দলিত নেতা কাঁসিরাম। ছবি: সংগৃহীত।
বিরোধীদের মধ্যে হাওয়া উঠেছে আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকারকে ফেলে দিতে পারলে দিল্লিতে মোদী সরকারকে কোণঠাসা করে দেওয়া সম্ভব হবে। তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ভাবে এখন থেকেই ঘুটি সাজাতে শুরু করেছে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এবং কংগ্রেস। যাঁকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন দলিত ভোটব্যাঙ্কে তরঙ্গ তুলেছেন মায়াবতী, এ বার সে দিকেই মনোযোগী হতে দেখা গেল লোকসভার বিরোধী দল নেতা রাহুল গান্ধীকে। দলিত নেতা কাঁসিরামকে ‘ভারতরত্ন’ দেওয়ার দাবি তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে লিখিত আর্জি জানালেন তিনি।
কাঁসিরামকে ‘সামাজিক ন্যায়ের মহান যোদ্ধা এবং বহুজন চেতনার পথপ্রদর্শক’ বলে উল্লেখ করে রাহুল বলেছেন, ‘‘ভারতরত্ন শুধু কাঁসিরামের প্রতিই নয়, বরং সেই সমগ্র আন্দোলনের প্রতি এক উপযুক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি হবে, যা কোটি কোটি বহুজনকে তাঁদের অধিকারের পথ দেখিয়েছে।’’ ঘটনাচক্রে, এর আগে লখনউয়ে ‘সংবিধান সম্মেলন’-এ যোগ দিয়ে রাহুল মন্তব্য করেছিলেন জওহরলাল নেহরু বেঁচে থাকলে কাঁসিরাম কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী হতেন। কাঁসিরাম নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে রাহুলের এমন ‘তৎপরতা’ বিধানসভা ভোটের আগে মায়াবতীর দল বিএসপি-র দলিত ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসানোর লক্ষ্যে বলেই মনে করছে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক মহলে। সূত্রের মতে, মায়াবতী দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির বি টিমে রূপান্তরিত হয়ে দলিত ভোটব্যাঙ্কের কাছে আগের মতো আর গ্রহণযোগ্য নেই। তাঁর শক্তি কমতে কমতে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে বিএসপি ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে। বিরোধী পরিসরে গত লোকসভা ভোটে অখিলেশের এসপি-র উত্থান তাৎপর্যপূর্ণ। কংগ্রেস জানে যে আগামী বছর যাদব, মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে তারা বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারবে না। এসপি-র সঙ্গে জোট করেই লড়তে হবে। ফলে দীর্ঘদিন মায়াবতীর মুখাপেক্ষী থাকা দলিত সম্প্রদায়ের কাছে বার্তা দিতে চাইছেন রাহুল।
এই পরিস্থিতিতে মায়াবতীর বক্তব্য, কংগ্রেসের ‘দলিত-বিরোধী মতাদর্শে’র জন্যই বিএসপি তৈরি হয়েছিল। কংগ্রেস কাঁসিরামের নাম ব্যবহার করে বিএসপি-কে দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলে আগেও অভিযোগ তুলেছিলেন মায়াবতী।