গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
নয়াদিল্লিতে রবিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্য ও এক কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেই ঘোষণার আবহেই পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক মহলে বড়সড় বদলির নির্দেশ জারি করল রাজ্য সরকার। নবান্নের প্রশাসনিক ও কর্মিবর্গ দফতরের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে একঝাঁক আধিকারিকের বদলির কথা জানানো হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই তালিকায় রয়েছেন মোট ১১ জন আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিক এবং ১০৯ জন ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার আধিকারিকদের যেমন বদলি করা হয়েছে, তেমনই জেলার প্রশাসনিক স্তরেও বড়সড় রদবদল করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি জেলার জেলাশাসক (ডিএম), অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম) এবং ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) পর্যায়ের আধিকারিকদেরও অন্যত্র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে এই বদলির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা। কারণ, নির্বাচন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়ে যায় আদর্শ আচরণবিধি। ফলে প্রশ্ন উঠছে— ভোট ঘোষণার পরে প্রকাশ্যে আসা এই বদলির নির্দেশ আদৌ কার্যকর করা যাবে কি না।
এ বিষয়ে নবান্নের এক শীর্ষ আধিকারিকের বক্তব্য, এই বদলির নির্দেশ আসলে নির্বাচন ঘোষণার অনেক আগেই জারি করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, বিকেলে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার আগে থেকেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল এবং সেই কারণেই এ ক্ষেত্রে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনও প্রশ্ন নেই।
অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করবে নির্দেশ জারির সময় এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের যোগদানের অবস্থার উপর। কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, যদি কোনও আধিকারিকের বদলির নির্দেশ নির্বাচন ঘোষণার আগে জারি করা হয়ে থাকে কিন্তু তিনি এখনও নতুন পদে যোগ না দিয়ে থাকেন, তা হলে সেই নির্দেশ কার্যকর করতে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিতে হবে।
ফলে প্রশাসনিক স্তরে জারি হওয়া এই বদলি নিয়ে আপাতত কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কমিশনের অনুমতি ছাড়া নতুন দায়িত্বে যোগ দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোট ঘোষণার ঠিক আগে বা পরে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। অতীতেও বিভিন্ন নির্বাচনের আগে এই ধরনের বদলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নির্ধারণ করে থাকে নির্বাচন কমিশনই। এখন দেখার বিষয়, নবান্নের জারি করা এই বদলির নির্দেশগুলি নিয়ে কমিশন কোনও হস্তক্ষেপ করে কি না, নাকি প্রশাসনের দেওয়া ব্যাখ্যাই শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়।