ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
অটোয় ছিলেন তিন মহিলা যাত্রী। হঠাৎ করে একটি গাড়ি সেই অটোটিকে ধাওয়া করতে শুরু করে। গাড়িটি বার বার অটোটিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করতে থাকে। গাড়ির দিকে নজর পড়তেই চমকে ওঠেন অটোতে থাকা এক মহিলা যাত্রী। গাড়িতে বসে থাকা দুই সওয়ারি সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় বসে রয়েছেন। রাস্তায় বার বার তাঁদের অটোকে অতিক্রম করে ও আটকে দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিল গাড়িটি। সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো প্রকাশ করে তাঁর সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন অটোয় থাকা তরুণী যাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে নয়ডায়। সমাজমাধ্যমে এই ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে নেটমাধ্যমে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। পরে ভিডিয়োটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ইনস্টাগ্রাম থেকে। যদিও সেই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
দীপিকা নামের এক তরুণী তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা ভিডিয়োয় ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। কী ভাবে বিকেলে নয়ডায় অটোতে ভ্রমণ করার সময় তিনি ও আরও দুই মহিলা সহযাত্রী বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই অভিজ্ঞতাই ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। মাত্র দশ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে গিয়ে তাঁরা দেখেন একটি গাড়িতে তিন জন যাত্রী রয়েছেন। এক জন চালক। বাকি দু’জন নগ্ন হয়ে গাড়িতে বসে আছেন। তাঁদের এক জন সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় সামনের আসনে বসে ড্যাশবোর্ডের ওপর পা তুলে শুয়ে আছেন। বাকি যাত্রী পিছনের আসনে। অটোয় বসে থাকা মহিলাদের দেখে তাঁরা ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে হাসতে শুরু করেন। পিছনের আসনে এক পুরুষ বসেছিলেন। যদিও তাঁর মুখ স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছিল না। ভিডিয়োয় তরুণী অভিযোগ করেন যে গাড়ির আরোহীরা তাঁদের অটোর চারপাশে বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। এর ফলে মহিলা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তরুণীকে ভিডিয়োয় বলতে শোনা যায়, ‘‘গাড়িটা অটোরিকশার সামনে এনে সেখানে থামিয়ে দেওয়া হয়। আমরা তিন জনই মহিলা ছিলাম এবং আমরা ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমরা শুধু নিজেদের বাঁচানোর কথাই ভাবছিলাম। আমি এই ভিডিয়োটি শুধু আপনাদের এটা বলার জন্যই তৈরি করেছি। আপনি যদি নয়ডায় কর্মরত নারী হন, তা হলে দয়া করে নিজের নিরাপত্তার খেয়াল রাখুন। রাত ২টোর সময়ও নিরাপদ নয়, দুপুর ২টোর সময়ও নিরাপদ নয় শহরটি।” ভিডিয়োটি দ্রুত অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায় এবং বেশ কয়েক জন ব্যবহারকারী নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ক্ষোভ, ভয় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
এক নেটাগরিক প্রশ্ন তুলেছেন, “আপনি কি ঘটনাটি রেকর্ড করেছেন বা অন্তত পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন? যদি না করে থাকেন, তবে আপনার তা করা উচিত। পুলিশ যদি এদের না থামায়, তবে এই লোকগুলো তাদের এই ধরনের আচরণ চালিয়ে যাবে।’’ তবে আর এক জন নেটাগরিক প্রশ্ন তুলেছেন, “এটা খুব ভাল যে তিনি সচেতনতা ছড়াচ্ছেন, কিন্তু পরে ঠিক কী ঘটেছিল তা তিনি বলছেন না, পুরো ঘটনা না জেনে কী ভাবে বিশ্বাস করা যায়?’’