Crime in Bihar

বিহারে কমেছে খুন, ডাকাতি, তবে বৃদ্ধি পেয়েছে সাইবার অপরাধ, ধর্ষণ! ‘জঙ্গলরাজ’ অতীত হলেও বদলেছে রূপ

পুলিশ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে দাবি করেছে, ২০০০ সাল নাগাদ বিহারে প্রতি বছর প্রায় ১,২০০ ডাকাতির মামলা রুজু হত। ২০০৪ সালে হয়েছে ১,২৯৭। ২০১৫ সালে তা কমে হয় ৪২৬। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা আরও কমে হয়েছে ১৭৪।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৬
বিহারে কি কমেছে অপরাধ!

বিহারে কি কমেছে অপরাধ! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিহারে গুরুতর অপরাধের সংখ্যা কমেছে! রিপোর্ট বলছে, গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম অপরাধ হয়েছে ২০২৫ সালে। খুন, ডাকাতির মতো অপরাধের সংখ্যা কমে গিয়েছে। এমনকি, চুরি ছিনতাইও। ২০০১ থেকে ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে এমনই দাবি করেছে বিহার পুলিশ। এতে দেখা যাচ্ছে, শতাব্দীর শুরু ১০ বছরের সময়ে যে হিংসাত্মক অপরাধগুলি বিহারের ‘জঙ্গলরাজ’ তকমাকে উসকে দিয়েছিল, সেগুলি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। তবে সেই পরিসংখ্যানে একটি বিষয় স্পষ্ট, রাজ্যে সাইবার অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে ধর্ষণ। তাই কেউ কেউ মনে করছেন, বিহারে অপরাধ কমে গিয়েছে বললে ভুল হবে, অপরাধের ধরন বদলেছে।

Advertisement

সম্প্রতি বিহার পুলিশের ডিজি বিনয় কুমার সে রাজ্যে ২০০১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত হওয়া অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেন। তাতে দেখা গিয়েছে ২০০১ সালে বিহারে ৩,৬১৯টি খুনের মামলা রুজু হয়েছিল। ২০০৫ থেকে ২০১৫ সালে সেই সংখ্যা ছিল ৩০০০-এর উপরে। ২০১৬ সালে সেই সংখ্যা নেমে হয় ২,৫৮১। ২০১৯-২০ সালে সেই সংখ্যা সামান্য বাড়লেও ২০২৫ সালে খুনের মামলা রুজু হয়েছে ২,৫৫৬। গত ২৫ বছরে সর্বনিম্ন।

পুলিশ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে দাবি করেছে, ২০০০ সাল নাগাদ বিহারে প্রতি বছর প্রায় ১,২০০ ডাকাতির মামলা রুজু হত। ২০০৪ সালে হয়েছে ১,২৯৭। ২০১৫ সালে তা কমে হয় ৪২৬। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা আরও কমে হয়েছে ১৭৪। ২০০১ সালের তুলনায় ৮০ শতাংশ কমেছে।

২০০৪ সালে আরও বড়সড় দল নিয়ে ডাকাতির মামলা রুজু হয়েছিল ২,৯০৯টি। ২০১২ সালে তা কমে হয় ১,২৬৬টি। তার পরে অতিমারির বছরগুলিতে সেই ডাকাতির মামলা বেড়েছিল বিহারে। পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে সেই ভয়ঙ্কর ডাকাতির মামলা রুজু হয়েছে ১,৫৫৮টি। ২০০১ সালের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।

বিহার পুলিশ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে দাবি করেছে, সে রাজ্যে হিংসার মামলা রুজু হওয়ার সংখ্যাও কমেছে। ২০০১ সালে এই ধরনের মামলা রুজু হয়েছিল ৮,৫২০টি। ২০১৪ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছিল ১৩,৫৬৬। তার পরেই ক্রমে কমতে থাকে হিংসার ঘটনা। ২০১৯ সালে বিহারে ৭,২৬২টি হিংসার মামলা রুজু হয়। ২০২৫ সালে তা কমে হয় ২,৫০২।

তবে পুলিশের পরিসংখ্যানই বলছে, বিহারে ধর্ষণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০০ সালে যেখানে ৭৪৬টি ধর্ষণের মামলা রুজু হয়েছিল, সেখানে ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ২,৫০২। ২০২৫ সালে তা সামান্য কমে হয়েছে ২,০২৫।

পাশাপাশি, বিহারে অপহরণের মামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, অনেক ক্ষেত্রেই প্রেমিকের সঙ্গে কোনও তরুণী পালিয়ে গেলে তাঁর পরিবার অপহরণের মামলা করছে। বিচ্ছেদের পরে সন্তানকে কে হেফাজতে পাবে, সেই নিয়ে বাবা-মায়ের মধ্যে ঝামেলায় অনেক সময় এক পক্ষ শিশুকে অপহরণ করছে। পুলিশের ওই সূত্রের মতে, এগুলিকে অপহরণ হিসাবে ধরা ঠিক নয়। মুক্তিপণ চেয়ে অপহরণের মামলা বিহারে ২০০১ সালে রুজু হয়েছিল ৩৮৫টি। ২০২৫ সালে তা কমে হয়েছে ৫২।

রাজ্য পুলিশ এই বিষয়টিকেই তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, অস্ত্র, মদ বাজেয়াপ্ত, গ্রেফতারিতেও অনেক সক্রিয় হয়েছে বিহার পুলিশ, যা আগে ছিল না। বিহারে এনকাউন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, বলছে পুলিশের পরিসংখ্যান। ২০২৪ সালে এসটিএফ, নকশাল দমন শাখার হাতে আটটি এনকাউন্টার হয়। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ২৯। বেড়েছে সাইবার অপরাধের সংখ্যা। তবে সেই সংখ্যা প্রকাশ করেনি পুলিশ। এ সব দেখে পুলিশেরই একাংশ বলছে, বিহারে অপরাধ কমেছে বলা ঠিক নয়, বরং অপরাধের ধরন বদলেছে। ডাকাতি, খুনের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধ কমলেও সাইবার অপরাধ, ধর্ষণ বেড়েছে। বেড়েছে মুক্তিপণের দাবিহীন অপহরণ।

Advertisement
আরও পড়ুন