খামেনেই-হত্যার প্রতিবাদ লখনউয়ে। রবিবার। পিটিআই।
সাম্প্রতিক কালের বৃহত্তম প্রতিবাদ ও জমায়েত দেখল কাশ্মীর উপত্যকা। আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে।
রবিবার সকালে খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়াতেই শ্রীনগরের লাল চকে জমা হতে থাকেন মানুষ। তাঁদের হাতে ছিল প্রয়াত ধর্মীয় নেতার ছবি। শোক প্রকাশের পাশাপাশি আমেরিকা ও ইজ়রায়েল বিরোধী স্লোগান ওঠে। বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে নিরাপত্তা। কাল, সোমবার হুরিয়াত কনফারেন্সের চেয়ারম্যান মিরওয়াইজ ওমর ফারুক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন উপত্যকার সাধারণ মানুষকে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কার্ফুর সমতুল্য কড়াকড়ি কার্যকর করার ভাবনাচিন্তা করছে সরকার। ইতিমধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবায় নিয়ন্ত্রণ টানা হয়েছে। সাধারণ মানুষের উদ্দেশে সংযত আচরণের আবেদন জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও। ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, তাঁর প্রশাসন বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। রাজ্যের অনেক পড়ুয়া ইরানে রয়েছেন। তাঁদের নির্বিঘ্নে দেশে ফেরানোই এখন তাঁর লক্ষ্য। পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি খামেনেইকে হত্যার নিন্দা করেছেন। নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন ইরানকে।
শ্রীনগরের সোনওয়ারে রাষ্ট্রপুঞ্জের সেনা পর্যবেক্ষণ বিভাগের দফতর রয়েছে। তার বাইরেও বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। উদ্দেশ্য ছিল সেই সংস্থার আধিকারিকদের হাতে একটি দাবিপত্র তুলে দেওয়া। কিন্তু দফতরের বাইরে বিপুল নিরাপত্তা মোতায়েন ছিল। আর ওই দফতর থেকে কেউ বাইরেও আসেননি। ফলে বিক্ষোভকারীরা দাবিপত্র জমা দিতে না পারলেও টানা দাঁড়িয়েছিলেন সেখানে। রাস্তা অবরোধ করে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল বিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। বড় মাপের বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়েছে বারামুলা ও বান্দিপোরায়। বারামুলা-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক অবরোধ হয়। বিক্ষোভ ছড়িয়েছে উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায়।
প্রতিবাদ হয়েছে দক্ষিণের দুই রাজ্য তেলঙ্গানা এবং কর্নাটকে। এ দিন সকালে অল্প সময়ের মধ্যে সমাজমাধ্যমের সাহায্যে প্রচার চালিয়ে পুরনো হায়দরাবাদের ইবনে খাতুনের সমাধিস্থলের কাছে বড় জমায়েত করেন শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। কালো পোশাক পরে পুরুষ, মহিলা ও শিশু সকলেই যোগ দিয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, এই শহরের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগ পুরনো। কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে চিক্কাবল্লাপুর জেলার আলিপুরে শিয়া সম্প্রদায়ের প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। তাঁরা সমাবেশ করেছেন সেখানে। জানিয়েছেন, তিন দিনের শোক পালন করবেন তাঁরা। ইরানের সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক উত্তরপ্রদেশের লখনউয়েরও। সেখানেও এ দিন শোক পালন করে মুসলিম সংগঠনগুলি। অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সোনাল ল’ বোর্ডের
উদ্যোগে ছোটা ইমামবাড়ায় শোক সমাবেশ হয়েছে। সংগঠনের সম্পাদক মৌলানা ইয়াসুব আব্বাস জানান, তাঁরাও তিন দিনের শোক
পালন করছেন।