—প্রতীকী চিত্র।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে তেলের দাম এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের নিয়ে প্রতিনিয়ত রক্তচাপ বাড়ছে নয়াদিল্লির। এক দিকে আমেরিকা-ইজ়রায়েল আর অন্য দিকে ইরানের মধ্যে চিঁড়েচ্যাপ্টা দেখাচ্ছে ভারতকে। সেবা তীর্থের (সাউথ ব্লক) কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়াতেই সেটা স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
আজ বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, ভারতের পতাকাবাহী দু’টি ট্যাঙ্কার শনিবার নির্বিঘ্নে হরমুজ় প্রণালী পার হওয়ার জন্য ইরানের সঙ্গে কোনও ‘দেনা পাওনা’ বা চুক্তিতে যেতে হয়নি। বিনিময়ে কিছুই চায়নি ইরান। পশ্চিমকে বার্তা দিয়ে জয়শঙ্করের বক্তব্য, “এটা দেনা পাওনার বিষয় নয়। আমাদের একে অপরের সঙ্গে বোঝাপড়ার ইতিহাস রয়েছে। তার ভিত্তিতেই আমি (ইরানের সঙ্গে) কথা বলেছি।” হরমুজ়-জট কাটাতে কূটনীতির উপরেই জোর দিয়েছেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “আমি ওদের (ইরান) সঙ্গে কথা বলছি এবং এই প্রক্রিয়া (ইরানের সঙ্গে কথাবার্তা) চলছে। যদি সেটা ফলপ্রসূ হয়, তা হলে স্বাভাবিক ভাবেই আমি সেটাচালিয়ে যাব।”
অন্য দিকে আজ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে হরমুজ় প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো নিয়ে আমেরিকার অনুরোধ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, “এই নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। কিন্তু আমাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক স্তরে এই নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।” হরমুজ় প্রণালীপার হয়ে ভারতের জাহাজ ফেরার নিয়ে তাঁর উক্তি, “ইতিমধ্যেই বিদেশমন্ত্রী সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। বিষয়টি বিনিময়ের নয়। আমরা ২৮ ফেব্রুয়ারি, ৩ এবং ৯ মার্চ স্পষ্ট করে বলেছি যে, ভারত উত্তেজনা কমানো, সংযমী নীতি, সংলাপ ও কূটনীতির পক্ষে। পাশাপাশি সব দেশেরই ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বকে মান্যতা দিতে হবে।”
গত ১৪ মার্চ রাতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিদেশমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন জয়শঙ্কর। তাঁদের আলোচনায় ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গেও গত কয়েক দিনে চার বার ফোনে কথা হয়েছে জয়শঙ্করের। সেখানে হরমুজ় প্রণালীতে আটকে থাকা ভারতের জাহাজের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ অবশ্য এরই মধ্যে দাবি করেছেন যে, ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার পায়ে নুয়ে পড়ে ব্রিকস গোষ্ঠীর গুরুত্ব হানি করছে মোদী সরকার। তাঁর কথায়, “২০২৫ সালে ইরানের উপরে আমেরিকার হামলার পর যৌথ বিবৃতি দিয়েছিল ব্রিকস। সে সময় ব্রাজ়িল ছিল ব্রিকস-এর সভাপতি। কিন্তু ২০২৬-এর সভাপতি ভারত সেই সাহস দেখাতে পারল না।” জয়রামের অভিযোগ, “ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে খুশি করার জন্য নরেন্দ্র মোদী ব্রিকস সভাপতির গুরুত্বকেঅবমূল্যায়ন করছেন।’’