(বাঁ দিকে) এডিএমকে-র সাধারণ সম্পাদক ইকে পলানিস্বামী এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
বিধানসভায় আস্থা ভোটের আগে স্বস্তিতে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তলপতি এবং তাঁর দল টিভিকে। কারণ সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আরও ৩০ বিধায়কের সমর্থন পেতে চলেছেন তাঁরা। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী, অধুনা প্রয়াত জয়ললিতার দল এডিএমকে-র ৩০ জন বিধায়ক বিজয়কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তামিলনাড়ু বিধানসভার ২৩৪টি আসনের মধ্যে মাত্র ৪৭টিতে জয়ী হয়েছে এডিএমকে। জয়ী বিধায়কদের মধ্যে ৩০ জনকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের বিধায়ক তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ সিভি সন্মুগম। মঙ্গলবার চেন্নাইতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, “ভোটের ফল থেকে স্পষ্ট যে, মানুষ বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চেয়েছিল। মানুষের এই রায়কে সমর্থন করছি।” একই সঙ্গে সন্মুগম জানান এডিএমকে-র পরিষদীয় দলের তরফ থেকে তাঁরা বিজয়ের সরকারকে সমর্থন করছেন।
নিজের বক্তব্যে এডিএমকে প্রধান তথা তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ইকে পলানিস্বামীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন সন্মুগম। তাঁর দাবি, পলানিস্বামী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দল ডিএমকে-র সঙ্গে জোট করতে চেয়েছিলেন। সম্ভাব্য এই জোটের বিষয়টি দলের নেতা-কর্মীরা ইতিবাচক ভাবে নেননি। তবে পলানীস্বামীকে নিজেদের নেতা হিসাবেই উল্লেখ করেছেন সন্মুগম। তিনি বলেন, “এডিএমকে কোনও দলের সঙ্গে জোটে নেই। আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। পলানিস্বামীই আমাদের নেতা। পলানিস্বামীই আমাদের সাধারণ সম্পাদক।”
সন্মুগমের বক্তব্য থেকে দু’টি বিষয় স্পষ্ট হয়নি। এক, দলের বাকি ১৭ জন বিধায়কের অবস্থান কী। মনে করা হচ্ছে, ওই বিধায়কেরা পলানীস্বামীর সঙ্গে রয়েছেন এবং তাঁরা টিভিকে সরকারকে সমর্থন করবেন না। দুই, এত দিন এডিএমকে বিজেপির সঙ্গে জোটে ছিল। সন্মুগম কোনও দলের সঙ্গে এডিএমকে জোটে নেই— এই দাবি করার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে (বিজয়ের জেতা দু’টি আসন-সহ) জয়ী হয়। কংগ্রেস, ভিসিকে, দুই বাম দল সিপিএম এবং সিপিআই-এর সমর্থনে সরকার গড়েছে বিজয়ের দল। অন্য দিকে, এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে জিতেছে ৫৯টি আসনে। আর এডিএমকে জিতেছে ৪৭টি আসনে।