অসমে সুখোই বিমান ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ফ্লাইট লেফ্টেন্যান্ট পূর্বেশ দুরাগকরের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
অসমের জঙ্গলে সুখোই এসইউ-৩০ যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পূর্বেশ দুরাগকরের। তিনি গত বছর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনার অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এও শামিল ছিলেন। এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর বাবা রবীন্দ্র দুরাগকর। পূর্বেশের মৃত্যুতে হাহাকার নেমে এসেছে পরিবারে। বাবা জানিয়েছেন, আগামী দু’বছরের মধ্যে পূর্বেশের বিয়ে দেবেন ভেবেছিলেন। সেই সাধ অপূর্ণ রয়ে গেল।
পূর্বেশের মৃত্যুর কথা শুক্রবার সকালেই জানতে পারে তাঁর পরিবার। তাঁর বাবা রবীন্দ্র রেলে চাকরি করতেন। তিনি সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, ‘‘আমার ছেলে অপারেশন সিঁদুর-এ ছিল। আমরা সে সব জানতামও না। ওই সময় দীর্ঘ দিন ছেলের কাছে ফোনই ছিল না। অভিযানের ১৫ দিন পরে পুরো বিষয়টা জানতে পারি। ছেলের সঙ্গে দীর্ঘ দিন কথা হচ্ছিল না বলে আমরা সকলে খুব চিন্তায় ছিলাম।’’ মৃত্যুসংবাদ জানার পর কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন রবীন্দ্র। তিনি বলেন, ‘‘সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ আমরা জানতে পারি, ও আর নেই। ৭টা ৫০ মিনিটে ওদের গ্রুপ ক্যাপ্টেন খবরটি নিশ্চিত করলেন। আমার ছেলে দেশসেবার কাজে নিয়োজিত ছিল। বাকিদেরও তা থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া উচিত। ওর স্বপ্ন তো পূরণ হয়েছিল। তবে যে ভাবনা নিয়ে দেশসেবার কাজে ও যোগ দিয়েছিল, তা সম্পূর্ণ করতে পারল না। মাত্র চার বছর সময় পেল। এটা দুর্ভাগ্যের।’’ বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন রবীন্দ্র।
মহারাষ্ট্রের নাগপুরের ছেলে ২৮ বছরের পূর্বেশ। একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়ি গিয়েছিলেন ১০ দিন আগে। তখনই শেষ বার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। বাবা জানিয়েছেন, গত বুধবার ছেলের সঙ্গে শেষ বার ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর। যুদ্ধবিমানের পাইলট হিসাবে পূর্বেশ নিজে অত্যন্ত গর্বিত ছিলেন। তাঁকে নিয়ে গর্ব ছিল তাঁর পরিবারের সকলেরও।
গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানে পাল্টা হামলা চালিয়েছিল ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি। এর পর টানা চার দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে সশস্ত্র সেনা সংঘাত চলেছে। সেই অভিযান থেকে বেঁচে ফিরলেও অসমে সুখোই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন পূর্বেশ। জানা গিয়েছে, সুখোইয়ের এই যুদ্ধবিমানটিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তা যোরহাট বায়ুসেনাঘাঁটি থেকে ‘টেক অফ’ করে। ৭টা ৪২ মিনিটে শেষ বার যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা গিয়েছিল। তার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যোরহাট থেকে প্রায় ৬০ কিমি দূরে অসমের কার্বি আংলং এলাকায় তা ভেঙে পড়ে। সকালে দুই পাইলটের দেহ উদ্ধার হয়।