প্রসূন জোশী। —ফাইল চিত্র।
গীতিকার এবং লেখক প্রসূন জোশীকে প্রসার ভারতীর চেয়ারম্যান করল কেন্দ্র। শনিবার এক বিবৃতিতে তাঁর নিয়োগের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। গত ডিসেম্বরে প্রসার ভারতীর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন নবনীতকুমার সেহগল। তাঁর ওই আচমকা ইস্তফার পর থেকে পদটি খালিই পড়ে ছিল। প্রায় পাঁচ মাস পরে প্রসার ভারতীর নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করল কেন্দ্র।
প্রসার ভারতীর মূল শাখা দু’টি— অল ইন্ডিয়া রেডিয়ো এবং দূরদর্শন। এখন থেকে প্রসূনের তত্ত্বাবধানেই চলবে প্রসার ভারতী। তবে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এটিই তাঁর প্রথম অভিজ্ঞতা নয়। এত দিন ‘সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন’ বা সিবিএফসি-র দায়িত্বও সামলে আসছিলেন তিনি। ২০১৭ সালে সিবিএফসি-র চেয়ারম্যান হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছিল তাঁকে। এ বার প্রসার ভারতীর চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ করা হল প্রসূনকে।
প্রসার ভারতীর নতুন চেয়ারম্যান প্রসূনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “প্রসূন জোশী এক বিরল সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব। বিজ্ঞাপন, সাহিত্য, শিল্পকলা এবং চলচ্চিত্র জগতে তিনি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। অথচ তাঁর হৃদয়ে রয়েছে শুধুই ভারত।” প্রসার ভারতীর নতুন চেয়ারম্যানের প্রশংসায় অশ্বিনী জানান, প্রসূনের শব্দচয়নের সঙ্গে দেশের মাটির সুবাস মিশে থাকে। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারতীয় সংস্কৃতির নির্যাস প্রতিফলিত হয়। প্রসূনের নেতৃত্বে প্রসার ভারতী এক নতুন সৃজনশীল কণ্ঠস্বর খুঁজে পাবে বলেও জানান কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী। কেন্দ্রের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাহিত্য, বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদান রয়েছে প্রসূনের।
প্রসার ভারতীতে প্রসূনের পূর্বসূরি নবনীতের আচমকা ইস্তফা ঘিরে বিস্তর আলোচনা হয়েছিল গত বছরে। মায়াবতী, অখিলেশ যাদব এবং আদিত্যনাথ— তিন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই অবসরপ্রাপ্ত আমলা। অবসরের পরে ২০২৪ সালে তাঁকে প্রসার ভারতীর চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। কিন্তু দু’বছর পূরণ হওয়ার আগেই গত বছরের ডিসেম্বরে আচমকা ইস্তফা দেন নবনীত। এ বার প্রসূনের তত্ত্বাবধানে প্রসার ভারতী কোন দিশায় এগোয়, সে দিকে নজর থাকবে।