হোয়াইট হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
ফের মুখোমুখি বসছেন নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সে জি-৭ গোষ্ঠীর বৈঠক রয়েছে। সেখানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে যোগ দেবেন মোদীও। সূত্রের খবর, ওই সময়েই জি-৭ পার্শ্ববৈঠকে মুখোমুখি বসবেন মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেওয়ার পরে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকায় গিয়েছিলেন মোদী। তার পর থেকে এই প্রথম বার মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন দুই রাষ্ট্রনেতা।
বিশ্বের সাত ‘শক্তিধর’ দেশের জোট আগামী ১৬-১৭ জুন ফ্রান্সে বৈঠকে বসছে। ভারত এই জোটের সরাসরি সদস্য নয়। তবে আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে ডাকা হয় প্রধানমন্ত্রী মোদীকেও। গত বছরও কানাডায় জি-৭ সম্মেলনে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, এ বারের জি-৭ বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন পশ্চিম এশিয়ায় এক অস্থিরতা তৈরি হয়ে রয়েছে। এই অস্থিরতা কাটিয়ে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেও, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সম্প্রতি ওমান উপসাগরে এক ভিন্দেশি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নিহত হয়েছেন। তার প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছিল ভারত সরকার। এমন এক পরিস্থিতিতে মোদী-ট্রাম্প মুখোমুখি বৈঠকে কী কী বিষয় উঠে আসে, তা নিয়ে কৌতূহল বৃদ্ধি পেয়েছে জনমানসে।
উল্লেখ্য, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে গত প্রায় এক বছর ধরে দফায় দফায় আলোচনা চলেছে। প্রাথমিক রূপরেখাও তৈরি হয়ে গিয়েছে। এ অবস্থায় আগামী সপ্তাহে দুই রাষ্ট্রনেতা মুখোমুখি বসলে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনও আলোচনা হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন জেগেছে বিভিন্ন মহলে। এ বিষয়ে মার্কিন আধিকারিক সূত্রে এএনআই জানাচ্ছে, সম্ভবত বাণিজ্যচুক্তির বিষয়েও আলোচনা হতে পারে উভয়ের। কয়েক সপ্তাহ আগেই মার্কিন বাণিজ্য-প্রতিনিধিদল ভারত থেকে ঘুরে গিয়েছে। তার আগে ভারতীয় প্রতিনিধিদলও আমেরিকায় গিয়েছিল।
মোদী এবং ট্রাম্পের মধ্যে ব্যক্তিগত স্তরে সম্পর্ক বরাবরই ভাল। তবে মার্কিন শুল্ক নীতি এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বিভিন্ন দাবি ঘিরে দু’দেশের মধ্যে চাপানউতর তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্প বার বার দাবি করেছেন, সংঘর্ষবিরতিতে তিনি মধ্যস্থতা করেছেন। তবে ভারতও প্রত্যেক বার স্পষ্ট করেছে, সংঘর্ষবিরতিতে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছিল না। যদিও দুই ‘বন্ধু’র মধ্যে সম্পর্কে দৃশ্যত কোনও ছাপ পড়েনি তাতে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রিত্বের ১২ বছর পূর্তিতে মোদীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্প। এ অবস্থায় মোদী-ট্রাম্প বৈঠক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।