(বাঁ দিক থেকে) রাহুল গান্ধী, রাজনাথ সিংহ এবং অমিত শাহ। —ফাইল চিত্র।
প্রাক্তন সেনাপ্রধানের অপ্রকাশিত বই ঘিরে শোরগোল লোকসভায়। সংসদে ওই বইয়ের একাংশ রাহুল গান্ধী পড়তে শুরু করতেই ‘বাধা’ দেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তিনি যুক্তি দেন যে, অপ্রকাশিত বই সংসদে উদ্ধৃত করতে পারেন না রাহুল। রাহুল অপ্রকাশিত বইয়ের অংশ কেন পড়ছেন, সেই প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ও।
সোমবার লোকসভায় বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার কিছু ক্ষণ পরেই বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়ে বলেন, “ওরা দেশপ্রমিক হতে পারল না।” তার পর বক্তৃতা করতে উঠে লোকসভার বিরোধী দলনেতা প্রাক্তন সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নরবণের ‘অপ্রকাশিত’ বই ‘ফোর স্টারস অফ ডেস্টিনি’-র একাংশ পড়তে শুরু করেন। ২০২৪ সালে বইটির আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষমেশ তা আর হয়নি। যদিও ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসেই বইটির একাংশ বিভিন্ন সংবাদসংস্থা প্রকাশ করে দেয়।
২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সেনাপ্রধান ছিলেন নরবণে। তাঁর ওই বইয়ের অংশ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে একটি ম্যাগাজ়িনে। ৪৪৮ পাতার ওই বইয়ে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে ডোকলামে ভারত এবং চিনের সেনা যখন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে, তখন বেজিঙের সাঁজোয়া গাড়ি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছিল।
বক্তৃতা করতে উঠে রাহুল নরবণের বই থেকে কেবল ‘ডোকলামে চিনের ট্যাঙ্ক’ অংশটি পড়তে শুরু করেন। তার পরেই নিজের আসন থেকে উঠে দাঁড়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ। তিনি বলেন, “উনি (রাহুল) বলুন, বইটি কি আদৌ প্রকাশিত হয়েছে? এটা প্রকাশিতই হয়নি। উনি এখান থেকে উদ্ধৃত করতে পারেন না।” রাজনাথের পর বিষয়টি নিয়ে সরব হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহও। তিনি বলেন, “যখন বইটা প্রকাশিতই হয়নি, তখন উনি কেন সেটা পড়ছেন?” বিষয়টি নিয়ে শাসক এবং বিরোধী বেঞ্চে শোরগোল শুরু হয়। গোটা ঘটনাপ্রবাহ তাঁর সামনে ঘটলেও নিজে কোনও মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে একমত হয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা রাহুলের উদ্দেশে বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, বই বা এমন কিছু জিনিস যা প্রমাণিত নয়, তা সংসদে পাঠ করা যায় না।” রাহুলকে বইয়ের ওই অংশ বাদ দিয়ে বক্তৃতা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন স্পিকার। রাহুল দাবি করেন, বইয়ের আসল অংশই প্রকাশিত হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপাল, এসপি সাংসদ অখিলেশ সিংহ যাদব রাহুলকে বক্তৃতা করতে দেওয়ার অনুরোধ করেন। সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভার নিয়ম স্মরণ করিয়ে দেন। স্পিকার বলেন, “বইটি প্রকাশিত হলেও সভার আলোচ্যসূচির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।”
রাহুল বইটি উদ্ধৃত না করে সেটি মর্মার্থ পড়ে শোনানোর অনুমতি চান। তাঁর সেই আর্জি খারিজ করে দেন স্পিকার। রাজনাথ অভিযোগ করেন যে, রাহুল সভাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তার পরেও কিছু ক্ষণ স্পিকার এবং রাহুলের মধ্যে কথোপকথন চলে। স্পিকার জানান, রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপক বক্তৃতাই শুধু দিতে পারবেন রাহুল। হইচইয়ের মধ্যেই স্পিকার পরবর্তী বক্তা হিসাবে অখিলেশের নাম ঘোষণা করেন। শোরগোলের কারণে দুপুর ৩টে পর্যন্ত লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়।