গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
অযথা আতঙ্কিত হবেন না! কান দেবেন না গুজবে! এলপিজি নিয়ে সমস্যার মধ্যে আবার দেশবাসীকে আশ্বস্ত করল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে হরমুজ় প্রণালী ‘অবরুদ্ধ’। আর এই প্রণালী দিয়েই ভারতে আমদানি করা হয় অধিকাংশ জ্বালানি। সেই প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় ভারতে জ্বালানি নিয়ে যে উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা স্বীকার করছে নয়াদিল্লি। তবে বিষয়টি উদ্বেগের হলেও ভারতে এই অবস্থায় চিন্তার কোনও কারণ নেই বলে জানাল সরকার।
নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা বলেন, ‘‘সমস্ত পেট্রল পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রল এবং ডিজ়েল পাওয়া যাচ্ছে। আর এলপিজি সম্পর্কে বলতে চাই, এটি উদ্বেগের বিষয় ঠিকই। তবুও আমাদের ২৫ হাজার এলপিজি পরিবেশকের মধ্যে সকলের কাছে জোগান রয়েছে।’’
তার পরেই দেশবাসীর উদ্দেশে সুজাতার বার্তা, ‘‘কেউ দয়া করে গুজবে কান দেবেন না। আতঙ্কিত হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে যাবেন না।’’ এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ প্রবাহ যাতে ব্যাহত না-হয়, তার জন্য সরকার কী কী পদক্ষেপ করেছে, তা ব্যাখ্যা করেছেন সুজাতা। তিনি বলেন, ‘‘ঘরে ঘরে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। একই ভাবে, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে এলপিজি সরবরাহ হচ্ছে।’’ তিনি জানান, দেশের শোধনাগারগুলিতে আগের তুলনায় আরও বেশি পরিমাণ এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে। গত ৫ মার্চের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি উৎপাদন বেড়েছে।
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাত হানতে পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। কিছু কিছু জাহাজে ছাড় দিলেও অধিকাংশ পণ্যবাহী জাহাজ ওই এলাকায় আটকে রয়েছে। ফলে পশ্চিম এশিয়া থেকে জ্বালানির জোগান থমকে গিয়েছে। ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশে খনিজ তেলের কোনও সঙ্কট নেই। এলপিজি-র জোগান যতটা বাইরে থেকে আমদানি করা হয়, তা ব্যাহত হয়েছে হরমুজ়ে সমস্যার কারণে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে জোর দিয়েছে কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার মোদী জানান, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে সমস্ত দেশের উপরেই। তার মোকাবিলা করতে সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা চালাচ্ছে। মোদী বলেন, ‘‘কিছু মানুষ এলপিজি নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। আমি কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করতে চাই না। শুধু বলব, তাঁরা জনগণের সামনে নিজেদের রূপ প্রকাশ করে ফেলছেন এবং সার্বিক ভাবে দেশের ক্ষতি করছেন।’’ এর পরেই কালোবাজারিদের এক হাত নেন প্রধানমন্ত্রী। জানান, কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য কালোবাজারে বিক্রি করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। কেউ রেহাই পাবেন না।