Supreme Court of India

‘নির্বাচিতদের স্বেচ্ছাচার’ নিয়ে কড়া সুপ্রিম কোর্ট

২০২৩ সালের আগে পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারই নিজের ইচ্ছেমতো মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করত। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ রায় দেয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ০৯:৩২

—প্রতীকী চিত্র।

সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেওয়ার আগে অবধি সংসদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন তৈরি হয়নি। একে আজ ‘নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের স্বেচ্ছাচার’ বলে তকমা দিল সুপ্রিম কোর্ট। বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ২০২৩ সালের যে আইনে নিয়োগ করা হয়েছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতেই বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি সতীশ কুমার শর্মার বেঞ্চ এইমন্তব্য করেছে।

২০২৩ সালের আগে পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারই নিজের ইচ্ছেমতো মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করত। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ রায় দেয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। এ বিষয়ে সংসদে আইন তৈরি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি ও লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে নিয়ে কমিটি নির্বাচন কমিশনারদের বাছাই করবে। মোদী সরকার এর পরে আইন তৈরি করে। কিন্তু তাতে বাছাই কমিটি থেকে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী, এক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে নিয়ে কমিটি তৈরি হয়। তিন জনের কমিটিতে দু’জনই কেন্দ্রীয় সরকারের লোক হয়ে যাওয়ায় অভিযোগ ওঠে, এর ফলে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষমতা সেই আগের মতো সরকারের হাতেই চলে গেল। এর বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল।

আজ মামলাকারী কংগ্রেস নেত্রী জয়া ঠাকুরের হয়ে আইনজীবী বিজয় হনসারিয়া নির্বাচন কমিশনার পদে জ্ঞানেশ কুমার ও সুখবীর সিংহ সান্ধুর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, ২০২৪ সালে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনার পদে সান্ধুর নিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যত কোনও আলোচনাই হয়নি। সুপ্রিম কোর্টে এর বিরুদ্ধে মামলার শুনানি ওই বছর ১৫ মার্চ হওয়ার কথা ছিল। তাই কমিটির বৈঠক এগিয়ে এনে ১৪ মার্চই বাছাই সেরে ফেলা হয়। বৈঠকের আগের দিন লোকসভার তৎকালীন বৃহত্তম বিরোধী দলের নেতা অধীর চৌধুরীর কাছে ২০০ নাম পাঠানো হয়েছিল। ফলে কোনও অর্থপূর্ণ আলোচনাই সম্ভব হয়নি।

বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত মন্তব্য করেন, ‘‘আমরা শুধু এটুকুই বলতে পারি যে, যদি বিচারপতিদের নিয়োগও এত দ্রুততার সঙ্গে হত!’’ বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগে কেন সংসদে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ নিয়ে আইন তৈরি হয়নি? মামলাকারী সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রাইটস (এডিআর)-এর আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, যখনই যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারা নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারে বলে মনে করেছে। বিরোধী আসনে থাকার সময় লোকে বলেছে, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন সংস্থা হওয়া উচিত। কিন্তু ক্ষমতায় এসে তা ভুলে গিয়েছে। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেন, ‘‘এক সাংসদ অ-নির্বাচিতদের স্বেচ্ছাচারিতার কথা বলেছিলেন। একে নির্বাচিতদের স্বেচ্ছাচারের সঙ্গে তুলনা করা উচিত।’’ প্রশান্ত বলেন, ‘‘এটি আসলে সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বেচ্ছাচার। সেই কারণেই সংবিধান, মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রয়োজন।’’ বিচারপতি দত্ত বলেন, ‘‘এটা দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।’’ আগামী সপ্তাহেও এই মামলার শুনানি চলবে।

আরও পড়ুন