Iran-Israel Conflict

‘ক্লাস্টার বোমা’ দিয়ে হামলা চালানো হচ্ছে! ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলল ইজ়রায়েল, দাবি, মদত দিচ্ছে চিন-রাশিয়া

ইজ়রায়েল বাহিনীর মুখপাত্র নাদাভ শোসানির দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে ক্লাস্টার বোমা জুড়ে দিয়ে ইজ়রায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। ইচ্ছাকৃত ভাবেই এই বোমার ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ১১:৩৬
কী ভাবে কাজ করে ক্লাস্টার বোমা? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কী ভাবে কাজ করে ক্লাস্টার বোমা? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে হামলায় ‘ক্লাস্টার বোমা’-র ব্যবহার করা হচ্ছে— ইরানের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুলল ইজ়রায়েল বাহিনী আইডিএফ। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার এই সামরিক সংঘাতে এই প্রথম ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করা হল। যদিও ইরান সেই দাবিকে খারিজ করেছে। ক্লাস্টার বোমা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। এই বোমা যাতে ব্যবহার না হয়, তা নিয়ে সরবও হয়েছিল আন্তর্জাতিক মহল। কিন্তু এ বার ইরানের বিরুদ্ধে সেই বোমা ব্যবহারের অভিযোগ তুলল ইজ়রায়েল।

Advertisement

পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতে এই ধরনের বোমা ব্যবহারে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইজ়রায়েলের দাবি, ইরানকে এই অস্ত্র দিয়ে মদত জোগাচ্ছে চিন এবং রাশিয়া। যদিও চিন বা রাশিয়ার তরফে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। আইডিএফ-এর আন্তর্জাতিক মুখপাত্র তথা লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোসানি অভিযোগ তুলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে ক্লাস্টার বোমা জুড়ে দিয়ে ইজ়রায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। এবং ইচ্ছাকৃত ভাবেই এই বোমার ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি শোসানির। তাঁর আরও অভিযোগ, ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করে মূলত জনবসতি এলাকাগুলিকে নিশানা করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ নাগরিকদের মৃত্যু হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘সরাসরি নাগরিকদের উপর হামলা চালানো মানে যুদ্ধাপরাধ। আর সেটাই করছে ইরান। তবে আমরা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই হামলার জবাব দেব।’’

এই প্রথম নয়, ক্লাস্টার বোমার ব্যবহার আগেও বিভিন্ন যুদ্ধে দেখা গিয়েছে। তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিতর্ক হয়। অনেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও এই অস্ত্রকে ভয়ানক বলে মনে করেন। কারণ, এর মাধ্যমে কোনও একটি জায়গায় নয়, একসঙ্গে একাধিক জায়গায় একাধিক হামলা চালানো যায়। ক্ষতির পরিমাণও হয় তুলনামূলক বেশি। রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই বোমা ব্যবহার করছিল ইউক্রেন। তাদের ক্লাস্টার বোমা সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছিল আমেরিকার বিরুদ্ধে। রুশ বাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করতে এই বোমা ব্যবহার করেছিল ইউক্রেন। অন্য দিকে, ইউক্রেনও অভিযোগ করেছিল রাশিয়া তাদের বিরুদ্ধে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করছে।

কী এই ক্লাস্টার বোমা?

ইংরেজিতে ‘ক্লাস্টার’ শব্দের অর্থ ‘একগুচ্ছ’। ক্লাস্টার বোমার মধ্যে আসলে থাকে একগুচ্ছ ছোট ছোট বোমা। ছোট, কিন্তু শক্তিশালী। একটি বড় ক্ষেপণাস্ত্রের মোড়কে ওই ছোট বোমাগুলি ভরা থাকে। উৎক্ষেপণের পর শূন্যেই খুলে যায় ক্লাস্টার বোমার অস্ত্র-মুখ। ভিতর থেকে ছোট ছোট বোমা বেরিয়ে আসে এবং বিস্তীর্ণ অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে প্রাণহানির সংখ্যাও অনেক বেশি হয়।

ক্লাস্টার বোমার আরও একটি বিশেষত্ব হল, এর মধ্যে থাকা ছোট বোমাগুলির কোনও কোনওটি মাটিতে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ফাটে না। কোনও কিছুর সংস্পর্শে এলে তবেই ঘটে বিস্ফোরণ। অর্থাৎ, জনবহুল এলাকা না হলে এবং কিছুর সংস্পর্শে না এলে দীর্ঘ দিন পর্যন্ত এই বোমা সক্রিয় থেকে যেতে পারে।

ক্লাস্টার বোমা নিয়ে বিতর্ক কেন?

নির্বিচারে ধ্বংস করতে সক্ষম ক্লাস্টার বোমা। এক বার ছোড়া হলে কোথায় পড়ছে, তাতে কার ক্ষতি হচ্ছে, তা আর নিয়ন্ত্রণ করার কোনও উপায় নেই। মাটিতে দীর্ঘ ক্ষণ অবিকৃত এবং অবিস্ফারিত অবস্থায় তা পড়ে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশেষত্বই ক্লাস্টার বোমাকে কখনও কখনও ব্যালিস্টিক মিসাইলের চেয়েও ভয়ানক করে তোলে।

Advertisement
আরও পড়ুন