জঙ্গি হামলার পর পহেলগাঁও। —ফাইল চিত্র।
পহেলগাঁওয়ের হত্যালীলার সঙ্গে পাকিস্তান সেনা বা সরকারের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ এই বিষয়ে কোনও তথ্য দেয়নি। তবে তারা এই ঘটনার চার্জশিটে পহেলগাঁওকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে যাঁর নাম উল্লেখ করেছে, সেই সইফুল্লা কাসুরি ওরফে সাজিদ সইফুল্লাকে দেখা গেল পাকিস্তানের মাটিতে! পাকিস্তানের এক স্কুলের অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করার সময় জানান, পাক সেনাবাহিনীর থেকে তিনি নিয়মিত আমন্ত্রণ পান! আরও দাবি করেন, ভারত তাঁকে ভয় পায়।
পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড নিয়ে এনআইএ চার্জশিট জমা দিয়েছে। তাতে পাকিস্তানি জঙ্গি সাজিদ সইফুল্লাকে মূল ষড়যন্ত্রকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি পাক জঙ্গিগোষ্ঠী লশকর-এ-ত্যায়বার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-এর প্রধান। সম্প্রতি তাঁরই এক ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। ভিডিয়োয় কোনও তারিখ উল্লেখ নেই। তবে দাবি করা হয়েছে, সেটি পাকিস্তানের এক স্কুলের অনুষ্ঠানের। সেই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সইফুল্লা। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘পাক সেনা আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। নিহত পাক সেনাদের জনাজার নমাজ় পাঠ করার জন্য আমন্ত্রণ জানায়।’’
পহেলগাঁওকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী সইফুল্লা কাসুরি ওরফে সাজিদ সইফুল্লা। —ফাইল চিত্র।
পাক সেনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি সইফুল্লা ভারত নিয়েও মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, ভারত তাঁকে ভয় পায়। এ-ও জানিয়েছেন, কাশ্মীরের উপর তাঁর সংগঠনের কাজে তিনি মনোযোগী হবেন। তাঁর দল কখনওই ‘কাশ্মীর মিশন’ থেকে পিছপা হবে না! ভারতের সিঁদুর অভিযানে জঙ্গিঘাঁটিগুলি ধ্বংস হয়েছে তা আগেই স্বীকার করেছিলেন সইফুল্লা। হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেছিলেন, ‘‘ভারত ভুল করেছে।’’ পঞ্জাব প্রদেশের কাসুরের এক সমাবেশে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘‘পহেলগাঁও হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে আমাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমার নাম এখন গোটা বিশ্ব জানে।’’
পাকিস্তানের কাসুরের বাসিন্দা সইফুল্লা। পহেলগাঁওকাণ্ডের চার্জশিটে সেই বিষয়টি উল্লেখ করে এনআইএ জানিয়েছে, তাঁর মাথার দাম ১০ লক্ষ। তাঁকে ধরার ব্যাপারে তথ্য দিতে পারলে মিলবে এই আর্থিক পুরস্কার। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) অধীনে তাঁকে নিষিদ্ধ জঙ্গি হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। পাক সেনার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের আগেও ‘প্রমাণ’ মিলেছে। পহেলগাঁও হামলার তদন্তের সময় জানা গিয়েছিল, পাক সেনায় যথেষ্ট ‘প্রভাব’ ছিল সইফুল্লার। পহেলগাঁও হামলার মাস দুই আগে পাকিস্তানের পঞ্জাবের কাঙ্গলপুরে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। সেই সইফুল্লা এ বার সরাসরি পাক সেনার থেকে আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করলেন।