সেই লোহাগড় দুর্গেই ঘটেছিল যত কাণ্ড। (বাঁ দিকে) কেতন অগ্রবাল। (মাঝে) সিয়া গোয়ল। চেতন চৌধরী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
পুণে থেকে দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। দশম শতাব্দীতে তৈরি হয়েছিল। একদা দখল করেছিলেন শিবাজীও। রাতারাতি সেই লোহাগড় দুর্গে বেড়ে গিয়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। ইউনেস্কোর স্বীকৃত সেই জায়গায় গিয়ে পর্যটকদের একটাই প্রশ্ন, ঠিক কোথায় কেতন অগ্রবালকে ঠেলে ফেলে দিয়েছিলেন সিয়া গোয়ল? কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন চেতন চৌধরী? গত ১৮ জুন সেই লোহাগড়ের প্রাচীর থেকেই কেতনকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় গ্রেফতার হন তাঁর বাগ্দত্তা সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন।
দশম শতকে লোহতামিয়া বংশ এই দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেছিল। তার পরে বিভিন্ন সময়ে তার দখলদার বদলেছে। ১৬৪৮ সালে দুর্গের দখল নেন শিবাজী। ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ট্রেক করে উঠতে হয় দুর্গে। সেখানকার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ আগে ছুটির দিনে হাজার জনের মতো পর্যটক যেতেন সেখানে। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১,৫০০ জন। সপ্তাহের মাঝে মেরেকেটে ৪০০ জন পর্যটক হাজির হতেন। এখন সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে ৬০০।
পুলিশের তদন্তের জন্য মাঝেমধ্যেই বন্ধ রাখা হচ্ছে দুর্গ। তখন বাইরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন পর্যটকেরা। সে সময় একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম তাঁদের বেশ কিছু প্রশ্ন করে। জিজ্ঞেস করে, কেন সেখানে হাজির হয়েছেন তাঁরা এই বর্ষায়। তাতে অদ্ভুত জবাব দেন কেউ কেউ। কেউ বলেন, ‘‘বিসাপুর দুর্গে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু খবরে দেখলাম এই দুর্গেই কেতনকে খুন করেছেন সিয়া। তাই জায়গাটা দেখতে এলাম।’’ প্রতীক বনসোড় নামে এক পর্যটক বলেন, ‘‘দুর্গে প্রবেশ করেই আগে সেই জায়গায় গিয়েছি, যেখানে কেতনকে ধাক্কা দিয়েছিলেন সিয়া। সেখানে গিয়ে কেতনের জন্য বেশ খারাপই লাগছিল। বেচারা!’’
গত ১৮ জুন পুণের লোহাগড়ে দুর্গের পাহাড়ি এলাকা থেকে খাদে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল কেতনের। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ কেতনের মাকে সিয়া ফোন করে জানান, তাঁর পুত্র দুর্গ থেকে খাদে পড়ে গিয়েছেন। প্রথমে বিষয়টি দুর্ঘটনা হিসাবে মনে হয়েছিল পুলিশের। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আসল তথ্য প্রকাশ্যে আসে। পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা করে কেতনকে খুনের ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন। পুলিশ দু’জনকেই গ্রেফতার করে।