India Pakistan Tension

তেজস্ক্রিয় পদার্থ চুরি হয়ে যাচ্ছে ভারত থেকে, রাজনাথের ‘পরমাণু’ মন্তব্যের পর পাল্টা দাবি পাকিস্তানের

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর বৃহস্পতিবার প্রথম জম্মু-কাশ্মীরে গিয়েছিলেন রাজনাথ। সেখান থেকে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৫ ১৭:৪৮
Pakistan condemns Indian Defence Minister Rajnath Singh’s comment

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের মন্তব্যের পর বিবৃতি পাকিস্তানের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

পাকিস্তানের হাতে পরমাণু অস্ত্র রাখা নিরাপদ কি না, প্রশ্ন তুলেছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তার বিরোধিতা করে এ বার পাকিস্তান পাল্টা দাবি করল, ভারতে পরমাণু অস্ত্রভান্ডার আদৌ নিরাপদ নয়! তাদের দাবি, ভারত থেকে পারমাণবিক এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ চুরি হয়ে যাচ্ছে। এই সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাই আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিও তুলেছে ইসলামাবাদ।

Advertisement

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর বৃহস্পতিবার প্রথম জম্মু-কাশ্মীরে গিয়েছিলেন রাজনাথ। সেখান থেকে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেছেন, ‘‘গোটা বিশ্বের কাছে আমার প্রশ্ন, এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং দুর্বৃত্তপরায়ণ দেশের হাতে পরমাণু অস্ত্র কি নিরাপদ?” পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি বা আইএইএ) নজরদারির আওতায় রাখা উচিত বলেও জানান রাজনাথ। এর পরেই বিকেলে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, ‘‘পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, আমরা তার তীব্র বিরোধিতা করছি। কোনও পারমাণবিক ব্ল্যাকমেল ছাড়াই আমরা ভারতকে প্রতিহত করতে পারি।’’ রাজনাথের মন্তব্যকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ও বলেছে ইসলামাবাদ।

ভারতের পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তা নিয়ে এর পর পাল্টা প্রশ্ন তোলে পাকিস্তান। তারা বলেছে, ‘‘ভারতে পারমাণবিক ও তেজস্ক্রিয় পদার্থ চুরি হয়ে যাচ্ছে, অবৈধ ভাবে তা পাচার হয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সে বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা উচিত।’’ ভারতে এই ধরনের চুরি ও পাচারের ঘটনার কিছু উদাহরণ দিয়েছে পাক বিদেশ মন্ত্রক। তাদের দাবি, গত বছরই দেহরাদূনের ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার থেকে চুরি গিয়েছিল একটি তেজস্ক্রিয় ডিভাইস। সেই ঘটনায় পাঁচ জন ধরা পড়েছিলেন। পরে তেজস্ক্রিয় ও বিষাক্ত ক্যালিফর্নিয়াম নিয়ে আরও এক দল মানুষ ধরা পড়েন। ২০২১ সালে ক্যালিফর্নিয়াম চুরির এমন তিনটি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল বলে দাবি পাকিস্তানের। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘এই সমস্ত ঘটনা ভারতে কালোবাজারির ইঙ্গিত দেয়। পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তার জন্য এই ঘটনাগুলির বিস্তারিত তদন্ত চায় পাকিস্তান।’’

উল্লেখ্য, ভারত এবং পাকিস্তান, উভয়েই পরমাণু শক্তিধর দেশ। সম্প্রতি তাদের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাল্টা সীমান্তে গোলাবর্ষণ করে পাকিস্তানও। গত ১০ মে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষবিরতির সমঝোতা হয়েছে। তার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশে ভাষণে জানিয়েছিলেন, পরমাণু অস্ত্রের হুমকি দিয়ে লাভ হবে না। ভারতের সেনা ওই হুমকি প্রতিহত করেছে। তার পরেই কাশ্মীরে গিয়ে পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে মন্তব্য করেন রাজনাথ।

Advertisement
আরও পড়ুন