নেটমাধ্যমে জন্ম নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ফলোয়ার সংখ্যার নিরিখে দেশের শাসক দল বিজেপি-কে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে অভিজিৎ দীপকের গড়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। এই নতুন নেটমাধ্যমের দলটিকে ঘিরে এ বার মূলস্রোতের রাজনৈতিক দলে চর্চা শুরু হল। আপাতত সর্বপ্রথম সিজেপি-কে অনলাইন সমর্থনের স্বীকৃতি দিয়েছে তৃণমূল। আর আজই সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি জানিয়েছেন, এর গতিবিধি এবং অভিমুখ নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। অন্য বিরোধী দল এখনও আগ্রহ প্রকাশ করেনি। তবে নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে। কংগ্রেসের বক্তব্য, এখনই সিজেপি নিয়ে চর্চার সময় আসেনি। যাদের সঙ্গে এই ককরোচ পার্টিকে একাত্ম করে দেখানো হচ্ছে সেই আপ-এর সাংসদ সঞ্জয় সিংহও আজ জানিয়েছেন, তাঁরা এই সিজেপি-র সঙ্গে কোনও ভাবেই যুক্ত হতে চাইছেন না, বা সমর্থন করতে চাইছেন না। তার কথায়, ‘‘আমরা এটার মধ্যে ঢুকছি না। সরকারের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত হতাশার বহিঃপ্রকাশে ঘটেছে এটা।’’
সব মিলিয়ে সমর্থন বা সিলমোহর যেটাই হোক না কেন, কয়েক দিনের মধ্যেই মূল স্রোতের বিরোধী রাজনীতিতে ‘আরশোলা’রা যথেষ্ট সাড়া ফেলে দিয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট শিবির। আজ সকালেই তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘গোটা সপ্তাহ জুড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খুবই কার্যকরী বৈঠক করেছেন। প্রত্যেকে ভাল করেই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। তাঁরা দৃঢ় সংকল্প। আর একটি কথা। দু’জনেই ককরোচের প্রতি সম্পূর্ণ সহমর্মিতা এবং সমর্থন জানিয়েছেন’। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, এই সিজেপি নিঃসন্দেহে দেশের বিজেপি বিরোধী যুবশক্তির তৈরি করা একটি মঞ্চ। এই আন্দোলনে শামিল হতে পারে যে কোনও বিরোধী দলই। কে কংগ্রেস, কে আপ, কে রাজ্য স্তরে কার বিরুদ্ধে লড়ছে তা দেখার দরকার পড়ছে না। তৃণমূল তাই সরাসরি এবং প্রথমেই এই মঞ্চকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং অনলাইন সমন্বয়ের কথা ভাবছে।
অন্য দিকে, সিজেপি নিয়ে এম এ বেবির বক্তব্য, ‘‘বিষয়টি নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলোচনা করেছি। তরুণ সম্প্রদায় এবং ছাত্রদের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন নীতি, পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, বেকারত্ব সম্পর্কে হতাশার প্রকাশ এই সিজেপি। দেশের প্রধান বিচারপতি পরে নিজেই বলেছেন, তিনি দেশের তরুণদের উদ্দেশে নয়, যাঁদের ভুয়ো ডিগ্রি রয়েছে তাঁদেরই ককরোচ বলেছিলেন। কিন্তু এই স্বীকারোক্তির পরেও যে সিজেপি সাড়া পাচ্ছে, সেটাতে আমাদের আরও নজর দেওয়া দরকার। কেন হচ্ছে এটা বোঝা দরকার। মূল স্রোতের রাজনীতিতে এই অনলাইন আন্দোলন কতটা প্রভাব ফেলবে সেটাও ভাবার বিষয়। অভিজিৎ দীপকে নিজে এক সময় আপ-এ জড়িত ছিলেন। গোটা বিষয়টিতে যে সাড়া মিলেছে সেটা মূলস্রোতের রাজনৈতিক দলের থেকে পৃথক অবস্থানগত দিক থেকে।’’ বেবি এ কথাও বলেন, ‘‘সমাজমাধ্যমে সিজেপি-র হ্যান্ডল যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেটা আমরা পুরোপুরি নিন্দা করছি। এটা একেবারেই করা উচিত নয়।’’