Om Birla

স্পিকারে অনাস্থায় ধীরে চলো তৃণমূলের

লোকসভায় স্পিকারের পক্ষপাতমূলক আচরণের জবাব দিতে আজ ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস। সূত্রের মতে, ইন্ডিয়া শিবিরের অন্য দলগুলি ওই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানালেও, তৃণমূল এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৫
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। —ফাইল চিত্র।

মাঝে দু’দল একে-অপরকে নীতিভিত্তিক প্রশ্নে সমর্থন জানালেও, আজ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের আনা অনাস্থা প্রস্তাবে সমর্থনের পরিবর্তে ধীরে চলো নীতি নিয়ে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। অন্যতম প্রধান বিরোধী দল তৃণমূলের ওই অবস্থান স্বস্তি দিয়েছে শাসক শিবিরকে।

লোকসভায় স্পিকারের পক্ষপাতমূলক আচরণের জবাব দিতে আজ ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস। সূত্রের মতে, ইন্ডিয়া শিবিরের অন্য দলগুলি ওই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানালেও, তৃণমূল এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলীয় সূত্রের মতে, ওম বিড়লার সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রয়েছে তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদদের। তা ছাড়া কংগ্রেস যে চারটি কারণ দেখিয়ে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনছে, তার প্রত্যেকটির সঙ্গে বিরোধী শিবিরের পরিবর্তে, দল হিসাবে কংগ্রেসের স্বার্থ জড়িত রয়েছে। তাই নীতির প্রশ্নে স্পিকারের বিরুদ্ধে মোর্চা খুলে কোনও রাজনতিক লাভ দেখছেন না তৃণমূল নেতৃত্ব। তা ছাড়া এই অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে ভোটাভুটি হলে বিরোধীদের হার নিশ্চিত। তাতে ভোটের আগে মুখ পুড়বে তৃণমূলই। তাই সব দিক ভেবেই ধীরে এগোনোর পক্ষপাতী তৃণমূল। সকালের বিরোধী দলের বৈঠকে যোগদানকারী তৃণমূল নেত্রী শতাব্দী রায় বলেন, ‘‘তা ছাড়া এখনও অনাস্থা প্রস্তাব সংক্রান্ত প্রস্তাব আমাদের পাঠানো হয়নি।’’

মতপার্থক্য কেবল স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরেই নয়, যে ভাবে গত এক সপ্তাহ ধরে লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি হয়ে চলেছে, সেটাও ভাল ভাবে দেখছেন না তৃণমূল নেতৃত্ব। দল মনে করছে, সরকার ও কংগ্রেস উভয়েরই উচিত অনড় অবস্থান থেকে কিছুটা পিছিয়ে আসা। যাতে লোকসভায় বাজেট বিতর্ক শুরু হতে পারে। তৃণমূলের এক নেতার কথায়, ‘‘আমরা আলোচনা চাইছি। তা হলে ভোটের আগে বাজেটে রাজ্য কী ভাবে বঞ্চনার শিকার হয়েছে তা তুলে ধরা সম্ভব হবে।’’ তৃণমূলের মতে, সংসদ চললে বিভিন্ন বিষয়ে সরকারকে আক্রমণ শানানো সম্ভব হয়। সংসদ বন্ধ থাকলে তা করা যায় না।

আজ বেলা দু’টোর পরে স্পিকার ওম বিড়লার সংসদীয় কক্ষে বিরোধী নেতাদের যে বৈঠক হয়, তাতে তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদ চালানোর উপরে জোর দেন। কংগ্রেস যেখানে রাহুল গান্ধীকে বলতে না দিলে সংসদ চলতে না দেওয়ার প্রশ্নে অনড়, সেখানে তৃণমূল চাইছে জনগণের স্বার্থে লোকসভা চলুক। অভিষেকের কথায়, ‘‘বিরোধী সাংসদেরা লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই হঠাৎ সংসদের অধিবেশন মুলতুবি করে আমজনতার আওয়াজকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। আসলে মোদী সরকারের তরফে জনতার প্রতি দায়বদ্ধতা এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সরকার জবাব দেওয়ার পরিবর্তে মুখ বন্ধ রাখাইপছন্দ করে।’’

আরও পড়ুন