প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
উন্নয়নের মডেলকে সামনে রেখে রাষ্ট্র গঠন এবং জাতীয় নিরাপত্তার (বিশেষত সীমান্ত অঞ্চলে) বিষয়ে সক্রিয় হতে হবে। পাশাপাশি দেশের স্বার্থে আনা বিলগুলির পক্ষে ভোট দিতে হবে।
গত কাল দু’দফার আলোচনায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের এই মর্মেই বার্তা দিয়েছেন বিজেপির সংশ্লিষ্ট নেতারা। সূত্রের খবর, কোনও বিশেষ সাংসদ (কাকলি ঘোষ দস্তিদার) নন, বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েক জন নেতা সরাসরি প্রত্যেক বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে কথা বলেছেন সমান গুরুত্বের সঙ্গে। ‘অপারেশন লোটাস’-এর এটাই ছিল মন্ত্র। এক জনকে কী বলা হচ্ছে, তা অন্যকে জানানো হয়নি। তবে প্রত্যেককেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে— নতুন যে ব্লকটি তৈরি হতে চলেছে, তা এনডিএ তথা বিজেপির পক্ষ নেবে সব রকম ভাবে। অর্থাৎ নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশই হবে এই ব্লকের কাছে মান্য।
গত কালের মতো কাকলি এ দিনও দাবি করেছেন, ২০ জন সাংসদের নাম সম্বলিত চিঠি স্পিকারের কাছে দেওয়া হয়েছে। তবে স্পিকারের কার্যালয় থেকে এখনও পর্যন্ত তার প্রাপ্তি স্বীকার করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে একটু ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। স্পিকার ওম বিড়লা দিল্লির বাইরে আছেন, আগামী কাল দিল্লি ফিরবেন। মনে করা হচ্ছে, তার পরই স্পষ্ট হবে কোন চিঠি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে এবং তার পক্ষে কত জন রয়েছেন। তার আগে পর্যন্ত বিক্ষুব্ধদের একটা অংশ দাবি করেছেন, তাঁদের সংখ্যা ২০ ছাড়িয়ে যাবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কীর্তি আজাদ, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া আদি তৃণমূলের পক্ষে আর কেউ থাকবেন না!
আজ বিদ্রোহী কাকলি বলেন, “আমি শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলাম। ২০০১ সালে আমি বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে কাউন্সিলর হিসেবে লড়েছিলাম। আমি একটি রাজনৈতিক পরিবার থেকে এসেছি। আর মমতাদির কাছেই শিখেছি, রাজনীতি মানে মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করা, তাঁদের পরিষেবা দেওয়া।” প্রস্তাবিত ব্লকের নতুন রাজনৈতিক ভাষ্য কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কাকলি বলেন, আপাতত উন্নয়নের মডেলকেই সামনে রাখা হবে যার যার নির্বাচনী ক্ষেত্রে। বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁদের এমনটাই বলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেন তিনি ‘বিদ্রোহী’, সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কাকলির অভিযোগ, অতীতে বহু বার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নারীবিদ্বেষী আচরণ করেছেন। কিন্তু দলনেত্রী তাঁকে প্রশ্রয় দিয়ে গিয়েছেন। ফলে তাঁকে স্পিকারের কাছে চিঠি লিখতে হয়েছে।