Flight Ticket Fare

আরও বৃদ্ধি পাবে বিমানভাড়া! টিকিটের দামে সর্বোচ্চসীমা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র, পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির জের?

ভারতে বিমানভাড়ার উপরে সরাসরি কোনও সরকারি নিয়ন্ত্রণ নেই। এটি একটি নিয়ন্ত্রণমুক্ত ক্ষেত্র, যা বাজার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে ওঠানামা করে। তবে বড় ধরনের কোনও সমস্যা হলে বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ১১:০২
অন্তর্দেশীয় পরিষেবায় বিমানভাড়ার সর্বোচ্চসীমা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের।

অন্তর্দেশীয় পরিষেবায় বিমানভাড়ার সর্বোচ্চসীমা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। —ফাইল চিত্র।

আগামী সপ্তাহ থেকে বৃদ্ধি পেতে পারে বিমানভাড়া। অন্তর্দেশীয় বিমান পরিষেবায় টিকিটের দামে গত কয়েক মাস যে সর্বোচ্চ সীমা চাপানো ছিল, তা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সোমবার থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগোর মতো উড়ান সংস্থাগুলি আগেই জ্বালানি সারচার্জ বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এ বার টিকিটের দামের সর্বোচ্চসীমা তুলে নেওয়ার ফলে বিমানভাড়া আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

গত বছর দেশের অন্যতম বড় উড়ান সংস্থা ইন্ডিগোর পরিষেবা বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছিল সার্বিক বিমান পরিষেবায়। বিমানভাড়া ক্রমে আকাশছোঁয়া হতে শুরু করেছিল। ওই পরিস্থিতিতে গত ডিসেম্বরের শুরুতে অন্তর্দেশীয় পরিষেবায় বিমানভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা সাময়িক ভাবে বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্র। গন্তব্যের হিসাবে প্রতি টিকিটের ভাড়া (বিজ়নেস ক্লাস বাদে) ৭,৫০০-১৮,০০০ টাকার মধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এই বিধি অনুযায়ী, ৫০০ কিলোমিটারের যাত্রাপথে টিকিটের সর্বোচ্চ ভাড়া ৭,৫০০ টাকা। ৫০০-১০০০ কিলোমিটারের দূরত্বের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বিমানভাড়া ছিল ১২,০০০ টাকা। একই রকম ভাবে ১০০০-১৫০০ কিলোমিটারের গন্তব্যে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা এবং তার বেশি দূরত্বের গন্তব্যে সর্বোচ্চ ১৮,০০০ টাকা বিমানভাড়া নেওয়া যেত।

গত ডিসেম্বর মাসে জারি করা এই সর্বোচ্চসীমা এ বার প্রত্যাহার করে নিচ্ছে কেন্দ্র। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির ধাক্কা লেগেছে এ দেশের বিমান পরিষেবাতেও। বৃদ্ধি পেয়েছে বিমানের জ্বালানি (জেট ফুয়েল)-র দাম। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে উড়ান পরিষেবা চালু হলেও তাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঠিক এমন এক পরিস্থিতিতে এই সর্বোচ্চসীমা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানাচ্ছে, উড়ান সংস্থাগুলির সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স’ পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার দাম কমে যাওয়া-সহ বিভিন্ন কারণে উড়ান সংস্থাগুলি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি ওই সংগঠনের। এ অবস্থায় বিমানভাড়ার সর্বোচ্চসীমা তুলে নেওয়ার জন্য তারাই দরবার করেছিল কেন্দ্রের কাছে।

ভারতে বিমানভাড়ার উপরে সরাসরি কোনও সরকারি নিয়ন্ত্রণ নেই। এটি একটি নিয়ন্ত্রণমুক্ত ক্ষেত্র, যা বাজার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে ওঠানামা করে। তবে বড় ধরনের কোনও সমস্যা তৈরি হলে বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে। যেমন অতীতে কোভিডকালে বিমানভাড়া নিয়ন্ত্রণ করেছিল কেন্দ্র। গত ডিসেম্বরেও অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছিল, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না-হওয়া পর্যন্ত বা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না-নেওয়া পর্যন্ত এই সর্বোচ্চসীমা বহাল থাকবে।

তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার থেকেই অন্তর্দেশীয় বিমানভাড়ার উপর ওই সর্বোচ্চসীমা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে কেন্দ্র। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে উড়ান সংস্থাগুলিকে। যাত্রীস্বার্থ যাতে বিঘ্নিত না-হয় সে দিকে নজর দিতে বলা হয়েছে। বিমানভাড়া যাতে স্বচ্ছ, বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যুক্তিসঙ্গত হয়, তা-ও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে সব উড়ান সংস্থাকে। অযৌক্তিক ভাবে বিমানভাড়া বৃদ্ধি করলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।

Advertisement
আরও পড়ুন