চেন্নাইয়ের ক্রিকেটারদের উল্লাস। ছবি: পিটিআই।
দুই দল মোট ১০ বার ট্রফি জিতেছে। তাই আইপিএলে চেন্নাই বনাম মুম্বই দ্বৈরথ বাকি সব ম্যাচের থেকেই আলাদা। সমর্থকেরা এই ম্যাচকে ডাকেন ‘আইপিএলের এল ক্লাসিকো’ বলে। দু’দলের কাছেই এটি সম্মানের লড়াই। তবে এ বারের আইপিএলে সেই লড়াইয়ে একচ্ছত্র দাপট চেন্নাইয়ের। ওয়ানখেডে স্টেডিয়ামে জেতার পর এ বার চিদম্বরম স্টেডিয়ামেও জিতল চেন্নাই। দু’বারই তারা হারাল মুম্বইকে। শনিবারের জয় এসেছে সাত উইকেটে।
টসে জিতে হার্দিক পাণ্ড্য কেন আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেটা তিনিই বলতে পারবেন। তবে এই হারের ফলে চাপ যে আরও বাড়ল তাতে সন্দেহ নেই। প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা দল থাকা সত্ত্বেও প্লে-অফে মুম্বইয়ের ওঠার দৌড় কার্যত শেষ। বাকি সব ম্যাচ জিতলেও বিশেষ লাভ হবে না। আর এই মুম্বই বাকি সব ম্যাচ জিততে পারবে এমন আশাও কেউ করছেন না। এ দিন প্রথমে ব্যাট করে মুম্বই তুলেছিল ১৫৯/৭। জবাবে রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের অর্ধশতরানের সৌজন্যে ৮ উইকেট বাকি থাকতে সেই রান তুলে নিল চেন্নাই।
চিদম্বরম স্টেডিয়ামে সাধারণত ঘূর্ণি পিচ হলেও এ বার নিয়মিত ২০০ রান উঠেছে। এ দিনও ২১০ রান ওঠার ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল। কিন্তু মুম্বই তার ধারেকাছেও যেতে পারেনি। শুরু থেকে উইকেট হারানো তার অন্যতম কারণ। চেন্নাইয়ের ব্যাটারেরা ধৈর্য দেখিয়ে ম্যাচ বার করে নিয়েছেন।
১৬০ রান তাড়া করতে নেমে নজর ছিল সঞ্জু স্যামসনের দিকে। দু’টি চার মেরে শুরুটা ভাল করলেও ক্রিজ়ে বেশি ক্ষণ টিকতে পারেননি সঞ্জু। ৯ বলে ১১ করে জসপ্রীত বুমরাহের বলে ফেরেন। তার আগে একটি ক্যাচও পড়ে। সঞ্জু ফিরলেও রানের গতি বাড়াতে সাহায্য করেন রুতুরাজ এবং উর্বিল পটেল। তরুণ উর্বিল অনেক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলেছেন। কৃষ ভগতকে একটি ওভারে দু’টি ছয় এবং একটি চার মারেন। আল্লা গজনফরকে মারতে গিয়ে উইকেট হারান।
১৪.২ কোটি টাকায় কেনা কার্তিক শর্মাকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন রুতুরাজ। আস্কিং রেট বেশি ছিল না। তাই দু’জনের খেলার মধ্যে তাড়াহুড়োও খুব একটা দেখা যায়নি। রুতুরাজ তা-ও একটু চালিয়ে খেলছিলেন। কার্তিক মন দিয়েছিলেন এক দিক ধরে রাখার কাজে। দিনের শেষে দু’জনেই অপরাজিত থাকলেন। রুতুরাজ করলেন ৬৭ রান। কার্তিক অপরাজিত থাকলেন ৫৪ রানে।
ওপেনিংয়ে দুই বিদেশিকে নামিয়েছিল মুম্বই। রায়ান রিকেলটনের সঙ্গে ছিলেন উইল জ্যাকস। দ্বিতীয় ওভারেই অংশুল কম্বোজের বল তুলে মারতে চান জ্যাকস। ক্যাচ ধরেন অভিষেককারী রামকৃষ্ণ ঘোষ। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি হয় রিকেলটন এবং নমন ধীরের মধ্যে। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দেন তাঁরা। রিকেলটনই আগ্রাসী খেলছিলেন। মুকেশ চৌধরিকে এক ওভারে দু’টি ছয় মারার পর পঞ্চম ওভারে প্রশান্ত বীরকে টানা তিনটি ছয় মারেন।
সপ্তম ওভারে রিকেলটনের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন শিবম দুবে। তবে দু’বল পরেই উর্বিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন প্রোটিয়া রিকেলটন (৩৭)। সেই মুহূর্তে লম্বা জুটি দরকার ছিল মুম্বইয়ের। নমনের সঙ্গে জুটি বেঁধে সূর্যকুমার খারাপ খেলছিলেন না। কিন্তু ১২ বলের বেশি ক্রিজ়ে টিকতে পারেননি। তিনটি চার এবং একটি ছয় মেরে ফিরে যান ২১ রান করে। ব্যর্থ তিলক বর্মাও (৫)।
পর পর দু’টি উইকেট হারিয়ে কমে যায় মুম্বইয়ের রানের গতি। তার মধ্যেই অর্ধশতরান করেন নমন। শেষ পর্যন্ত চারটি চার এবং তিনটি ছয় মেরে ৩৭ বলে ৫৭ করে তিনি ফেরেন সাজঘরে। হার্দিক খুবই ধীরগতিতে খেলছিলেন। তিনি ২৩ বলে ১৮ করেন। চেন্নাইয়ের হয়ে তিনটি উইকেট নেন কম্বোজ। দু’টি উইকেট নূর আহমেদের।