K.C Venugopal

কেরলে দৌড়ে এগিয়ে বেণুগোপালই

সূত্রের খবর, সতীশনকে মাত্র ৬ জন ও চেন্নিথালাকে মাত্র ৮ জন বিধায়ক সমর্থন জানিয়েছেন। দুই বিধায়ক কারও পক্ষ নেননি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফও বেণুগোপালকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ০৭:৫৬
কে সি বেণুগোপাল।

কে সি বেণুগোপাল। — ফাইল চিত্র।

কেরলে নতুন কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে রাহুল গান্ধীর আস্থাভাজন কে সি বেণুগোপালই এগিয়ে।

কংগ্রেস সূত্রের খবর, দলের ৬৩ জন বিধায়কের মধ্যে ৪৭ জন কে সি বেণুগোপালকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছেন। বেণুগোপাল সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর সঙ্গে বিধানসভায় এত দিনের বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশন ও প্রবীণ নেতা রমেশ চেন্নিথালাও মুখ্যমন্ত্রীর পদেরদাবিদার ছিলেন।

সূত্রের খবর, সতীশনকে মাত্র ৬ জন ও চেন্নিথালাকে মাত্র ৮ জন বিধায়ক সমর্থন জানিয়েছেন। দুই বিধায়ক কারও পক্ষ নেননি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফও বেণুগোপালকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছেন। কারণ তাঁর সঙ্গে গত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশনের সম্পর্ক একেবারেইমধুর নয়।

বিগত দশ বছরের বাম সরকারের পতনের পরে কেরলে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট ক্ষমতায় এসেছে। ১৪০ আসনের বিধানসভায় ইউডিএফ পেয়েছে ১০২টি আসন। এর মধ্যে কংগ্রেস ৬৩টি আসন পেয়েছে। বিধায়কদের মত জানতে কংগ্রেস হাইকমান্ড মুকুল ওয়াসনিক ও অজয় মাকেনকে তিরুঅনন্তপুরমে পাঠিয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের পরে মুকুল ওয়াসনিক বেরিয়ে আসার সময়ে দেখা যায়, তাঁর হাতের কাগজে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফ-সহ অধিকাংশ বিধায়ক বেণুগোপালের পক্ষে মত দিয়েছেন। ওয়াসনিক ইচ্ছাকৃত ভাবেই তা ফাঁস করেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইইউএমএল, কেরল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠী, আরএসপি-র মতো শরিক দলগুলি আবার সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চাইছে। কংগ্রেস সূত্রের খবর, বিধায়কদের মতামতের সঙ্গে শরিক দলের মতামত ও আমজনতার মধ্যে জনপ্রিয়তা কার বেশি, তা মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মাপকাঠি হবে। শুক্রবার রাতেই জোসেফ, সতীশন, চেন্নিথালা দিল্লিতে পৌঁছেছেন। তাঁদের সঙ্গে বৈঠকের পরে কংগ্রেস হাইকমান্ড রবিবার মুখ্যমন্ত্রী পদে নাম ঘোষণা করতে পারে।

বেণুগোপালকে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী করে পাঠালে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে ও রাহুল গান্ধীদের নতুন সাংগঠনিক সম্পাদকও খুঁজতে হবে। খড়্গে শুক্রবার তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ শশী তারুরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। খড়্গের বাড়ির বাইরে আবার ব্যানার লাগিয়ে দাবি তোলা হয়েছে, বেণুগোপালকে দলের স্বার্থে দিল্লিতেই রাখা হোক। মনে করা হচ্ছে, এ সব বেণুগোপালের বিরোধী শিবিরের কারসাজি।

ছাত্র ও যুব কংগ্রেসের রাজনীতি থেকে উঠে আসা বেণুগোপাল মনমোহন সিংহ সরকারে বিমান মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছিলেন। রাহুল গান্ধী ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে অমেঠীতে হেরে গেলেও কেরলের ওয়েনাড় থেকে তাঁকে জিতিয়ে আনার পিছনে বেণুগোপালের ভূমিকা ছিল। কংগ্রেসের অধিকাংশ নেতার মতে, ‘হাইকমান্ডের লোক’ হিসেবে দলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ধামাচাপা দিয়ে বেণুর পক্ষে সরকার চালানো সুবিধে হবে।

আরও পড়ুন