লোকসভা। — ফাইল চিত্র।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী? না কি তৃণমূলের সাংসদ? কার বিরুদ্ধে অভিযোগ লোকসভার প্রিভিলেজ কমিটির কাছে যেতে চলেছে? বুধবার লোকসভার নতুন স্বাধিকার কমিটি (প্রিভিলেজ কমিটি) গঠনের পরে বিরোধী শিবিরের মধ্যে এই প্রশ্ন উঠেছে।
সাধারণত নতুন লোকসভা গঠনের কিছু দিনের মধ্যেই লোকসভার স্বাধিকার কমিটি গঠন হয়ে যায়। কিন্তু ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পরে গত দু’বছরে লোকসভার কোনও স্বাধিকার কমিটি ছিল না। মঙ্গলবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ওই কমিটি গঠন করেছেন। মোট ১৫ জনের কমিটিতে চেয়ারম্যান রবিশঙ্কর প্রসাদ-সহ আটজন বিজেপি তথা এনডিএ-র সাংসদ। বিরোধী শিবিরের কংগ্রেসের মণীশ তিওয়ারি, মাণিকম টেগোর, তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিটিতে রয়েছেন। সাংসদদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, এ বার কি রাহুল গান্ধী ও কীর্তি আজাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রিভিলেজ কমিটির কাছে পাঠানো হবে?
গত মাসেই বাজেট অধিবেশনের সময়ে রাহুল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে আমেরিকার চাপের মুখে বাণিজ্য চুক্তি করার অভিযোগ তুলেছিলেন। তারপরে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে রাহুলের সাংসদ পদ খারিজের দাবি তুলে মৌলিক প্রস্তাব বা ‘সাবস্ট্যানটিভ মোশন’-এর নোটিস জমা দিয়েছিলেন। তার আগে ডিসেম্বরে শীতকালীন অধিবেশনের সময় বিজেপি তৃণমূলের জনৈক সাংসদের বিরুদ্ধে লোকসভায় বসে ই-সিগারেটে ধূমপান করার অভিযোগ তুলেছিল। বিজেপি সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো পোস্ট করে দাবি করে, বর্ধমানের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ ধূমপান করছিলেন। ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করার জন্য কেন্দ্রীয় ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছিল। স্পিকার জানিয়েছিলেন, রিপোর্ট আসার পরেই নির্দিষ্ট কমিটির কাছে তা পাঠানো হবে।
রাজনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্বাধিকার কমিটিতে যাওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট। সবটাই নির্ভর করছে ভিডিয়ো নিয়ে রিপোর্ট কী বলছে এবং সেখানে ধূমপানের দৃশ্য ধরা পড়ছে কি না? কোন কোন বিষয় কমিটির কাছে পাঠানো হবে, তা লোকসভার স্পিকার ঠিক করবেন। বিজেপি রাহুলের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা মাফিক স্বাধিকার লঙ্ঘনের প্রস্তাব না এনে মৌলিক প্রস্তাব এনেছিল। যাতে তা নিয়ে গোপনে কমিটির বৈঠকের বদলে প্রকাশ্যে লোকসভায় আলোচনা হয়।
উল্টো দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ২০২৪-এর জুলাইয়ে কংগ্রেসের চরণজিৎ সিংহ চন্নী স্বাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগ ছিল, লোকসভায় বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরের জাতিবিদ্বেষী কথাবার্তা সংসদের রেকর্ড থেকে মুছে দেওয়ার পরেও প্রধানমন্ত্রী সেই ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে দিয়ে সবাইকে শুনতে বলেছিলেন। এখন প্রধানমন্ত্রী, রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে নোটিসের ভাগ্য নির্ভর করছে স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপরে।