Rajasthan's honeymoon Case

মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে স্বামীকে খুন, দুর্ঘটনার গল্প ফেঁদেও শেষ রক্ষা হল না বধূ ও প্রেমিকের

মাত্র তিন মাস আগে বিয়ে হলেও খুশি ছিলেন না বধূ। বাড়ি গিয়েছিলেন তিনি। তার পরে নিজের প্রাক্তন প্রেমিক সঞ্জুর সঙ্গে দেখা করে স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২৯

—প্রতীকী চিত্র।

হাঁটতে বেরিয়েছিলেন রাজস্থানের দম্পতি। সেই সময়েই একটি গাড়ি তাঁদের ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই স্বামীর মৃত্যু হয়। স্ত্রীর সোনার গয়না ছিনতাই করা হয় বলে দাবি। আরও দাবি, দুস্কৃতী হানায় অজ্ঞান হয়ে রাস্তাতেই পড়ে থাকেন বধূ। শুনে ‘হিট অ্যান্ড রান’ (কাউকে বা কোথাও ধাক্কা মেরে গাড়ি চালিয়ে চম্পট) মনে হলেও এই ঘটনা ছিল পূর্পপরিকল্পিত খুন! মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় রঘুবংশী দম্পতির যাওয়া ও স্বামীকে পরিকল্পনামাফিক খুন করার ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার মিল রয়েছে। খুনের ঘটনায় গ্রেফতার চার জন।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, ৩০ জানুয়ারি রাতে তারা ওই পথদুর্ঘটনা এবং ছিনতাইয়ের খবর পায়। থানায় এসে পুলিশকে বলা হয়েছিল, দুর্ঘটনায় এক দম্পতি অজ্ঞান হয়ে রাস্তায় পড়ে আছে। এর পরে স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান স্বামী আশিসের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে নমুনা সংগ্রহের জন্য ফরেন্সিক দলকে ডাকেন তদন্তকারীরা। বছর তেইশের স্ত্রী অঞ্জু পুলিশকে জানিয়েছিলেন, একটি গাড়ি তাঁদের ধাক্কা দেয়। আরও অভিযোগ ছিল, সওয়ারিরা তাঁর সোনার গয়না লুট করে চম্পট দিয়েছে। স্ত্রীর বিভিন্ন দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি না মেলায় সন্দেহ হয় তদন্তকারীদের। বারবার নিজের বয়ানও বদল করেছিলেন বধূ।

পুলিশ জানিয়েছে, স্বামীর শরীরে আঘাতের চিহ্ণ ছিল। মেডিক্যাল রিপোর্টে উল্লেখ ছিল শ্বাস রোধ হয়ে মৃত্যু। ভারী বস্তু দিয়ে আঘাতের উল্লেখও ছিল তবে স্ত্রীর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। বধূর কল রেকর্ডে দেখা য়ায় তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তাঁরই প্রতিবেশী এক ব্যক্তি সঞ্জুর।

তদন্তে আরও জানা যায়, মাত্র তিন মাস আগে বিয়ে হলেও খুশি ছিলেন না বধূ। বাড়ি গিয়েছিলেন তিনি। তার পরে নিজের প্রাক্তন প্রেমিক সঞ্জুর সঙ্গে দেখা করে স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করেন। সেই মাফিক মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে স্বামীর সঙ্গে হাঁটতে বেরানোর নাম করে তাঁকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যান বধূ। তার পরে একটি ঝোপ থেকে বেরিয়ে আশিসকে আক্রমণ করে সঞ্জু ও রকি ওরফে রোহিত, বাদল ওরফে সিদ্ধার্থ। পুলিশের দাবি, অঞ্জু নিজেই প্রেমিক ও তাঁর সাগরেদদের হাতে নিজের ফোন ও সোনার গয়না দিয়েছিলেন। পরে সেটাই ছিনতাই হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তদন্তকারীদের আরও দাবি, অজ্ঞান থাকার অভিনয়ও করেছিলেন সঞ্জু।

প্রসঙ্গত, মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিলেন রাজা রঘুবংশী ও তাঁর স্ত্রী সোনম। সেখানেও নিজের প্রেমিকের সঙ্গে মিলে বধূর পরিকল্পনা ছিল দুর্ঘটনার মোড়কে খুনের। রাজা ও সোনম একটি জলপ্রপাতের কাছে গেলে রাজার উপরে চাপাতি নিয়ে তিন জন চড়াও হয়ে তাঁকে খুন করে খাদে ফেলে দেয়। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেও সোনম ও তাঁর প্রেমিক –সহ চার জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Advertisement
আরও পড়ুন