Noida Couple Dead

‘আমার মৃত্যুর জন্য ও দায়ী’! প্রেম দিবসে প্রেমিকাকে খুনের আগে বাড়িতে মেসেজ নয়ডার যুবকের, আত্মঘাতী নিজেও

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতেরা হলেন সুমিত এবং রেখা। তাঁরা পরস্পরকে ১৫ বছর ধরে চিনতেন। প্রেমের সম্পর্কও ছিল। হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদন বলছে, প্রেমিকাকে খুন করার পর সুমিত বাড়িতে মেসেজ করেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২১
রেখা এবং সুমিত। গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় দু’জনের গুলিবিদ্ধ দেহ। ছবি: সংগৃহীত।

রেখা এবং সুমিত। গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় দু’জনের গুলিবিদ্ধ দেহ। ছবি: সংগৃহীত।

রাস্তার ধারে ছাইরঙা একটি গাড়ি দাঁড় করানো। ভিতরে দুই সওয়ারি। চালকের আসনে এক যুবক। চালকের পাশের আসনে এক তরুণী। কৌতূহলবশত পথচারীরা উঁকি মারতেই চমকে উঠেছিলেন। তার পরই ফোন করেন পুলিশকে। পুলিশ এসে গাড়ির ভিতর থেকে ওই যুবক এবং তরুণীর গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করে। শনিবার দুপুরে প্রেম দিবসে গাড়ির ভিতর থেকে এক যুগলের দেহ উদ্ধারে হুলস্থুল পড়ে যায় উত্তরপ্রদেশের নয়ডার ১০৭ সেক্টরে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতেরা হলেন সুমিত এবং রেখা। তাঁরা পরস্পরকে ১৫ বছর ধরে চিনতেন। প্রেমের সম্পর্কও ছিল। হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদন বলছে, প্রেমিকাকে খুন করার পর সুমিত বাড়িতে মেসেজ করেন। তিনি লেখেন, ‘‘নিজেকে শেষ করতে চলেছি। আর আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী এই মহিলা। আমাদের ১৫ বছরের সম্পর্ক। কথা দিয়েছিল আমাকে বিয়ে করবে। কিন্তু এখন অন্য জনকে বিয়ে করতে চলেছে। আমি এটা মেনে নিতে পারছি না। আমার সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে।’’ ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে এটাই ছিল যুবকের শেষ বার্তা। বাড়িতে এই মেসেজ পাঠানোর পরই ফোন বন্ধ করে দেন সুমিত। রেখার ফোনও বন্ধ পায় তাঁর পরিবার। তবে পুলিশ জানিয়েছে, যে মেসেজ সুমিত পাঠিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, সেটির সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।

হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার এই ঘটনাটি ঘটেছে রেখার বাড়ি থেকে দু’কিলোমিটার দূরে। রেখার বাড়ি সেক্টর ১০১-এ। পুলিশ জানিয়েছে, যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে আশপাশে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। ফলে তথ্য সংগ্রহে সমস্যা হচ্ছে। তবে কোন পথ ধরে গাড়িটি এসেছিল, আশপাশের রাস্তাগুলির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সুমিতের জলের ব্যবসা। দিল্লির ত্রিলোকপুরীতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। রেখা থাকতেন নয়ডায়। একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। পুলিশ জানিয়েছে, সুমিতের ডান হাতে একটি পিস্তল পাওয়া গিয়েছে। সেটি অবৈধ। এই পিস্তল সুমিত কোথা থেকে পেয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুমিতের দাদার অভিযোগ, রেখার বাড়ি থেকে সম্বন্ধ দেখা হচ্ছিল। ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কে আপত্তি ছিল রেখার পরিবারের। কিন্তু ওঁরা দু’জনে ১৫ বছর ধরে মেলামেশা করেছেন। সুমিত প্রতি দিন রেখাকে অফিস থেকে নিয়ে আসতেন। বাড়িতে নামিয়ে দিতেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমার স্ত্রীর কাছে হোয়াট্‌সঅ্যাপে মেসেজ আসে। একটি আইএসডি নম্বর থেকে সেই মেসেজ এসেছিল।’’

Advertisement
আরও পড়ুন