণমূল কর্মীর সঙ্গে শুক্রবার সন্ধ্যায় নরেশের বচসা হয়। তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়। রাত ১১টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান নরেশ। নরেশের ভাইপো বিনয় রাউত বলেন, ‘‘কাকাকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাই পরিকল্পিত খুন বলে মনে হচ্ছে। আমরা চাই, পুলিশ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা করুক।’’ তবে পরিবারটি খুনের লিখিত অভিযোগ করেনি। বোলপুরের তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, ‘‘ওই এলাকায় আমাদেরই ১০-১২ জন নেতা-কর্মী ঘরছাড়া। হিংসার কারণে তাঁরা ফিরতে পারছেন না। তৃণমূল কী ভাবে এ কাজ করতে পারে!’’
ঘরছাড়া ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপির হাঁড়া এলাকার ৮ নম্বর বুথের তৃণমূল সভাপতি মিঠুন সামন্ত (৩৮)। বাড়ির লোকের দাবি, বিজেপি কর্মীরা লাগাতার হুমকি দেওয়ায় এবং বাড়িতে ভাঙচুর চালানোয় আতঙ্কে পরিবার নিয়ে বেহালায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। ঘরছাড়া অবস্থায় মানসিক অবসাদ ও দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। শুক্রবার রাতে আচমকা অসুস্থ হলে তাঁকে একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই রাতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি শামসুল আলম মীর বলেন, “এই মৃত্যুর দায় বিজেপির।” বিজেপির মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি নবেন্দুসুন্দর নস্কর বলেন, “মৃত্যু নিয়ে নোংরা রাজনীতি হচ্ছে।”
শুক্রবার রাতে বীরভূমের দুবরাজপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি, তৃণমূল নেতা স্বপন মণ্ডলের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজির অভিযোগ ওঠে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। সদাইপুর থানার হাজরাপুর গ্রামের ঘটনাস্থলে এ দিন সকালে পৌঁছে পুলিশ একটি তাজা বোমা উদ্ধার করে। শুক্রবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের নতুনহাট এলাকায় সাংগঠনিক বৈঠক সেরে বাড়ি ফেরার পথে ভাঙড়ের জমি কমিটির মুখপাত্র অলীক চক্রবর্তীকে তাক করে বোমা ছোড়ায় অভিযুক্ত আইএসএফ। অলীকের অবশ্য চোট লাগেনি। তিনি বলেন, ‘‘এ ভাবে হামলা চালিয়ে আমার মুখ বন্ধ করা যাবে না।’’ আইএসএফের জেলা সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, ‘‘ওঁরা মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’’
উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জে বিজেপির মহিলা কর্মী সরস্বতী জোয়ারদারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য বলেন, “তৃণমূলের হার্মাদ বাহিনী এখনও বিজেপি কর্মীদের উপরে অত্যাচার চালাচ্ছে।’’ অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূল নেতা শেখ শহিদুল্লাহ বলেন, “ওরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে আমাদের নামে দোষ চাপাচ্ছে।’’
হুগলির পান্ডুয়ায় এক তৃণমূল কর্মীকে মারধর করে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়ার জন্য জোর করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। সমাজমাধ্যমে তেমন ভিডিয়ো ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রাত পর্যন্ত থানায় অভিযোগ হয়নি। বিজেপি অভিযোগ মানেনি। এ দিন বিকেলে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরে এক তৃণমূল কর্মীকে বেধড়ক মারধরে অভিযুক্ত বিজেপি। কেশপুরের বিজেপি নেতা তন্ময় ঘোষ বলেন, ‘‘ঠিক কী হয়েছে, জানি না। খোঁজ নিচ্ছি।’’