যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয়ভানু চিব। মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। —ফাইল চিত্র।
জামা খুলে বিক্ষোভকাণ্ডে এ বার গ্রেফতার করা হল যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয়ভানু চিবকে। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার থেকেই দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছিল তাঁকে। শেষে মঙ্গলবার সকালে তাঁকে গ্রেফতারির খবর প্রকাশ্যে আসে।
দিল্লিতে কৃত্রিম মেধা সম্মেলন চলাকালীন যুব কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের জামা খুলে বিক্ষোভের ঘটনায় ইতিমধ্যে পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন যুব কংগ্রেস কর্মীকে। উদয়ভানুকে নিয়ে এই ঘটনায় মোট আট জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এর আগে যে সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে শুরুতেই ধরা পড়েন চার জন। সোমবার মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়র থেকে পাকড়াও করা হয় আরও তিন জনকে। উত্তরপ্রদেশ যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রিতিক ওরফে মন্টি শুক্লকেও ললিতপুর থেকে আটক করা হয়।
এ বার ওই ঘটনার তদন্তে যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতিকেও গ্রেফতার করা হয়। জানা যাচ্ছে, সোমবারই দিল্লির তিলক মার্গ থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল উদয়ভানুকে। প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরে মঙ্গলবার ভোরের দিকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে পতিয়ালা হাউস কোর্টে পেশ করা হলে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
গত শুক্রবার কৃত্রিম মেধা সম্মেলন চলাকালীন ভারত মণ্ডপমের ভিতরে প্রবেশ করে জামা খুলে বিক্ষোভ দেখান যুব কংগ্রেস কর্মীরা। তাঁদের জামায় যেমন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সমালোচনা লেখা ছিল, তেমনই ছিল ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য-সমঝোতারও সমালোচনা। নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তাঁরা। বস্তুত, ওই সময়ে কৃত্রিম মেধা সম্মেলনের জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অতিথিরা ভারত মণ্ডপমে উপস্থিত ছিলেন। যুব কংগ্রেসের এমন বিক্ষোভ নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছে দিল্লির আদালত।
দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতের পর্যবেক্ষণ, যুব কংগ্রেসের ওই বিক্ষোভ দেশের কূটনৈতিক ভাবমূর্তিকে বিপন্ন করে তুলেছে। আদালত জানায়, গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় ভিন্নমত পোষণের অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে। তবে বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে ভারতের অবস্থানকে খাটো করে বা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করে, এমন আচরণও করা যায় না। কৃত্রিম মেধা সম্মেলন চলাকালীন ওই আচরণ ভিন্নমত পোষণের বৈধ পরিধিকে ছাপিয়ে গিয়েছে বলেই মনে করছে আদালত।
যুব কংগ্রেসের এমন বিক্ষোভ কর্মসূচির নিন্দা করেছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তথা বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্যতম শরিক তৃণমূলও। রাজ্যের শাসকদল মনে করছে, এতে সারা বিশ্বের সামনে দেশের সম্মানহানি হয়েছে। এই ধরনের কর্মসূচিকে ‘দুর্বল বিচারবুদ্ধির প্রতিফলন’ বলে বর্ণনা করেছেন রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।