তেলবাহী জাহাজ। —ফাইল চিত্র।
চিনের দিকে যাওয়ার সময় মাঝপথে অভিমুখ বদলানো সেই রুশ তেলবাহী জাহাজ এসে পৌঁছোল ভারতে। নিউ মেঙ্গালুরু বন্দরে নোঙর করেছে রাশিয়ার ‘অ্যাকোয়া টাইটান’। মাঝারি মাপের এই জাহাজটি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে এসেছে ভারতে। দাবি করা হচ্ছে, চিন যাওয়ার পথে অন্তত সাতটি রুশ জাহাজ অভিমুখ বদলে ভারতের দিকে ঘুরেছে। তার মধ্যে ‘অ্যাকোয়া টাইটান’-ই প্রথম ভারতীয় বন্দরে নোঙর করল। তবে বাকি ছ’টি জাহাজের সবগুলিই ভারতে আসছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে ‘অ্যাকোয়া টাইটান’-এ করে কতটা অপরিশোধিত তেল ভারতে আনা হয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে জানা যায়নি। গত জানুয়ারির শেষ দিকে বাল্টিক সাগরের একটি বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল ‘অ্যাকোয়া টাইটান’। প্রাথমিক ভাবে সেটির গন্তব্য ছিল চিনের রিজ়াও বন্দর। সেই পথেই এগোচ্ছিল। তবে মার্চের মাঝামাঝি হঠাৎই অভিমুখ বদলে ভারতের দিকে এগোতে শুরু করে জাহাজটি। গত ১৮ মার্চ মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গ’-এর প্রতিবেদনে এই বিষয়টি প্রকাশিত হয়। ঘটনাচক্রে, এর কিছু দিন আগেই আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছিল, রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের ‘ছাড়’ দেওয়া হয়েছে ভারতকে। যদিও ভারত কখনও রাশিয়ার থেকে তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি।
এরই মধ্যে সম্প্রতি ‘সিএনএন’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমেরিকার শক্তি দফতরের সচিব ক্রিস রাইট দাবি করেন, ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার ‘অনুরোধ’ করেছিল আমেরিকাই। তাঁর দাবি, সমুদ্রে ভাসমান ট্যাঙ্কারে থাকা বিপুল পরিমাণ তেল চিনে যাচ্ছিল। কিন্তু ওই তেল ভারতের শোধনাগারে নিয়ে যাওয়ার জন্য নয়াদিল্লিকে ‘পরামর্শ’ দেন তিনি। পর পর এই ঘটনাপ্রবাহের মাঝেই রুশ তেলবাহী জাহাজ এসে পৌঁছোল ভারতের মেঙ্গালুরুর বন্দরে।
আমেরিকার ওই দাবির প্রসঙ্গে নয়াদিল্লির তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে দিল্লি বার বারই জ্বালানি প্রসঙ্গে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে আসছে। জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা না-থাকলে যে দেশের তেল সস্তায় মিলবে, সেখান থেকেই কিনবে ভারত। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ় প্রণালীর অনিশ্চয়তার মাঝে ভারতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে নয়াদিল্লি। এই পরিস্থিতিতে রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ভারতে আসা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, রুশ তেলবাহী অপর একটি জাহাজ ‘সুয়েজ়ম্যাক্স জউজউ এন’ আগামী ২৫ মার্চ ভারতে পৌঁছোতে পারে। গুজরাতের সিক্কা বন্দরে নোঙর করতে পারে সেটি। ‘ব্লুমবার্গ’ অনুযায়ী, এই জাহাজটিও মার্চের শুরুর দিকেই অভিমুখ বদলেছিল। পণ্যবাহী জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা ভর্টেক্সের পরিসংখ্যান বলছে, অন্তত সাতটি জাহাজ মাঝসমুদ্রে অভিমুখ বদল করেছে। সেগুলি প্রাথমিক ভাবে চিনের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পরে ভারতের অভিমুখে চলছে। সব ক’টি ভারতেই আসছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।