Attack on Iran Warship

দ্বিতীয় ইরানি রণতরীতে ইঞ্জিন বিভ্রাট! ২০৪ জনকে উদ্ধার শ্রীলঙ্কার নৌসেনার, জাহাজ মাঝসমুদ্রেই

শ্রীলঙ্কার নৌসেনা জানিয়েছে, ইরানের আইআরআইএনএস বুশেহ্‌র যুদ্ধজাহাজটিতে মোট ২০৮ জন ছিলেন। ২০৪ জনকে উদ্ধার করে কলম্বোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৬ ১২:৩১
ইরানের দ্বিতীয় যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএনএস বুশেহ্‌র আটকে ভারত মহাসাগরে।

ইরানের দ্বিতীয় যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএনএস বুশেহ্‌র আটকে ভারত মহাসাগরে। ছবি: এক্স।

ভারত মহাসাগরে ইরানের দ্বিতীয় রণতরীতে ইঞ্জিন বিভ্রাট দেখা গিয়েছে। ফলে জাহাজটি মাঝসমুদ্রে আটকে পড়েছে। সেখান থেকে ২০৪ জন উদ্ধার করে নিরাপদে কলম্বোতে নিয়ে গিয়েছে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী। তবে জাহাজটিকে সরানো যায়নি। তাকে উপকূলের কাছাকাছি আনতে এবং নিকটবর্তী বন্দরে নোঙর করাতে এখনও দু’দিন লাগতে পারে। জাহাজে রয়েছেন চার জন ইরানি নাবিক।

Advertisement

শ্রীলঙ্কার নৌসেনা জানিয়েছে, ইরানের আইআরআইএনএস বুশেহ্‌র যুদ্ধজাহাজটিতে মোট ২০৮ জন ছিলেন। ২০৪ জনকে উদ্ধার করে কলম্বোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ওয়েলিসারা নৌঘাঁটিতে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হবে এবং শারীরিক পরীক্ষা করানো হবে। তার পর দেশে ফেরানোর বন্দোবস্ত করা হবে ওই ইরানি নাগরিকদের। তবে জাহাজটি কলম্বো থেকে দূরে মাঝসমুদ্রে রয়েছে। তার নিকটবর্তী বন্দর ত্রিঙ্কোমালি। সেখানে পৌঁছোতে আরও অন্তত দু’দিন লাগতে পারে।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা দিশানায়েকে বৃহস্পতিবার জানান, ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় ইরানের বুশেহ্‌র যুদ্ধজাহাজ তাদের জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি চেয়েছিল। মানবিক কারণে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর নেপথ্যে কোনও রাজনীতি নেই। তিনি বলেন, ‘‘আমরা নিরপেক্ষ থেকে মানবিক ভাবে বিষয়টির মোকাবিলা করতে চেয়েছিলাম। কারণ প্রতিটি প্রাণ আমাদের কাছে মূল্যবান। কারও মৃত্যু কাম্য নয়।’’ শ্রীলঙ্কার নৌসেনার তথ্য বলছে, দ্বিতীয় ইরানি জাহাজটিতে ৫৩ জন অফিসার, ৮৪ জন ক্যা়ডেট, ৪৮ জন সিনিয়র নাবিক এবং ২৩ জন সাধারণ নাবিক ছিলেন।

ভারত থেকে ফেরার পথে শ্রীলঙ্কার কাছে ভারত মহাসাগরের উপর ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইরিশ ডেনায় হামলা চালায় আমেরিকা। মার্কিন টর্পেডো হামলায় জাহাজটি ডুবে গিয়েছে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সেই উদ্ধারকাজে হাত লাগায় ভারতীয় সেনাও। এখনও পর্যন্ত ৮৪ জনের দেহ উদ্ধার করা গিয়েছে। তাঁদের দেহ ইরানে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে শ্রীলঙ্কা সরকারের সঙ্গে। এই হামলার পরেই ইরানের দ্বিতীয় জাহাজটি কলম্বোয় আশ্রয় চেয়েছিল। পরে তাতে ইঞ্জিন বিভ্রাট দেখা যায়। দ্বিতীয় জাহাজটিও মার্কিন হামলা নিয়ে আতঙ্কে ছিল। আপাতত সেই জাহাজের অধিকাংশ আরোহীকেই নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন