(বাঁ দিকে) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
ধ্বনিভোটে খারিজ হয়েছে তাঁর অপসারণ-প্রস্তাব। ফের লোকসভায় সভা পরিচালনা করেছেন স্পিকার ওম বিড়লা। তা নিয়ে এ বার বিড়লাকে চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্পিকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা ওই অনাস্থা প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়েছেন মোদী। ওই অনাস্থা প্রস্তাবকে ‘রাজনৈতিক অপকর্ম’ বলে বিঁধেছেন মোদী।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর দাবি, ব্যক্তিস্বার্থ পূরণের উদ্দেশেই ওই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল। কংগ্রেসকে বিঁধে তিনি লেখেন, “পরিবারতান্ত্রিক মানসিকতায় ডুবে থাকা কিছু ব্যক্তি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিজেদের সংকীর্ণ পরিসরে সীমিত রাখতে চায়।”
বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব গত বুধবারই ধ্বনিভোটে খারিজ হয়ে যায়। তার পরে গত বৃহস্পতিবারই লোকসভায় বক্তৃতা করেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘‘স্পিকারের আসন কোনও ব্যক্তির নয়। বরং এটি সংসদের মর্যাদার প্রতীক। কোনও সদস্যের কাছে গ্রহণযোগ্য হোক বা না হোক, লোকসভা নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী চলবে।” অনেকেই মনে করেন, বিরোধী শিবিরের উদ্দেশেই ওই বার্তা দেন বিড়লা। এ বার বিরোধীদের আনা ওই অনাস্থা প্রস্তাবের নিন্দা জানালেন মোদীও।
হিন্দিতে লেখা ওই চিঠিতে মোদী লেখেন, “লোকসভায় আপনার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবটি খারিজ হয়ে গিয়েছে। আমি এর জন্য সাংসদদের অভিনন্দন জানাই। তাঁরা এই রাজনৈতিক অপকর্মকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অনাস্থা প্রস্তাব খারিজের পরে সংসদে আপনি যে বক্তৃতা করেছেন, তা আমি মনযোগ দিয়ে শুনেছি।” প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, বিড়লার ওই দিনের বক্তৃতা শুধু নির্দিষ্ট একটি মুহূর্তের প্রতিক্রিয়া ছিল না। এটি দেশের সংসদীয় ঐতিহ্য এবং গণতন্ত্রের গভীরতাকেও ব্যাখ্যা করে বলে দাবি মোদীর।
বিড়লাও রবিবার সব দলের লোকসভার দলনেতাদের চিঠি পাঠিয়েছেন। লোকসভার ভিতরে সাংসদদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত, তা ওই চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। অধিবেশন কক্ষে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড এবং পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ এবং কী ধরনের শব্দপ্রয়োগ হচ্ছে— তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিড়লা। প্রতেক দলের নেতাকে লোকসভায় নিজের দলের সাংসদদের শৃঙ্খলা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়ার জন্য বলেছেন তিনি।