DU Professor Murder Case

দিল্লির অধ্যাপিকা খুন: অভিযুক্ত দম্পতির বাড়িতে রেলের টিকিট পরীক্ষক এবং পুলিশের ভুয়ো ব্যাজ, জাল টাকা! আর কী উদ্ধার?

সূত্রের খবর, দম্পতির বর্ধমানের বাড়ি থেকে প্রচুর ঘড়ি, একশোটির বেশি জামা, জাল নোট উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়াও পুলিশ এবং রেলের টিকিট পরীক্ষকের (টিসি) ভুয়ো ব্যাজও উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১৭:৪২
Police stunned after seaching the accused\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\'s house of DU Professor\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\'s death case

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেবস্মিতা পাল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দিল্লির অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত দম্পতি রামপ্রসাদ এবং বনশ্রী দাসের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে স্তম্ভিত পুলিশ। সূত্রের খবর, দম্পতির বর্ধমানের বাড়ি থেকে প্রচুর ঘড়ি, একশোটির বেশি জামা, জাল নোট উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়াও পুলিশ এবং রেলের টিকিট পরীক্ষকের (টিসি) ভুয়ো ব্যাজও উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

Advertisement

তদন্তকারীদের সূত্রে আরও দাবি, পুলিশ এবং টিসি-র একটা বা দুটো নয়, বেশ কয়েকটি ভুয়ো ব্যাজ উদ্ধার হয়েছে। বান্ডিল বান্ডিল নোটও মিলেছে। তবে সবক’টিই ভুয়ো। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বান্ডিলগুলির উপরে এবং নীচে আসল টাকার নোট, কিন্তু সেই নোটের মাঝখানে সাদা কাগজ রাখা ছিল। প্রতারণার কোনও চক্রের সঙ্গে দম্পতি জড়়িত ছিলেন কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যে বিপুল সংখ্যক ঘড়ি এবং জামা উদ্ধার হয়েছে, সেগুলির উৎস কী, অভিযুক্ত দম্পতি তার সন্তোষজনক কোনও উত্তর দিতে পারেনি বলেও পুলিশ সূত্রে খবর।

দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সঙ্গে যৌথ ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন অভিযুক্তের পুরনো কোনও অপরাধের রেকর্ড রয়েছে কি না। দিল্লি পুলিশের বিশেষ কমিশনার (আইনশৃঙ্খলা) দেবেশচন্দ্র শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, দুশোর বেশি সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের যাতে কোনও হদিস না পাওয়া যায় তাই অভিযুক্ত দম্পতি তিন বার পোশাক পরিবর্তন করেন। দিল্লিতে পৌঁছোনোর পর পোশাক বদলান। অধ্যাপিকাকে খুনের পর এবং দিল্লি ছেড়ে পালানোর ঠিক আগে। তদন্তকারী সূত্রে খবর, অধ্যাপিকাকে খুনের পর অভিযুক্তেরা ট্যাক্সি ধরে আনন্দ বিহার স্টেশনে পৌঁছোন। সেখানে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করেন। তার পর অটো ধরে নয়াদিল্লি যান। সেখানে গিয়ে আবার পোশাক বদলান। বর্ধমান স্টেশনে পৌঁছোনোর পর সরাসরি না গিয়ে ঘুরপথে বাড়িতে যান। দিল্লিতে যাওয়ার আগে বাজার থেকে ৩০০ মিটার দূরে নিজের স্কুটার দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন রামপ্রসাদ। সেই স্কুটারটি একটি বাড়ির সামনে থেকে উদ্ধার হয়।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার পূর্ব দিল্লির বসুধারা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাট থেকে দেবস্মিতার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর দিদি দেবারতি পুলিশে খবর দেন। জানান, ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। বারবার ফোন করা সত্ত্বেও বোন সাড়া দিচ্ছেন না বলে দেবারতি দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকেছিলেন। দেবস্মিতার দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। তাঁর মাথায় গভীর ক্ষত ছিল। এ ছাড়া, হাতের শিরাও কাটা ছিল। দিল্লিতে একাই থাকতেন দেবস্মিতা। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিবাজি কলেজে পড়াতেন তিনি। বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় ২০২২ সালে স্বামীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয়। বিচ্ছেদের মামলা চলছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। তাঁর স্বামী থাকেন বেঙ্গালুরুতে। বর্ধমানে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বাড়ি ছিল দেবস্মিতার। সেখানেই অভিযুক্ত দম্পতি ভাড়াটে হিসাবে থাকতেন। পুলিশ জানতে পেরেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষছিলেন তাঁরা। ওই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য দেবস্মিতা তাঁদের চাপ দিচ্ছিলেন বলেও দাবি।

Advertisement
আরও পড়ুন