প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।
সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল পাশ করাতে চাইছে কেন্দ্র। তিনটি বিল হল— মহিলা সংরক্ষণের জন্য ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল, লোকসভার সাংসদ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার জন্য আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনটি বিলই লোকসভা পেশ করা হয়েছে। প্রায় ১২ ঘণ্টা আলোচনার পরে শুক্রবার বিকেলে এই তিনটি বিলের উপর ভোটাভুটি হতে পারে সংসদের নিম্নকক্ষে।
এই বিল লোকসভায় পেশ করা হবে কি না, তা নিয়েও ভোটাভুটি হয় অধিবেশন কক্ষে। তাতে বিল পেশের পক্ষে মত দেন ২৫১ জন সাংসদ। বিপক্ষে মত দেন ১৮৫ জন। সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে বৃহস্পতিবার সকালেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে বার্তা দেন তিনি। তাঁর কথায়, নারী ক্ষমতায়নের জন্য এক ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ হতে চলেছে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে।মহিলা সংরক্ষণ বিলের ‘উদ্দেশ্য’ নিয়ে যখন বিরোধী শিবিরের সমালোচনা এবং প্রশ্নের মুখে মোদী সরকার, তখন প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রের আনা তিনটি বিলের মধ্যে রয়েছে আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিলটি ঘিরেই প্রশ্ন তুলছে বিরোধী দলগুলি। এই বিলের মাধ্যমে লোকসভার সাংসদ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করতে চাইছে কেন্দ্র। মোদী সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘সংসদের বিশেষ অধিবেশনে ভারত নারী ক্ষমতায়নের পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত। মা এবং বোনেদের সম্মান জানালেই দেশকে সম্মান জানানো হয়। এই ভাবনাকে পাথেয় করেই আমরা দৃঢ় সংকল্প করে এই পথে এগিয়ে চলেছি।’’ ওই লেখার সঙ্গে নারী বন্দনায় এক স্তোত্রও পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সংসদে যে তিনটি বিল পেশ করা হয়েছে, তার খসড়া মঙ্গলবারই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে সাংসদদের কাছে। উভয় কক্ষে এই বিলগুলি পাশ হলে এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫০ হতে পারে। সেখানে এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে মহিলাদের জন্য।
২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল লোকসভা এবং রাজ্যসভায়। মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের ওই বিলে বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তার পর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র আর জনগণনা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দু’টি পৃথক বিষয়কে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে-সহ বিভিন্ন বিরোধী দল।
এই আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বুধবারই ডিএমকে নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন। আসন পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতায় বৃহস্পতিবার সকালে বিলের খসড়া পুড়িয়েছেন তিনি। রাহুল গান্ধীও সমালোচনায় বিঁধেছেন কেন্দ্রকে। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘বিজেপির একটি বিপজ্জনক পরিকল্পনা হল— ২০২৯ সালের নির্বাচনের জন্য সব লোকসভা আসনে নিজেদের সুবিধামতো জালিয়াতি করা।’’ বুধবার এই বিলের বিষয়ে দিল্লিতে বৈঠকে বসেছিলেন বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র প্রতিনিধিরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি ডিএমকের টি আর বালু, আরজেডির তেজস্বী যাদব, তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষ, উদ্ধবসেনার সঞ্জয় রাউত, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলের সঙ্গে সমাজবাদী পার্টি, আইইউএমএল এবং বাম দলগুলির প্রতিনিধিরাও।
যদিও কেন্দ্রের দাবি, বিরোধীরা বিষয়টির ‘ভুল ব্যাখ্যা’ করছে। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বৃহস্পতিবার বলেন, “আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে বিরোধীদের গুজব ছড়ানো উচিত নয়। এর উদ্দেশ্য নিয়েও ভুল ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। বিরোধী দলগুলির কাছে আমার একটিই অনুরোধ। দয়া করে আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে গুজব ছড়াবেন না। আসন পুনর্নির্ধারণের অজুহাতে মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করবেন না।”